প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকএ সেপারেশন

সিনেম্যাটিক

এ সেপারেশন

এ সেপারেশন

Movie name : A separation 

Country : Iran (some spoilers)

বিজ্ঞাপন

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা আর মান ও অভিমনের সম্পর্ক নিয়ে ইরানের এই মাস্টারপিস ড্রামা থ্রিলার মুভি আপনাকে একবার হলেও ভাবাবে কি দেখলাম এটা। একটা মুভি কি করে এতটা নান্দনিক সৌন্দর্য হয়। অসধারণ হতেই পারে কারণ এটা ইরান। সিনেমায় তারাও বিশ্ব সেরা। এই ফ্যামিলি ড্রামা মুভিটি জগৎ বিখ্যাত। পৃথিবীর সেরা মুভির তালিকায় এই সিনেমা রয়েছে। সিনেমার পরিচালক হলেন ইরানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা আসগর ফারহাদি। ২০১২ সালে বেস্ট বিদেশী সিনেমার ক্যাটাগরিতে এই মুভিটি অস্কার জয় করে। আপনি যদি সিনেমাপ্রেমী হন তাহলে এই সিনেমা না দেখলে জীবন বৃথা।।


আমাদের ধর্মে সত্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সত্য মুক্তি আর মিথ্যা ধ্বংস আনে। সত্যের এই কন্সেপ্ট মুভিতে তুলে ধরা হয়েছে। সত্যকে আঁকড়ে ধীরে রাখা বেশ কষ্টকর। নিজের বিবেককে কতটা পরিশুদ্ধ রাখা যায় সেটা এই মুভির চরিত্র নাদের ও রাজিয়াকে দেখে উপলদ্ধি করা যাবে। অপরাধ করে দোষ স্বীকার করাটা ভালো লক্ষণ কিন্তু অপরাধ হয়েছে কি হয়নি, সেটা নিয়ে যখন কনফিউশন থাকে সেখানে সত্যের সাথে সত্যের লড়াই হয়। পাপকে যত ভয় পাওয়া যাবে বিবেক ততই পরিশুদ্ধ হবে। এটা আমার মতামত।মুভির অন্যতম মূল চরিত্র মিঃ নাদের হয়ত তাই ভাবে।।


মুভিতে স্বামী ও স্ত্রীর মান অভিমান ও ডিভোর্সের পর্যায়ের বিভিন্ন কন্সেপ্ট যেটা প্রবাহমান জীবনে প্রভাব বিস্তার করে সেগুলো খুব দক্ষতার সাথে ড্রামার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটি অর্গানিক ড্রামা। পরিশুদ্ধ ড্রামা দেখলে এই মুভি বেস্ট। মুভিতে নেই তেমন লোকেশন। শুধু বাসাবাড়ি আর আদালত। কথোপকথন বেশি আছে। তবে দেখতে বেশ উপভোগ্য বাস্তবভিত্তিক অনেক কিছু শেখার ও জানার আছে। স্বামী স্ত্রী মান অভিমান বাচ্চাদের উপর প্রভাব পরে।


মূল ঘটনায় আসি, সিমিন ও তাদের পরিবার ভিসা পেয়েছে। তাদের ইরান ছেড়ে যেতে হবে। সিমিন মনে করে বাহিরে গেলে তার মেয়ে তেরমেহের ভালো হবে। কিন্তু সমস্যায় বাধে অন্য জায়গায়। তার স্বামী নাদের যেতে পারবে না কারণ তার বাবা মানষিক ভাবে অসুস্থ। এদিকে সিমিন যাবেই। এই নিয়ে মান অভিমান যেটা ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে চলে আসে। আদালতে দুজন ঝগরাও করে। আদালত তদের সময় দেয়। এদিকে ডিভোর্স হয়ে কি হয় না সেই অবস্থায়। আসলে নৈতিকতা ও বিবেক তাদের মধ্যে একটা কনফিউশন সৃষ্টি করছে।।


আরেকটি ঘটনা ঘটে যায়, নাদেরের বাসায় এক গৃহকর্মী কাজ করে নাম তার রাজিয়া। চুরির সন্দেহে তাকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। কোন এক কারনে গর্ভপাত হয়। দোষ আসে নাদেরের উপর। নাদের নিজেকে নির্দোষ বলেছে, সে বলছে সে প্রেগনেন্ট এটা জানে না। এদিকে রাজিয়া বলছে সে প্রেগ্নেন্ট এটা বলেছে। এখানেও সত্য ও নৈতিকতার খেলা চলছে। ইরানের সমাজের কিছু জটিল ব্যবস্থা এখনো ফুটে উঠেছে। যেটা গুরুত্বপুর্ন হলো যে মানুষের মধ্যে কিছুটা ধর্মের ভয় কাজ করে।। 


নাদের কে জরিমানা করা অথবা কারাগারে যেতে হতে পারে আবার নাদের জামিন নিতেও অস্বীকার করে কারণ দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে। মিথ্যা বলে পাপ করে জামিন নিতে চায় না। ইরানি ধর্মীয় আইনে কেউ যদি শরীয়াহ শপথ বা জামিন নেয় তাহলে তার কথাকে সত্য ধরে নেওয়া হয় কিন্তু নাদের শপথ নেয় না।তার নৈতিকতা ও বিবেক তাকে বাধা দেয় মিথ্যা শপথ নিতে। ঘটনার দুই দিন আগে রাজিয়া একবার গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়েছিলো। তাই রাজিয়াও পুরপুরি সত্য বলতে পারছে না যে নাদের তার গর্ভপাতের জন্য দায়ী।।


মুভিতে ইরানের আইনি ব্যাবস্থাকেও তুলে ধরা হয়েছে।আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও খোদাভীতি বেশ মুগ্ধ করবে। এক কথায় বলতে গেলে এই সিনেমা পরিশুদ্ধ বিবেক ও আদর্শ দর্শনতত্ত্বের শিক্ষা দেয়। যেই দর্শন ও সাইকোলজি আদালতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের বিবেকের সঠিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।


মুভির ক্লাইমেক্স বেস্ট। কোন অ্যাকশন নেই। থ্রিলার নেই। তবে ড্রামাকে এতো সুন্দরভাবে দক্ষতার সাথে মেকিং করা হয়েছে যে থ্রিলার চেয়ে কোন অংশে কম না। ওয়ার্ল্ড বেস্ট ড্রামার মুভির একটি। এই সিনেমা থেকে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারি যেমন সত্য এই সুস্থ বিবেকের চর্চা করা। সত্য অনেক সময় এতটাই কঠিন হয়ে যায় যে সেটা বলা কষ্টকর যদি সত্যের মধ্যে আবছায়া থাকে। 


সিমিন ও নাদেরের ডিভোর্সের ব্যাপারে আদালতে কাজ চলছে। তাদের মেয়ের নাম তেরমেহ। আদালত জিজ্ঞেস করেছিলো সে কার সাথে থাকতে চায়।তার দুই চোখের জল ছল ছল করছিলো। চোখের সেই নোনা জল হয়ত বলে দেয় সম্পর্কের নিরপেক্ষতা। সন্তান চায় না পিতামাতা আলাদা হোক। মুভিটি শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটা না দেখলেও দর্শকদের মধ্যে একটা ভাবনা সৃষ্টি করে। কি হলো আসলে? সিমিন কি স্বার্থপর নাকি বাস্তববাদী?


 আমি দর্শক হিসেবে মুভিটি উপভোগ করেছি। তবে আমি মনে করি শেষ হয়তো ডিভোর্স হয়নি। অসারধান মুভি। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা অটুট বন্ধন গড়তে হলে শুধু ক্ষণস্থায়ী আবেগ নয়, সম্মানজনক সমাঝতা, বোঝাপড়া ও আত্মত্যাগের প্রয়োজন।।


১০/১০

০ মন্তব্য · ৫১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!