ভাবিনি এতটা উপভোগ করবো তাও আবার তিন ঘণ্টার একটা মুভি! শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্ক্রিনে ধরে রাখতে সক্ষম মির্জাপুরের এই ভওকাল। আমি এখনো মির্জাপুরের সিরিজ দেখিনি, কিন্তু মুভির ট্রেলার এতটা দুর্দান্ত কাট করেছিল নির্মাতারা যা মুভির জন্য আগ্রহ তো বাড়িয়েছিলই, সাথে সিরিজ দেখার এক্সাইটমেন্টও বাড়িয়ে দিয়েছে এবার।
কোথাও একটা দেখেছিলাম মির্জাপুরের প্রথম সিজনের ৬ এবং ৭ পর্বের মাঝামাঝি কোনো একটা গল্পকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মুভি। আসলেই তাই, কারণ আমি সিরিজের ৭ পর্ব দেখেই মুভিটা দেখা শুরু করেছি। তাই গল্পের দিক থেকেও বেশ মিল পেয়েছি। যারা সিরিজ দেখেননি, তারা ৭টি পর্ব দেখে মুভিটা দেখলে অন্তত ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যকার সম্পর্কগুলো বুঝতে সমস্যা হবে না।
মির্জাপুর—নামের ভেতরেই আলাদা একটা ওজন রয়েছে! সিরিজে কিংবা মুভিতে যাকেই নিয়ে আসা হয় সে-ই চায় মির্জাপুরে রাজত্ব করতে। কিন্তু অখণ্ড ত্রিপাঠি ওরফে কালীন ভাইয়া থাকাকালীন আদৌও কি কেউ মির্জাপুরে রাজত্ব করতে পারবে? জানতে হলে দেখে ফেলুন মুভিটা।
মুভিতে আকর্ষণের অভাব নেই, যাকে দেখাবে তাকেই ভালো লাগবে। কালীন ভাইয়ার অরা যেভাবে পঙ্কজ ত্রিপাঠি বহন করেছেন, তা হয়তো আর কেউ কখনো পারবে না। পাশাপাশি মকবুল, মুন্না ভাইয়া, গুড্ডু এবং বাবলু ভাইয়া-সহ অন্যান্য চরিত্রে যারা অভিনয় করেছেন সবাই নিজের সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন। তবে ভিক্রান্ত ম্যাসি-র রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে জিতেন্দ্র কুমারকে পুরোপুরি মানানসই না লাগলেও মুভিতে আমার খুব একটা খারাপ লাগেনি।
সিরিজ পুরো দেখা হয়নি, তাই জানিও না সামনে কোন চরিত্র আছে বা নেই। কিন্তু মুভিতে নতুন করে পরিচয় করানো হয়েছে বাব্বান বাবুয়া—যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন রবি কিষাণ। এই লোকটার ফ্যান আমি বহু আগে থেকেই, কিন্তু মনের মতো ক্যারেক্টার খুব কম পেয়েছি তার কাছ থেকে। এই মুভিতে তার স্ক্রিন প্রেজেন্স ভালো ছিল। ডায়লগ ডেলিভারি, লোকেশন, মিউজিক এবং সিনেমাটোগ্রাফির কাজ পুরো মুভি জুড়ে চমৎকার। ওভারঅল, গ্যাংস্টার-অ্যাকশন জনরা পছন্দ করে থাকলে মির্জাপুরের এই মুভি দেখে দারুণ একটা সময় কাটাতে পারেন!
➤ P. Rating: 4 out of 5
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!