প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকমামা (Mama) গা ছমছমে হরর চলচ্চিত্র

সিনেম্যাটিক

মামা (Mama) গা ছমছমে হরর চলচ্চিত্র

মামা (Mama) গা ছমছমে হরর চলচ্চিত্র

মামা (Mama) হলো ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গা ছমছমে অতিপ্রাকৃত হরর চলচ্চিত্র (Supernatural Horror Film). অ্যান্ডি মুশিয়েটি পরিচালিত এবং গিয়ের্মো দেল তোরো প্রযোজিত এই সিনেমাটির মূল গল্পটি নিচে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:


বিজ্ঞাপন

কাহিনীর শুরু ও নিখোঁজ হওয়া

আর্থিক মন্দা ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জেফরি নামের এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে খুন করে। এরপর সে তার দুই ছোট মেয়ে—তিন বছরেরভিক্টোরি এবং মাত্র এক বছরের লিলিকে নিয়ে গাড়ি করে পালিয়ে যায়. বরফের মধ্যে দ্রুত গাড়ি চালাতে গিয়ে তারা দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে একটি গভীর জঙ্গলে পড়ে যায়


জেফরি মেয়ে দুটিকে নিয়ে বনের ভেতর একটি পরিত্যক্ত কাঠের কেবিনে আশ্রয় নেয়। সেখানে মানসিক ভারসাম্যহীন জেফরি নিজের মেয়েদের মেরে নিজে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ঠিক যখনই সে ভিক্টোরিয়ার মাথায় পিস্তল তাক করে, তখনই অন্ধকার থেকে একটি অদ্ভুত ও অতিপ্রাকৃত ছায়া অবয়ব আবির্ভূত হয়ে জেফরিকে আক্রমণ করে এবং তাকে হত্যা করে। ভয়ংকর সেই সত্তাটি লিলি ও ভিক্টোরিয়াকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখে।


৫ বছর পর উদ্ধার

দীর্ঘ ৫ বছর ধরে জেফরির ভাই লুকাস এবং তার রক-মিউজিশিয়ান গার্লফ্রেন্ডঅ্যানাবেল মেয়ে দুটিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল. অবশেষে তাদের নিয়োগ করা কিছু ট্র্যাকার বনের সেই কেবিন থেকে মেয়ে দুটিকে জীবিত উদ্ধার করে.

দীর্ঘদিন মানুষের সংস্পর্শ ছাড়া থাকায় লিলি ও ভিক্টোরিয়া পুরোপুরি বন্য বা পশুর মতো (Feral) আচরণ করতে শুরু করেছিল. তারা সোজা হয়ে হাঁটতে পারত না, চার হাত-পায়ে দৌড়াত এবং মানুষের ভাষা ভুলে গিয়েছিল। তবে তারা বারবার একজন অদৃশ্য অভিভাবকের কথা বলত, যাকে"মামা" বলে ডাকত তারা .


নতুন বাড়ি ও "মামা"র আগমন


মনোবিজ্ঞানী ডক্টর ড্রেফাস মেয়ে দুটির মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নেন. তিনি লুকাস ও অ্যানাবেলকে মেয়েদের আইনি অভিভাবক হতে সাহায্য করেন, এই শর্তে যে তারা ডক্টরের দেওয়া একটি বিশেষ বড় বাড়িতে থাকবে যাতে তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন.

নতুন বাড়িতে আসার পর বড় বোন ভিক্টোরিয়া আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে এবং অ্যানাবেলের কাছাকাছি আসে। কিন্তু ছোট বোন লিলি মানুষের চেয়ে তার সেই অদৃশ্য "মামা"র প্রতিই বেশি আসক্ত থাকে। শীঘ্রই বাড়িতে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে শুরু করে। অ্যানাবেল বুঝতে পারে যে তারা কেবিন থেকে শুধু মেয়েদেরই নিয়ে আসেনি, বরং তাদের সাথে ভয়ংকর কোনো আত্মাও এই বাড়িতে চলে এসেছে. এক রাতে লুকাসকে সেই আত্মাটি সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয়, যার ফলে সে কোমায় চলে যায় এবং অ্যানাবেল দুই মেয়েকে নিয়ে একা হয়ে পড়ে।


"মামা"র পরিচয় ও অতীত ইতিহাস

ডক্টর ড্রেফাস মেয়েদের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে এবং অ্যানাবেল কিছু অলৌকিক স্বপ্নের মাধ্যমে "মামা"র আসল পরিচয় জানতে পারে

  • "মামা"র আসল নাম ছিল এডিথ ব্রেনান.
  • সে ১৮০০ শতকের একজন মানসিক রোগী ছিল.
  • সে হাসপাতাল থেকে নিজের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছিল, কিন্তু একপর্যায়ে তাড়া খেয়ে সন্তানকে নিয়ে পাহাড়ের উঁচু চূড়া (Cliff) থেকে নিচে নদীতে ঝাঁপ দেয়.
  • এডিথ মারা গেলেও তার বাচ্চাটি একটি গাছের ডালে আটকে যায় এবং এডিথের আত্মা তার নিজের মৃত সন্তানকে আর খুঁজে পায়নি.
  • শত বছর ধরে নিজের সন্তানকে খুঁজে বেড়ানো সেই অতৃপ্ত আত্মাই জঙ্গলে ভিক্টোরিয়া ও লিলিকে পেয়ে নিজের সন্তান মনে করে লালন-পালন করেছিল.


চূড়ান্ত পরিণতি 


"মামা" যখন বুঝতে পারে যে ভিক্টোরিয়া মানুষের সমাজের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং অ্যানাবেলকে মায়ের মর্যাদা দিচ্ছে, তখন সে হিংস্র হয়ে ওঠে। সে ডক্টর ড্রেফাসকে হত্যা করে এবং লিলি ও ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে সেই পাহাড়ের চূড়ায় চলে যায়, যেখান থেকে সে শত বছর আগে ঝাঁপ দিয়েছিল।


কোমা থেকে ফিরে আসা লুকাস এবং অ্যানাবেল সেখানে পৌঁছায়। অ্যানাবেল অনেক কষ্ট করে ড্রেফাসের অফিস থেকে উদ্ধার করা এডিথের আসল মৃত সন্তানের কঙ্কালটি "মামা"র হাতে তুলে দেয়। নিজের আসল সন্তানকে পেয়ে কিছুক্ষণের জন্য শান্ত হয় "মামা" এবং তার রূপ স্বাভাবিক মানুষের মতো দেখায়। কিন্তু লিলি যখন পিছন থেকে তাকে "মামা" বলে ডাকে, তখন সে আসল সন্তানের কঙ্কালটি ফেলে দিয়ে আবার লিলি ও ভিক্টোরিয়াকে নিয়ে মৃত্যুর দিকে এগোতে থাকে.


অ্যানাবেল ও লুকাস ভিক্টোরিয়াকে আঁকড়ে ধরে এবং অ্যানাবেলের ভালোবাসার টানে ভিক্টোরিয়া মানুষের সাথে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ছোট বোন লিলি মানুষের জীবন কখনো দেখেনি, সে "মামা"র সাথেই চলে যেতে চায়। শেষ পর্যন্ত, "মামা" লিলিকে কোলে নিয়ে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে ঝাঁপ দেয়। নিচে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তারা একটি সুন্দর নীল রঙের প্রজাপতির ঝাঁকে পরিণত হয়ে শূন্যে মিলিয়ে যায়।


সিনেমাটি শেষ হয় বেঁচে যাওয়া ভিক্টোরিয়ার মাধ্যমে, যার হাতে একটি সুন্দর নীল প্রজাপতি এসে বসে, যা ইঙ্গিত করে যে লিলি এখন ওপারে তার "মামা"র সাথেই শান্তিতে আছে।








০ মন্তব্য · ৪৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!