প্রথম পাতা › গল্প ও উপন্যাস › "টেলিপ্যাথি"এক মন থেকে অন্য মনে

গল্প ও উপন্যাস

"টেলিপ্যাথি"এক মন থেকে অন্য মনে

বিজ্ঞাপন
"টেলিপ্যাথি"এক মন থেকে অন্য মনে

বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যা। জানালার পাশে বসে বই পড়ছিল রাফি। হঠাৎ তার মনে হলো, কেউ যেন তাকে ডাকছে।


বিজ্ঞাপন

“রাফি... তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?”


রাফি চমকে চারদিকে তাকাল। ঘরে সে একা। দরজা বন্ধ, জানালাও বন্ধ। অথচ কণ্ঠস্বরটি এত স্পষ্ট যে মনে হলো কেউ তার কানের কাছেই কথাটি বলেছে।


“কে? কে তুমি?” মনে মনে প্রশ্ন করল রাফি।


কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর আবার সেই কণ্ঠস্বর—


“আমি নীলা। তোমার সাহায্য দরকার।”


রাফি এবার ভয় পেয়ে গেল। কারণ নীলা নামের একটি মেয়েকে সে চিনত। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তারা। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে নীলা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


রাফি নিজেকে বোঝাল, হয়তো সবই তার কল্পনা। কিন্তু ঠিক তখনই তার ফোনে একটি বার্তা এল।


“পুরোনো রেলস্টেশনে এসো। আজ রাত বারোটায়। কাউকে সঙ্গে এনো না।”


বার্তাটি এসেছে একটি অচেনা নম্বর থেকে।


রাফির বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল। নীলার কথা আর সেই অদ্ভুত কণ্ঠস্বর—দুটো কি কাকতালীয়?


### রহস্যের শুরু


রাত এগারোটা পঞ্চান্ন মিনিটে রাফি পৌঁছাল শহরের পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে। চারদিকে ঘন কুয়াশা। বহু বছর ধরে এখানে কোনো ট্রেন থামে না। ভাঙা বেঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করতে লাগল।


হঠাৎ তার মাথার ভেতর আবার সেই কণ্ঠস্বর ভেসে এল।


“রাফি, পেছনে তাকিয়ো না।”


রাফি স্থির হয়ে গেল।


“কেন? কী হয়েছে?” মনে মনে প্রশ্ন করল সে।


“কারণ কেউ তোমাকে অনুসরণ করছে।”


রাফি ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল। ঠিক তখনই স্টেশনের পুরোনো ঘড়িতে বারোটা বাজল। দূরে একটি বাতি জ্বলে উঠল। সেই আলোয় দেখা গেল, প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।


নীলা!


কিন্তু তার চেহারায় এমন এক অদ্ভুত বিষণ্নতা, যা রাফি আগে কখনো দেখেনি।


“নীলা!” চিৎকার করে উঠল রাফি।


মেয়েটি ঠোঁটে আঙুল রেখে তাকে চুপ করতে বলল।


“আমাদের কথা বলার সময় নেই,” নীলার কণ্ঠস্বর সরাসরি রাফির মনে বাজল। “তুমি যা জানো, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু তোমার সঙ্গে ঘটছে।”


### মনের ভেতরের দরজা


নীলা জানাল, এক বছর আগে সে এমন একটি অদ্ভুত ক্ষমতা আবিষ্কার করেছিল, যার মাধ্যমে দূরে থেকেও অন্য মানুষের চিন্তা অনুভব করা যায়। এই ক্ষমতাকেই বলা হয় টেলিপ্যাথি।


প্রথমে সে ভেবেছিল, এটি নিছক কল্পনা। কিন্তু পরে সে বুঝতে পারে, কিছু মানুষের আবেগ ও চিন্তার সঙ্গে তার মনের অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হচ্ছে। রাফির সঙ্গে তার সংযোগটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।


“তাহলে এত দিন তুমি কোথায় ছিলে?” রাফি মনে মনে জানতে চাইল।


নীলার চোখে জল এসে গেল।


“আমি নিখোঁজ হইনি, রাফি। আমাকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। কারণ আমি এমন একটি গোপন তথ্য জেনে গিয়েছিলাম, যা কিছু মানুষ পৃথিবীর কাছ থেকে আড়াল করতে চায়।”


“কী তথ্য?”


নীলা উত্তর দেওয়ার আগেই রাফির মাথার মধ্যে তীব্র এক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। যেন অন্য কেউ তার চিন্তার ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে।


তারপর একটি অপরিচিত পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল—


“নীলা, তুমি ভুল করেছ। ছেলেটিকে এখানে আনা উচিত হয়নি।”


রাফি আতঙ্কিত হয়ে চারদিকে তাকাল।


প্ল্যাটফর্মের অন্ধকার থেকে একজন লোক বেরিয়ে এল। তার চোখে কালো চশমা, হাতে একটি ছোট যন্ত্র।


লোকটি বলল, “তোমরা ভাবছ, টেলিপ্যাথি শুধু মনের ক্ষমতা? মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত নিয়ে গবেষণা বহু বছর ধরে চলছে। কিন্তু তোমাদের দুজনের সংযোগ আমাদের সব হিসাব বদলে দিয়েছে।”


নীলা রাফির হাত ধরে ফিসফিস করে বলল, “ওর কথা বিশ্বাস কোরো না। তোমার নিজের মনকে বিশ্বাস করো।”


### শেষ সংকেত


লোকটি যন্ত্রটি চালু করতেই রাফি অনুভব করল, তার মাথার ভেতরে অসংখ্য কণ্ঠস্বর একসঙ্গে কথা বলছে। সে চোখ বন্ধ করল।


হঠাৎ তার মনে ভেসে উঠল একটি দৃশ্য—একটি অন্ধকার ঘর, দেয়ালে অনেকগুলো মনিটর, আর সেখানে আটকে থাকা অসংখ্য মানুষের চিন্তার সংকেত।


রাফি বুঝতে পারল, লোকটি মানুষের মনের সংকেত নিয়ে গোপন পরীক্ষা চালাচ্ছে। নীলা সেই পরীক্ষার সত্যতা প্রকাশ করতে চেয়েছিল বলেই তাকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।


কিন্তু রাফি যখন চোখ খুলল, তখন প্ল্যাটফর্মে কেউ নেই।


নীলা নেই। লোকটিও নেই।


শুধু ভাঙা বেঞ্চের ওপর পড়ে আছে একটি ছোট কাগজ।


কাঁপা হাতে কাগজটি খুলে রাফি পড়ল—


“রাফি, তুমি এখনো জানো না, তোমার ক্ষমতা কোথা থেকে এসেছে। আমি তোমাকে খুঁজে পাইনি। তুমিই আমাকে খুঁজে পেয়েছ। আমাদের সংযোগের শুরু আজ নয়—অনেক আগে।”


ঠিক তখনই তার মাথার ভেতর নীলার কণ্ঠস্বর ফিরে এল।


“আমাদের আবার দেখা হবে। তবে তার আগে তোমাকে নিজের মনের দরজা খুলতে হবে।”


রাফি আকাশের দিকে তাকাল। বৃষ্টি থেমে গেছে। দূরে একটি ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল, অথচ এই লাইনে বহু বছর ধরে কোনো ট্রেন চলেনি।


তার ফোনের পর্দায় নতুন একটি বার্তা জ্বলে উঠল।


“প্রথম সংকেত সম্পন্ন। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হচ্ছে...”


রাফি স্তব্ধ হয়ে গেল।


কারণ বার্তাটি পাঠানো হয়েছে তার নিজের নম্বর থেকে।


আর ঠিক সেই মুহূর্তে তার মাথার ভেতর একটি নতুন কণ্ঠস্বর ফিসফিস করে উঠল—


“রাফি, এবার তুমি আমার কথা শুনবে।”


সমাপ্ত... নাকি রহস্যের শুরু?


১ মন্তব্য · ৬৩ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (১)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন
নিষাদ ১৮ দিন আগে

রহস্যের শুরু.....