শিক্ষক: বল্টু, তুমি তো দেখছি দিন দিন পড়াশোনায় একদমই পিছিয়ে যাচ্ছো, কিছুই পারো না! তোমাকে একটা বুদ্ধি দিই—শোনো, আজ থেকে কেউ কোনো প্রশ্ন করলে কখনো বলবে না যে "তুমি জানো না"। সবসময় আত্মবিশ্বাসের সাথে বলবে, "আমি সব জানি!" মনে থাকবে তো?
বল্টু: হ্যাঁ স্যার, একদম মনে থাকবে।
বল্টু স্কুল শেষে বাড়ি ফিরল। মনে মনে শিক্ষকের সেই মূল্যবান উপদেশ আউড়াচ্ছে—"আমি সব জানি, আমি সব জানি..."বাড়িতে ঢুকেই সে সামনে পেল তার চাচিকে। শিক্ষকের কথা প্রমাণ করার জন্য বল্টু বুক ফুলিয়ে গম্ভীর গলায় বলল:
বল্টু: চাচি! আমি কিন্তু সব জেনে গেছি!
চাচি এ কথা শুনে এদিক-ওদিক তাকিয়ে বল্টুর হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বললেন:
চাচি: আরে ধুর বোকা, আস্তে বল! তোর পাশের বাড়ির আঙ্কেল তো শুধু মাঝে মাঝে চা খেতেই আমাদের এখানে আসেন, এর বেশি কিছু না! এই নে ১০০ টাকা, তোর আম্মুকে যেন কিচ্ছু বলিস না!
বল্টু তো অবাক! খুশি মনে টাকাটা পকেটে নিয়ে সে বাড়ির উঠোনে গেল। সেখানে তার বাবাকে খবরের কাগজ পড়তে দেখে আবার একই ডায়ালগ দিল:
বল্টু: বাবা! আমি কিন্তু সব জেনে গেছি!
বাবা খবরের কাগজ থেকে মুখ নামিয়ে বল্টুর দিকে তাকালেন। তারপর পকেট থেকে একটা চকচকে ৫০০ টাকার নোট বের করে বল্টুর হাতে দিয়ে বললেন:
বাবা: লক্ষ্মী ছেলে আমার, তোর আম্মুকে ভুলেও কিছু বলিস না। ওই যে পার্লারের আন্টি, উনি আমাকে শুধু রাস্তা চেনার জন্য ডেকেছিলেন!
বল্টু এবার মহা খুশি! না পড়েই একদিনে ৬০০ টাকা আয়! ঠিক তখনই বাড়ির দরজায় নক করার শব্দ হলো। বল্টু দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল। দেখল তাদের নিয়মিত চিঠিপত্র দেওয়া ডাকপিয়ন (পোস্টম্যান) দাঁড়িয়ে আছেন।
টাকার গরমে বল্টু এবার পোস্টম্যানকেও ছাড়ল না। কলার উঁচিয়ে বলল:
বল্টু: পিওন কাকা, আমি কিন্তু সব জেনে গেছি!
এ কথা শুনে পোস্টম্যানের চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি চিঠির ব্যাগটা মাটিতে ফেলে দুই হাত বাড়িয়ে দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বললেন:
পোস্টম্যান: ওরে আমার খোকা! তাহলে তুই শেষ পর্যন্ত জানতেই পারলি? আয়, আয় বাবা, তোর আসল বাবার বুকে আয়!
বল্টু: 😶 (বেহুশ!)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!