ছোট্ট একটি খাল। সেটি পার হওয়ার জন্য একটা ভেড়া যেই না জোরে এক লাফ দিল, অমনি তার ভারী লেজটা বাতাসের টানে সামান্য একটু ওপরে উঠে গেল।
আর ঠিক সেই এক সেকেন্ডের জন্য তার পেছনের কিছুটা অংশ নজরে চলে এল।
পাশেই দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল একটা ছাগল। সে আর হাসি আটকে রাখতে পারল না।
ভেড়াকে খাটো করার জন্য তাচ্ছিল্যের সুরে হো হো করে হেসে উঠে বলল, "হাহাহা! আজ তো তোমার সবকিছু দেখে ফেললাম!"
ভেড়াটি ছাগলটার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি জবাব দিল,
"কী অদ্ভুত তোমার বিচার! তোমার তো জন্মগতভাবেই লেজ ছোট। তাই তোমার পেছনের অংশ তো সারা বছরই মানুষের চোখের সামনে খোলা থাকে।
আমি তো দিনের পর দিন তোমার ওই খোলা শরীর দেখে আসছি, কই আমি তো কোনোদিন তোমাকে উপহাস করিনি!
আর আমার সারা জীবনে শুধুমাত্র এক মুহূর্তের একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে তুমি এত বড় একটা কথা শুনিয়ে দিলে?"
আল্লামা আব্দুর রহমান জামী (রহ.) এই ছোট্ট রূপক গল্পটি দিয়ে সমাজের এক চরম বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।
তিনি বুঝিয়েছেন, আমাদের সমাজেও এমন কিছু নিচু মানসিকতার মানুষ আছে, যাদের চরিত্র হুবহু ওই ছাগলটির মতো।
তারা নিজেদের মধ্যে থাকা পাহাড় সমান দোষ আর ত্রুটি অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো বয়ে বেড়ায়, এ নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা বা মাথাব্যথা নেই।
কিন্তু কোনো ভালো, পরহেজগার বা সম্মানিত মানুষের সামান্যতম একটা ভুল যদি তাদের নজরে পড়ে যায়, ব্যাস! সেটাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সবার কাছে প্রচার করতে তারা একটুও ছাড় দেয় না।
রুচিশীল ও গুণী মানুষরা কখনো অন্যের দোষ ঘেঁটে নিজেদের ব্যক্তিত্বকে নিচে নামান না।
সারাক্ষণ অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করা কেবল সস্তা ও ছোট মানসিকতার মানুষদেরই কাজ। আসুন, অন্যের ভুল ধরার আগে নিজের আয়নার সামনে দাঁড়াই।
বাহারেস্তাঁ- আল্লামা জামী (রহ.)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!