প্রথম পাতাচিন্তা ও চেতনাযাঁদেরকে সমাজ অনুসরণ করে, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

চিন্তা ও চেতনা

যাঁদেরকে সমাজ অনুসরণ করে, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

যাঁদেরকে সমাজ অনুসরণ করে, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

এক যুগে এক অত্যাচারী রাজা সাধারণ মানুষকে জোর করে শুকরের গোশত খাওয়াতে শুরু করল। যারা খেত না, তাদের ওপর চলত অমানুষিক নির্যাতন।


বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে সেই যুগের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত এক আলেমকে রাজদরবারে ধরে আনা হলো।


সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর মর্যাদা ছিল অনেক উঁচুতে। সবাই চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল, এখন কী হবে!


রাজার এক সেনাপতি ছিলেন, যিনি মনে মনে ওই আলেমকে খুব সম্মান করতেন। তিনি আলেমকে বাঁচানোর জন্য গোপনে এক ফন্দি আঁটলেন।


তিনি আলেমকে বললেন, "আপনি আমাকে একটি ছাগলের বাচ্চা দিন। আমি সেটা জবাই করে রান্না করে রাখব। রাজা যখন আপনাকে শুকরের গোশত খেতে বাধ্য করবে, তখন আমি সবার অগোচরে আপনার সামনে সেই ছাগলের হালাল গোশতটিই এনে দেব। আপনি সেটাই খাবেন, কেউ বুঝতেও পারবে না।"


পরিকল্পনা অনুযায়ী আলেম একটি ছাগলের বাচ্চা দিলেন এবং সেনাপতি তা প্রস্তুত করে রাখলেন।

এরপর যখন আলেমকে রাজার সামনে হাজির করা হলো, রাজা শুকরের গোশত আনতে নির্দেশ দিল।


সেনাপতি চালাকি করে ওই ছাগলের গোশতই তাঁর সামনে এনে দিলেন।


রাজা আলেমকে তা খেতে আদেশ দিল। কিন্তু আলেম তা খেতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানালেন!


সেনাপতি আড়ালে চোখ টিপে ইশারা করতে লাগলেন যে, "এটা তো সেই হালাল গোশতটাই, আপনি খেয়ে নিন!"


কিন্তু আলেম কিছুতেই খেলেন না। তখন রেগে গিয়ে রাজা তাকে হত্যার নির্দেশ দিল।


যখন সেনাপতি তাঁকে বধ্যভূমিতে নিয়ে গেলেন, তখন তিনি চরম আক্ষেপ নিয়ে আলেমকে বললেন, "আপনাকে গোশত খেতে কে বাধা দিচ্ছিল? আপনি কি ভেবেছিলেন আমি গোশত পাল্টে ফেলেছি? আমি তো আপনার দেওয়া হালাল গোশতটাই দিয়েছিলাম!"


তখন সেই আলেম যে উত্তরটি দিয়েছিলেন, তা প্রতিটি বিবেকবান মানুষের জন্য এক বিরাট শিক্ষা। তিনি বললেন:


"আমি জানতাম ওটা হালাল গোশতই ছিল। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, আমাকে দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হবে।


আমি যদি আজ গোশতটা খেতাম, উপস্থিত মানুষ তো আর জানত না যে ওটা হালাল গোশত। তারা ভাবত, আমি শুকরের গোশত খাচ্ছি! 


এরপর সাধারণ মানুষরা হারাম খাওয়া শুরু করবে আর বলবে, 'অমুক বড় আলেমই তো খেয়েছে, তাহলে আমাদের খেলে সমস্যা কী!' আমি কোনোভাবেই মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারি না।"


এই কথা বলে তিনি হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন।


ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন বিখ্যাত তাবেয়ী ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.)। 


ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হলো, যাঁদেরকে সমাজ অনুসরণ করে, তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেশি।


অনেক সময় তাদের কোনো একটি কাজ নিজের জন্য হালাল বা বৈধ হলেও, তা দেখে অন্যরা ভুল পথে পা বাড়াতে পারে। 


তাই নিজের কাজের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।



তথ্যসূত্র : উয়ুনুল হিকায়াত - ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.

০ মন্তব্য · ৭১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!