প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকনো টাইম টু ডাই একটি স্পাই-থ্রিলার চলচ্চিত্র

সিনেম্যাটিক

নো টাইম টু ডাই একটি স্পাই-থ্রিলার চলচ্চিত্র

নো টাইম টু ডাই একটি স্পাই-থ্রিলার চলচ্চিত্র

নো টাইম টু ডাই (No Time To Die) হলো ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি স্পাই-থ্রিলার চলচ্চিত্র। এটি জেমস বন্ড সিরিজের ২৫তম সিনেমা এবং অভিনেতা ড্যানিয়েল ক্রেইগের অভিনীত জেমস বন্ড চরিত্রের শেষ চলচ্চিত্র। নিচে এই সিনেমার পুরো কাহিনীটি সহজ ভাষায় সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো


বিজ্ঞাপন

কাহিনীর শুরু ও অতীত অধ্যায়

সিনেমার শুরুতে একটি ফ্ল্যাশব্যাকে দেখা যায়,ম্যাডেলিন সোয়া নামের এক ছোট মেয়ের মাকেলুসিফার সাফিন (Rami Malek) নামের এক মুখোশধারী সন্ত্রাসী হত্যা করে। সাফিনের পরিবারকে ম্যাডেলিনের বাবা (যিনি একসময় ক্রাইম সিন্ডিকেট 'স্পেকটার'-এর সদস্য ছিলেন) বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছিল, সাফিন তারই প্রতিশোধ নিতে এসেছিল। সাফিন ম্যাডেলিনকেও মারতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার মায়া হওয়ায় সে ম্যাডেলিনকে বাঁচিয়ে দেয়।

বর্তমানে, জেমস বন্ড (Daniel Craig) এবং ম্যাডেলিন সোয়ান (Léa Seydoux) ইতালিতে একসাথে শান্তিতে বসবাস করছেন। বন্ড যখন তার পুরনো প্রেমিকা ভেসপার লিন্ডের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান, তখন সেখানে 'স্পেকটার' গোষ্ঠীর তরফ থেকে একটি বোমা হামলা হয়। বন্ডের মনে গভীর সন্দেহ দানা বাঁধে যে ম্যাডেলিন হয়তো তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে স্পেকটারকে এই খবর দিয়েছে। কোনো কথা না শুনে বন্ড ম্যাডেলিনকে একটি ট্রেনে তুলে দিয়ে তার সাথে চিরতরে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।


৫ বছর পর এবং নতুন সংকট

এই ঘটনার ৫ বছর পর, জেমস বন্ড সিক্রেট সার্ভিস (MI6) থেকে পুরোপুরি অবসর নিয়ে জ্যামাইকাতে একাকী ও শান্ত জীবন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, লন্ডনে MI6-এর একটি গোপন ল্যাবরেটরি থেকে'প্রজেক্ট হেরাক্লিস' নামের একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক জৈব-অস্ত্র (Bioweapon) চুরি হয়ে যায় এবং প্রধান বিজ্ঞানী ভাল্দো ওব্রুচেভ অপহৃত হন। এই অস্ত্রটি মূলত ন্যানোটকনোলজি (Nanobot দিয়ে তৈরি, যা নির্দিষ্ট কোনো মানুষের ডিএনএ (DNA) টার্গেট করে তাকে সাথে সাথে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আশেপাশের অন্যদের কোনো ক্ষতি করে না

এই সংকটময় মুহূর্তে বন্ডের পুরনো বন্ধু এবং সিআইএ (CIA) এজেন্টফেলিক্স লাইটার জ্যামাইকায় বন্ডের সাথে দেখা করেন এবং বিজ্ঞানী ওব্রুচেভকে খুঁজে বের করার জন্য সাহায্য চান। বন্ড প্রথমে রাজি না হলেও, যখন জানতে পারেন যে MI6 এই ন্যানোবট প্রজেক্টের পেছনে ছিল, তখন তিনি তদন্তে নামেন। ইতিমধ্যে বন্ডের অনুপস্থিতিতে MI6-এ নতুন একজন নারী এজেন্ট নম-কে (Lashana Lynch) '০০৭' (007) কোডনেম দেওয়া হয়েছে।


কিউবা মিশন ও বন্ধুদের হারানো

বন্ড কিউবায় গিয়ে সিআইএ-র নতুন চটপটে এজেন্টপালোমা-র (Ana de Armas) সহায়তায় একটি গোপন স্পেকটার পার্টিতে অনুপ্রবেশ করেন। সেখানে স্পেকটারের বন্দী প্রধান ব্লফেল্ড ডিজিটাল মাধ্যমে ন্যানোবট সক্রিয় করে বন্ডকে মারার নির্দেশ দেন。 কিন্তু ঘটে উল্টো ঘটনা। ল্যাবের বিজ্ঞানী ওব্রুচেভ গোপনে কোড বদলে দেওয়ায় বন্ডের কিছুই হয় না, উল্টো পার্টির ঘরে থাকা স্পেকটার ব্যুরোর সমস্ত সদস্য ন্যানোবটের বিষক্রিয়ায় মারা যায়। অর্থাৎ, পর্দার আড়ালে থাকা নতুন ভিলেন সাফিন এই ন্যানোবটের মাধ্যমে পুরো স্পেকটার গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

বন্ড বিজ্ঞানী ওব্রুচেভকে ধরে ফেলিক্স লাইটারের জাহাজে নিয়ে আসেন। কিন্তু জাহাজে থাকা অন্য সিআইএ এজেন্ট লোগান অ্যাশ আসলে সাফিনের চর ছিল। সে ফেলিক্সকে গুলি করে বিজ্ঞানীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। জাহাজটি ডুবতে শুরু করলে বন্ড তার পরম বন্ধু ফেলিক্সকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু ফেলিক্স বন্ডের বুকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


সত্যের মুখোমুখি বন্ড

বন্ধুর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে বন্ড আবার লন্ডনে MI6-এ ফিরে আসেন। তিনি কারাগারে বন্দী স্পেকটার প্রধান ব্লফেল্ডের সাথে দেখা করতে যান। যেহেতু ব্লফেল্ড কেবল তার সাইক্রিয়াট্রিস্ট ম্যাডেলিনের সাথেই কথা বলেন, তাই ৫ বছর পর ম্যাডেলিনের সাথে বন্ডের আবার দেখা হয়। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগে ভিলেন সাফিন গোপনে ম্যাডেলিনের শরীরে বন্ডের ডিএনএ-টার্গেটেড ন্যানোবট স্প্রে করে দিয়েছিল। যখন বন্ড রেগে গিয়ে ব্লফেল্ডের মুখোমুখি হন এবং ম্যাডেলিনের হাত স্পর্শ করেন, তখন ম্যাডেলিনের শরীর থেকে ন্যানোবট বন্ডের মাধ্যমে ব্লফেল্ডের শরীরে ছড়ায় এবং ব্লফেল্ড মারা যায়।

এরপর বন্ড ম্যাডেলিনকে খুঁজতে নরওয়েতে তার গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে বন্ড এক আবেগঘন সত্যের মুখোমুখি হন—ম্যাডেলিনমাথিল্ডে নামের ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে, যার চোখ হুবহু বন্ডের মতো। ম্যাডেলিন প্রথমে অস্বীকার করলেও বন্ড বুঝতে পারেন যে মাথিল্ডে তারই সন্তান। কিন্তু সুখের মুহূর্ত বেশিদিন স্থায়ী হয় না। লোগান অ্যাশ ও সাফিনের দলবল সেখানে হামলা চালায়। বন্ড সাহসিকতার সাথে লড়াই করে লোগান অ্যাশকে মেরে ফেলেন, কিন্তু সাফিন ম্যাডেলিন ও ছোট মাথিল্ডেকে অপহরণ করে সাগরের মাঝে তার গোপন দ্বীপে নিয়ে যায়।


চূড়ান্ত লড়াই ও মহাজাগতিক ত্যাগ

সাফিন সেই দ্বীপে ন্যানোবটের বিশাল কারখানা তৈরি করেছে এবং তা দিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে মারার পরিকল্পনা করছে। বন্ড এবং নতুন ০০৭ নমি সেই দ্বীপে অনুপ্রবেশ করেন। নমি ম্যাডেলিন ও মাথিল্ডেকে উদ্ধার করে একটি নৌকায় নিরাপদে পাঠিয়ে দেয়, আর বন্ড সাফিনের সৈন্যদের সাথে একা লড়াই করতে থাকেন যাতে দ্বীপের ওপর MI6-এর মিসাইল হামলার আগে ন্যানোবট ল্যাবের ভারী দরজাগুলো খুলে দেওয়া যায়।


লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তে সাফিন বন্ডকে অ্যামবুশ করে এবং বন্ডের শরীরে এমন এক ন্যানোবট ইনজেক্ট করে দেয় যা বিশেষভাম্যাডেলিন এবং মাথিল্ডের ডিএনএ টার্গেট করে তৈরি। সাফিন হাসতে হাসতে বন্ডকে বলে, "তুমি যদি এখন ওদের ছুঁয়ে দাও বা ওদের কাছে যাও, তবে ওরা সাথে সাথে মারা যাবে। বন্ড রাগে সাফিনকে গুলি করে হত্যা করেন।


ল্যাবের দরজা খুলে দেওয়ার পর বন্ড বুঝতে পারেন তার ফেরার আর কোনো পথ নেই। তিনি যদি বেঁচেও ফিরে যান, কোনোদিন তার জীবনের দুই প্রিয় মানুষ—ম্যাডেলিন ও তার সন্তানকে স্পর্শ করতে পারবেন না। বন্ড দ্বীপের ছাদে গিয়ে দাঁড়ান এবং মিসাইল ধেয়ে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে রেডিওর মাধ্যমে ম্যাডেলিনের সাথে শেষ কথা বলেন। ম্যাডেলিন কাঁদতে কাঁদতে স্বীকার করে যে মাথিল্ডে বন্ডেরই মেয়ে। বন্ড পরম শান্তিতে বলেন, "তুমি আমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর উপহার দিয়েছ "


ম্যাডেলিন ও সন্তানের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে বন্ড দাঁড়িয়ে থাকেন, এবং MI6-এর ছোঁড়া মিসাইলের আঘাতে পুরো দ্বীপসহ জেমস বন্ডের চিরতরে সলিলসমাধি ঘটে।

সিনেমার একদম শেষে দেখা যায়, ম্যাডেলিন তার মেয়ে মাথিল্ডেকে গাড়ি নিয়ে ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছেন এবং বল"আমি তোমাকে তোমার বাবার গল্প শোনাব। তাঁর নাম ছিল বন্ড... জেমস বন্ড।"











০ মন্তব্য · ৫৩ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!