প্রথম পাতাচিন্তা ও চেতনা"ভাগ্যে থাকলে হবে, ভাগ্যে না থাকলে হবে না"

চিন্তা ও চেতনা

"ভাগ্যে থাকলে হবে, ভাগ্যে না থাকলে হবে না"

"ভাগ্যে থাকলে হবে, ভাগ্যে না থাকলে হবে না"

আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি - "ভাগ্যে থাকলে হবে, ভাগ্যে না থাকলে হবে না। গ্রহ খারাপ, সময় খারাপ, শনি চলছে।"

ঋষি এখানেই আমাদের ঘুম ভাঙাচ্ছেন। তিনি বলছেন, আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে বসে থেকো না, নিজের ভেতরের তারাটাকে জ্বালাও।

বিজ্ঞাপন

আধ্যাত্মিকতা মানে হাত গুটিয়ে ভাগ্যের দোষ দেওয়া নয়। আধ্যাত্মিকতা মানে এই বোঝা যে - এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী alignment হলো তোমার ভেতরের alignment।

তোমার ভেতরে তিনটে জিনিস আছে - তোমার শরীর, তোমার মন, আর তোমার প্রাণশক্তি। এই তিনটে যদি তিন দিকে টানে, তাহলে বাইরে গ্রহ-নক্ষত্র যতই ভালো থাকুক, তুমি সফল হবে না। শরীর বলছে ঘুমাও, মন বলছে ভয় পাও, প্রাণ বলছে অন্য কিছু চায় - এই ভাঙা মানুষ কখনো কিছু গড়তে পারে না।

কিন্তু যেদিন তোমার শরীর, মন আর শক্তি একই দিকে তাকাবে, একই সুরে বাজবে - সেদিন তোমাকে আর কোনো তারা আটকাতে পারবে না। তখন তুমি নিজেই একটা সূর্য হয়ে যাবে।

তারা তোমাকে পথ দেখাতে পারে, কিন্তু পথ তোমাকেই হাঁটতে হবে। আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে পথ চলা হয় না।

সফলতা মানে কী?

আমরা ভাবি সফলতা মানে অনেক টাকা, অনেক নাম। না, ওটা সফলতার ফল হতে পারে, সফলতা নয়।

সফলতা হলো দুটো শব্দের মিলন -

এক, Purpose:-- তুমি কেন করছো? তোমার জীবনের উদ্দেশ্যটা কী? যদি উদ্দেশ্যই পরিষ্কার না থাকে, তাহলে তুমি যত জোরেই দৌড়াও, তুমি ভুল দিকে দৌড়াচ্ছো। অনেক মানুষ সারা জীবন সিঁড়ি বেয়ে ওঠে, শেষে দেখে সিঁড়িটা ভুল দেওয়ালে লাগানো ছিল।

দুই, Execution:-- শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না, স্বপ্নটাকে মাটিতে নামাতে হবে। Proper execution মানে রোজ একটু একটু করে, নিখুঁত ভাবে, ফাঁকি না দিয়ে কাজটা করা। বড় বড় কথা নয়, ছোট ছোট সঠিক পদক্ষেপ।

একটা কুমোরের কথা ভাবো। তার হাতে মাটি আছে, চাকা আছে, স্বপ্ন আছে একটা সুন্দর কলসি বানানোর। কিন্তু যদি সে চাকাটা ঠিক মতো না ঘোরায়, হাতটা ঠিক জায়গায় না রাখে, তাহলে কলসি বাঁকা হয়ে যাবে। তারা ঠিক থাকলেও কলসি হবে না।

আমাদের জীবনও সেই কলসি। Purpose হলো কলসির ডিজাইন, আর Execution হলো কুমোরের হাত।

আর সবচেয়ে গভীর কথা হলো "to be well aligned within" - ভেতরে স্থির থাকা।

বাইরের পৃথিবী রোজ নড়বে, লোকের কথা বদলাবে, বাজার পড়বে-উঠবে। যদি তুমি ভেতরে নড়ে যাও, তাহলে তুমি শেষ। সফল মানুষ সেই, যে ঝড়ের মধ্যেও নিজের ভেতরে শান্ত, স্থির। সে জানে সে কোথায় যাচ্ছে।

কীভাবে নিজেকে aligned করবে?

কথাটা শুনতে ভারী, কিন্তু অভ্যাসটা খুব সহজ। রোজ তিনটে ছোট কাজ -

১. সকালে ৫ মিনিটের Purpose Check:--- ঘুম থেকে উঠে ফোন ধরার আগে নিজেকে একটা প্রশ্ন করো - "আজ আমি যা যা করব, সেটা কি আমাকে আমার আসল উদ্দেশ্যের দিকে নিয়ে যাবে?" তোমার Purpose কী, সেটা এক লাইনে লিখে দেওয়ালে লাগিয়ে রাখো। যেমন - "আমি মানুষকে একটু শান্তি দিতে চাই" বা "আমি আমার কাজে সেরা হতে চাই"। এই একটা লাইনই তোমাকে দিনভর aligned রাখবে।

২. Execution-এর জন্য একটা নিয়ম:--- 1% Better, আজকের কাজটা কালকের চেয়ে 1% ভালো করো। ফাঁকি দিও না। কেউ দেখছে না বলেও কাজটা ঠিক করে করো। কারণ মহাবিশ্ব দেখছে। Proper execution মানে perfect হওয়া নয়, honest হওয়া।

৩. ভেতরে aligned থাকার জন্য ১০ মিনিটের নীরবতা:--- দিনে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুধু বসো। কোনো মন্ত্র নয়, কোনো চাওয়া নয়। শুধু দেখো - তোমার শরীর কী বলছে, মন কী বলছে। তাদের ঝগড়া থামতে দাও। যখন ভেতরের কোলাহল থামবে, তখনই তুমি ভেতরে aligned হবে। আর ভেতরে aligned হলে, বাইরের সফলতা আপনা থেকেই আসবে।

শেষ কথা এটুকুই বলার ---

তারা দেখে ভবিষ্যৎ গোনা যায়, ভবিষ্যৎ বানানো যায় না।

ভবিষ্যৎ বানাতে হয় ঘাম দিয়ে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে, আর ভেতরের স্থিরতা দিয়ে।

তাই আজ থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা কোরো না - কবে তারা মিলবে। বরং নিজের ভেতরে তাকাও, আর নিজেকে মেলাও।

মনে রেখো -

তারা তোমাকে সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু সফলতা তোমাকেই তৈরি করতে হবে। আর যে মানুষ ভেতরে মিলে গেছে, তাকে বাইরের কোনো অমিল হারাতে পারে না।

০ মন্তব্য · ৬৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!