জেনি অব ওল্ডস্টোনস: যার জন্য রাজপুত্র ডানকান ছেড়েছিলেন সাত রাজ্যের সিংহাসন।
সময়কাল 240-250 AC
রাজা পঞ্চম এগোন তখন ওয়েস্টরোসের আয়রন থ্রোনে আসীন।
বেশ স্থিতিশীল তখন সেভেন কিংডমের পরিস্থিতি।
নিয়মে বাঁধা জীবন।চুপচাপ শান্ত নদীর মতো বয়ে চলছিল সময়।
কিন্তু রাজা এগোনের মনে একটা খচখচানি তবুও ছিল।
ড্রাগনের ডিম তো আছে কিন্তু ড্রাগন তো নেই, টারগেরিয়ান ঐতিহ্য বলে কথা!
এদিকে বড় রাজকুমার ডানকান ও যেন একটু উদাসীন স্বভাবের যুবক।প্রাসাদে তার আগ্রহ কম।সে পুরো পৃথিবী জুড়ে বিচরণ করতেই বরং বেশি আগ্রহী।
মনটা তার তাই সদা ই করে পালাই পালাই।
রাজা এগোন ভাবলেন এই ছেলেটিকে বিয়ে করিয়ে দিলেই বোধহয় কাজ হয়।ডিমের চিন্তা পরে ও করা যাবে।
যাহোক, যেই চিন্তা সেই কাজ।
ডানকানের বিয়ে ঠিক করলেন বিত্তবান ব্যারাথিওন পরিবারের এক মেয়ের সাথে।
এতে আরও একটা সুবিধাও আছে।তার ছেলের বিয়ে দিয়ে তাকে ঘরমুখো করার পাশাপাশি, ব্যারাথিওনদের সাথে সম্পর্কটাও শক্ত করতে পারবেন।
যাইহোক, বাগদান সম্পন্ন হলো।
এখন শুধু শুভ কাজটিই বাকি।
কিন্তু উদাসীন রাজপুত্র এসব চিন্তা ঝেড়ে একদিন বেরিয়ে পড়ল নিরুদ্দেশের দেশে।
চলতে চলতে গেল অনেক পথ।এক সময় রিভারল্যান্ড নামক এক অঞ্চলের গিয়ে সে থমকে গেল।
পরিত্যক্ত পুরনো দুর্গ ওল্ডাস্টোনের-এর ধ্বংসস্তূপের মাঝে সে অবাক হয়ে দেখল এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য—একটি তরুণী, খোলা আকাশের নিচে, বাতাসে চুল উড়িয়ে, একা নাচছে। এক অদ্ভুত মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।মেয়েটির নাম জেনি।জেনি অব ওল্ডস্টোনস।
যে কি না একজন সাধারণ গ্রামীণ মেয়ে।যে হয়তো কিছুটা পাগলাটে, হয়তো কিছুটা জাদুকরী।
কিন্তু আচমকা সেই অগোছালো পাগলী চরিত্রের ই প্রেমে পড়ে গেল চিরকাল বাঁধাধরা নিয়মে থাকা রাজপুত্র ডানকান।
ঠিক যেন রবিঠাকুরের পঙক্তির মতো,
প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।।
অথচ এদিকে লোকে জেনিকে ভাবে ফরেস্ট চিলড্রেন কিংবা উইচদের সর্দারনী।
যাকে ভাবে বন্য, আদিম, হিংস্র, সভ্যতার বাইরের নিগৃহীত মানুষ।
তাই রাজপুত্রের এহেন কান্ডে লোকে তখন থ, মুখে হাত আর কণ্ঠে দুয়ো- ওরে যাস নে, ডাইনির বংশ এনে রাজপরিবার কলুষিত করিসনে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা।
রাজপুত্র ডানকান যেন এক গভীর মোহে,ভ্রমে কিংবা মায়ায় প্রবেশ করলো, এই মেয়েটিকেই যে তার চাই।
-কিন্তু ওইদিকে যে বাগদান হলো?
-সে আমার চাইনে।
-পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে যে সিংহাসনে বসতে হবে?
-সিংহাসন ও চাইনে।
তার ভাষায়,
I may be a king, but is the crown greater than love?
কতজন এলো গেলো, কতজনের কত পরামর্শ, উপদেশ!
যুবরাজ টলে না।
সিংহাসনের জন্য যেখানে টারগেরিয়ানরা সারাজীবন করে এলো নিজেদের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, আর সেই সিংহাসন না-কি তার চাই না?পাগল তো বটেই।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডানকানের পাগলামির ই হলো জয়।
সিংহাসন ছেড়ে, সবাইকে ছেড়ে জেনিকে নিয়েই থেকে গেল সে।
শেষে নিরুপায় রাজা মেনে নেন অবশ্য।
এর অনেক পরের কথা, ডানকান সিংহাসন ত্যাগ করায় যথারীতি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয় তার ই অনুজ দ্বিতীয় জাহেরিস।
জাহেরিসের পুত্র এরিস ও তার স্ত্রী রায়েলার তখন সন্তান হবে।
জেনির উডস উইচ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে তাদের বংশেই আসবে লং নাইটের মহাধ্বংস থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে আসা The Prince That Was Promised
এত সুন্দর ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য জেনি প্রশংসিত হয়।
তার চিরকালের কালিমা মুছে যায় ভালোবাসার পুষ্পবৃষ্টিতে।
জেনি অব ওল্ডস্টোনস হয়ে গেল লেডি জেনি।
যাহোক, সেই সুখবরে চারদিকে একটা ঢি ঢি পড়ে যায় তখন।
আর ঘোষণা হলো, এই উপলক্ষে সামারহলে আয়োজন করা হবে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের।চারদিকে একটা সুখী সুখী ভাব।
এদিকে রাজা পঞ্চম এগোন দ্য এগ ভাবছেন সেই পুরাতন কথা।
ইয়ে মানে সব তো ঠিকঠাক চলছে এখন ডিমগুলো থেকে যদি কোনোভাবে ড্রাগন ফোটানো যেত তাহলেই মনের খায়েশটা মিটতো।
তাই তিনি ভাবলেন সামারহলের মূল অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডিমগুলো ফোটানোর একটা চেষ্টা চালানো যায় কি না।
যথারীতি অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ এলো, এবং শুরু হলো অনুষ্ঠান।আগুন জ্বালানো হলো অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য।
এদিকে সেই আগুনে মন্ত্র টন্ত্র পড়ে ড্রাগনের ডিম ফোটানোর পায়তারা করছিলেন এগোন।
কিন্তু তা আর হলো না।কোনো এক অজানা কারণে দুর্ঘটনা ঘটলো।আগুন লেগে গেল প্রাসাদে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলো না।
পুড়ে ভস্ম হলেন রাজা পঞ্চম এগোন।সাথে পুড়ে ভস্ম হলেন রাজপুত্র ডানকান।
তার স্ত্রী জেনির ব্যাপারটি জানা যায় না।
সেটি থেকে যায় রহস্যময়।
কেউ বলে সেদিন জেনি পুড়ে মরে গিয়েছিল কেউ বলে জেনি পুড়েনি।
হয়ত তার উইচরা তাকে বা তার আত্মাকে নিয়ে গিয়েছিল দূরে, বহু দূরে অজানা কোথাও।
জেনির আত্মা হয়ত মাঝেমাঝে সামারহলের পাশ দিয়ে আর দুঃখী মনে ঘুরে ঘুরে খুঁজে ফিরে তার সঙ্গীকে।
যে কি না তার জন্য ছেড়েছিল সাত রাজ্য।
এর বহুকাল পরের কথা।
উত্তর থেকে ধেয়ে আসছে হোয়াইট ওয়াকাররা, তাদের সাথে আছে আনবিটেবল ডেড আর্মি।অসম এক যুদ্ধের আগে তবুও একটি সুন্দর সময় কাটুক এই চিন্তা সবার।
উইন্টারফেলের গ্রেট হলে সেই শীতের রাতে সবাই জেঁকে বসেছিল আগুনের পাশে।গল্প করছে মন খুলে।একসময় সবার ইচ্ছে হয় একটি গান হলে মন্দ হতো না।
স্যার ডাভোসকে বলা হলো,কিন্তু ওল্ড চ্যাপ অপারগ।বুড়ো বয়সে সুরটা তার ঠিক আসে না।
এর পর ডাক এলো জায়ান্ট মিল্কখোর টরমুন্ডের সে গোঁ গোঁ করে কী যেন শব্দ করল অর্থাৎ সেও পারবে না, এইসব গানে ফানে সে নেই।তাকে দিয়ে যুদ্ধ হয়, গান হয় না।
তখন সবাই অসহায়ভাবে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে, উপায় কী!
তখুনি পডরিক পেইনের কণ্ঠ খুললো,সবাই চমকে তাকালো, নিস্তব্ধতা ভেদ করে পডরিক গানে গানে নিয়ে এলো অনেক বছর আগের এক ভালোবাসার আখ্যানের জন্ম দেওয়া জেনি অব ওল্ডস্টোনসকে।
সবাই তন্ময় হয়ে শুনে সেই অমর সংগীত।
ভারী হয়ে এলো গ্রেট হলের পরিবেশ।অজানা এক পুরোনো শোকে কিংবা এক অদ্ভুত অনুভূতিতে মুহ্যমান হয় সবাই।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!