কোহিনূর, যার অর্থ “আলোর পাহাড়”, বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ও বিতর্কিত হীরা। এর প্রাথমিক ইতিহাস পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হয়, হীরাটি ভারতের গোলকোন্ডা অঞ্চলের খনি থেকে পাওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে এটি বিভিন্ন শাসকের হাত ঘুরে মুঘল, পারস্য ও আফগান শাসকদের সম্পদের অংশ হয়।
১৭৩৯ সালে পারস্যের শাসক নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণের পর কোহিনূর নিয়ে যান বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে। পরে হীরাটি আফগান শাসকদের হাত হয়ে শিখ সাম্রাজ্যের মহারাজা রণজিৎ সিংহের কাছে পৌঁছায়।
কোহিনূরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় ১৮৪৯ সালে। দ্বিতীয় অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধের পর লাহোর চুক্তির মাধ্যমে হীরাটি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে যায় এবং পরে রানি ভিক্টোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে হীরাটির মালিকানা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।
১৮৫১ সালে লন্ডনের Great Exhibition-এ কোহিনূর প্রদর্শিত হয়। দর্শকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উজ্জ্বল না হওয়ায় ১৮৫২ সালে হীরাটি নতুনভাবে কাটা হয়। এতে এর ওজন কমে বর্তমান ১০৫.৬ ক্যারেটে দাঁড়ায়, তবে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
১৯৩৭ সালে কোহিনূর Queen Elizabeth the Queen Mother-এর মুকুটে স্থাপন করা হয়। বর্তমানে এটি ব্রিটিশ ক্রাউন জুয়েলসের অংশ হিসেবে টাওয়ার অব লন্ডনে সংরক্ষিত।
কোহিনূর তাই শুধু একটি মূল্যবান রত্ন নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, ঔপনিবেশিক ইতিহাস ও ক্ষমতার পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!