ছোটবেলার দাড়িয়াবান্দা খেলা মানেই ছিল এক অন্যরকম রোমাঞ্চ, ধুলোবালি মাখা শরীর আর হারিয়ে যাওয়া কিছু সোনালী মুহূর্ত। বিকেল হলেই পাড়ার খোলা মাঠে বা কারো বাড়ির উঠোনে চুন দিয়ে, কিংবা স্রেফ পায়ের গোড়ালি দিয়ে দাগ কেটে তৈরি হতো আমাদের দাড়িয়াবান্দার কোর্ট।আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। ছোটবেলার সেই দাড়িয়াবান্দা খেলার কিছু অম্লান ও মজার স্মৃতি ঃ
🏃♂️ দাগে দাগে পাহারা আর চোর-পুলিশের আমেজ
খেলার মূল আকর্ষণ ছিল 'দাঁড়ি' বা দাগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের পাহারা ফাঁকি দেওয়া। কোর্টের লাইন ধরে যে পাহারা দিত, সে যেন ছিল এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর! আর আমরা যখনই তার হাতের নাগাল এড়িয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে দৌড়ে যেতাম, মনে হতো যেন অলিম্পিকে কোনো বড় মেডেল জিতে গেছি।
🤫 সেই চিরচেনা 'ক্যাঁক' বা ছুঁয়ে দেওয়ার চিৎকার
সবচেয়ে মজার ও উত্তেজনার মুহূর্ত ছিল যখন কেউ ধরা পড়ত। পাহারা দেওয়া বন্ধুটি যখন কাউকে সামান্য ছুঁয়েই চিৎকার করে উঠত—"ক্যাঁক!" বা "আউট!", তখন শুরু হতো তুমুল তর্ক। "তুই তো দাগ ছেড়ে বাইরে চলে গিয়েছিলি", "আমাকে তো ছুঁতেই পারিসনি, শুধু জামা লেগেছে"—এইসব মিষ্টি ঝগড়া আর তর্কের কোনো শেষ ছিলিল না।

👑 'লবণ' বা 'নুন' আনার সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত
সবগুলো ঘর পার হয়ে যখন দলের শেষ খেলোয়াড়টি আবার প্রথম ঘরে ফিরে আসত, তখন আমরা চিৎকার করে উঠতাম—"নুন হয়েছে!" বা "লবণ!"। পুরো কোর্ট সফলভাবে পার করে দলকে জেতানোর সেই যে আনন্দ, তার কাছে আজকের দিনের যেকোনো ভিডিও গেমের জয় একেবারেই ফ্যাকাশে।
🌅 সন্ধ্যা নামার তাড়া আর মায়ের বকুনি
খেলার নেশায় আমরা এতটাই বুঁদ হয়ে থাকতাম যে কখন সূর্য ডুবে চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসত, টেরই পেতাম না। হঠাৎ দূর থেকে মায়ের কড়া ডাক, "আর কত খেলবি? এবার হাত-পা ধুয়ে পড়তে বস!"—ব্যস, সেই ডাকেই ভাঙত আমাদের আনন্দের আসর। ধুলোমাখা হাত-পা আর ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে, পরের দিন আবার কখন বিকেল হবে সেই পরিকল্পনা করতে করতে আমরা বাড়ির পথ ধোরতাম।
দাড়িয়াবান্দা শুধু একটা খেলাই ছিল না, এটি ছিল আমাদের শৈশবের বন্ধুত্ব, দলগত ঐক্য আর নিখাদ আনন্দের এক জীবন্ত দলিল।
আবেগাপ্লুত হয়ে গেলাম।আসলেই অনেক মিস করি।