জীবন আসলে কী?
শুধু জন্ম থেকে মৃত্যুর মাঝখানে কিছু বছর পার করে দেওয়ার নাম কি জীবন? নাকি প্রতিটি হাসি-কান্না, পাওয়া-না পাওয়া, আশা-হতাশা আর ভালোবাসার ভেতর দিয়ে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার নামই জীবন?
ছোটবেলায় আমরা ভাবি, বড় হলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি—প্রশ্ন কমে না, বরং আরও বেড়ে যায়।
কেন কিছু মানুষ খুব সহজে সুখী হয়, আর কেউ অনেক কিছু পেয়েও অশান্তিতে থাকে?
কেন আপন মানুষ কখনো কখনো দূরে চলে যায়?
কেন পরিশ্রম করেও সব স্বপ্ন পূরণ হয় না?
আর কেন হারানোর পরই আমরা অনেক কিছুর মূল্য বুঝতে শিখি?
জীবন কোনো সরল রাস্তা নয়। কখনো পথ মসৃণ, কখনো কাঁটায় ভরা। কখনো মনে হয় সবকিছু আমাদের পক্ষে, আবার কখনো মনে হয় পৃথিবীটা যেন আমাদের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে।
তবুও মানুষ এগিয়ে চলে।
হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি নয়। কিছু প্রশ্ন আমাদের সঙ্গে পথ চলার জন্যই আসে। কিছু কষ্ট আমাদের শক্ত হতে শেখায়, কিছু বিচ্ছেদ আমাদের নিজের মূল্য বুঝতে শেখায়, আর কিছু ব্যর্থতা আমাদের নতুন করে শুরু করার সাহস দেয়।
জীবন তাই শুধু “কী পেলাম?”—এই প্রশ্ন নয়।
জীবনের আসল জিজ্ঞাসা হয়তো—
“যা পেয়েছি, তা দিয়ে আমি কেমন মানুষ হতে পেরেছি?”
শেষ পর্যন্ত মানুষ কতটা সম্পদ রেখে গেল, কতজন তাকে চিনল—তা হয়তো সবচেয়ে বড় বিষয় নয়। বড় কথা হলো, তার চলে যাওয়ার পরও কেউ কি ভালোবেসে তাকে মনে রাখবে?
জীবন ক্ষণস্থায়ী। তাই প্রতিটি দিনকে অর্থপূর্ণ করে তোলাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উত্তর।
আর হয়তো জীবন জিজ্ঞাসার শেষ উত্তরটি কোনো বইয়ে লেখা নেই—
উত্তরটি আমাদের প্রতিদিনের জীবন দিয়েই লিখতে হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!