প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকটেল নো ওয়ান (২০০৬)

সিনেম্যাটিক

টেল নো ওয়ান (২০০৬)

টেল নো ওয়ান  (২০০৬)

Movie name : Tell me no one (2006)

Country : France ***( red spoilers) ****

বিজ্ঞাপন

স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা নিয়ে অসম্ভব রকমের ক্রাইম থ্রিলার ও সাসপেন্স মুভি দেখে নিলাম। বেশ উপভোগ্য একটা মুভি। শিল্প সংস্কৃতির সেক্টরে ফ্রান্সের নিজস্ব ঐতিহ্য আছে। ফ্রান্সের মুভিগুলোর বেশ ভালো। অনেকদিন পর দুর্দান্ত সাসপেন্স ফ্রেঞ্চ মুভি দেখলাম। স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা যে কতটা স্ট্রং হতে পারে যেই স্ট্রং মিথ্যার দেয়ালকে ভেঙে দিতে পারে। মুভিতে সেটাই দেখানো হয়েছে। মুভির প্রতিটা সিকুয়েন্স দুর্দান্ত। মুভিটি নির্মাণ করেছেন গিলাইয়ামে চ্যানেট। সাসপেন্স পিছনে আছে ক্ষমতার অহংকার প্রেম, হত্যা ও ষড়যন্ত্র।।


কখনো এমন সময় আসে যখন সত্য হয়ে যায় বিপদের কারণ। তাই মিথ্যার আড়ালে লুকিয়ে যায় সত্য, আর সত্যের আড়ালে আছে কষ্ট আর ভালবাসা ও নির্ভেজাল আবেগ। মুভির লোকেশন, সেট ডিজাইন আর সাজানো গোছানো সিকুয়েন্স ভালো লাগতে বাধ্য।এই মুভি অনেক কিছু শেখায়। ক্ষমতা আর অহংকার একদিন মাটির সাথে মিশে যায় আর প্রকৃত সত্য উম্মোচন হবেই। সত্যিকারের ভালোবাসাকে আলাদা করা যায় না। একজনের বাবা ভিলেইন আর একজনের বাবা সাধারণ ব্যক্তি কিন্তু দুজনেই বাবা। সন্তানকে বাবা সাপোর্ট দিবেই। ভিলেইন হোক আর সাধারণ হোক।।


মিঃ আলেক্স যিনি মার্গটের স্বামী সেই সাথে একজন জনপ্রিয় শিশু চিকিৎসক। মিসেস মার্গট যাকে নিয়েই আসল কাহানি। মিঃ জাকস যিনি মার্গটের বাবা। রিটায়ার্ড অফিসার। মুভিতে বলতে গেলে মিঃ গিলবার্ট যিনি রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রভাবশালী কিন্তু তার ছেলে ব্রুনো নাম্বার ওয়ান সাইকো। মার্গট নিজের সুরক্ষার জন্য ব্রুনোকে হত্যা করে কারণ ওই পাগলা তার বান্ধবীকে রেপ করে। মার্গটকে হত্যা চেষ্টা করে। তাই নিজের সুরক্ষার জন্য ব্রুনকে হত্যা করে। ব্রুনোর লাশ লুকিয়ে ফেলে মার্গটের বাবা। গিলবার্ট সব জেনেও ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।।


আরেকটা ঘটনা হচ্ছে আলেক্স ও মার্গট নগ্ন হয়ে শুয়েছিলো। হুট করেই হলো বিপদ।মার্গট চলে যাওয়ার সময় করা যেনো মার্গটকে হত্যা করে। আলেক্সকে সন্দেহ করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ আট বছর কেটে যায়। একদিন হুট করেই অফিসে আলেক্স একটা মেইল পায়। মেইলে একটা ভিডিও আর সেই ভিডিওতে তার স্ত্রী মার্গটকে দেখতে পায়। যেই স্ত্রীকে নিজের হাতে সৎকার করেছিলো সে কিভাবে ভিডিওতে এলো। কিভাবে সম্ভব?? হুট করেই সব এলোমেলো।।


মুভিতে আলেক্স এর চরিত্রটা ভালো লাগবে।একজন সাধাসিধে মানুষ হুট করেই সিরিয়াস হয়ে গেলো। নিজের স্ত্রীর হত্যার তদন্ত এইবার নিজে শুরু করলো। সে নিজেও কনফিউজড তার স্ত্রী আসলে কি মৃত নাকি জীবিত। মুভিটার এই কন্সেপ্ট ও ডার্ক সিকুয়েন্স দিয়ে কনফিউশন ও সাসপেন্স সৃষ্টি করে। মুভির ডিরেকশন বেস্ট।।


এদিকে একদল সন্ত্রাসী আলেক্স এর পিছনে লাগে। তারাও হয়ত বুঝতে পারে মার্গটকে নিয়ে ঝামেলা আছে। তারা মিথ্যাকে আরো শক্তিশালী করতে চায় আর আলেক্স সত্যকে আলোর মুখ দেখাতে চায়।প্রকৃত সত্য জানতে চায়।শেষের দশ মিনিট মুভির টার্নিং পয়েন্ট। পুরো পরিবেশ সাসপেন্স দিয়ে ভরপুর হতে শুরু করে। আসলে যা ভেবেছিলাম সেটা হয় নি। অবাক করার মতন।।


আলেক্স ও মার্গট আদর্শ স্বামী স্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করে। মুভিতে তাদের ভালোবাসা ছিলো দেখার মতন। শেষের দৃশ্যটা ভালো লাগবে। মার্গট ও আলেক্স এক সাথে মুখোমুখি। দুজন দুজনকে জড়িয়ে কাঁদছে আর চুমু খাচ্ছে। মৃত মার্গট কিভাবে ফিরে এলো সেটা জানতে পুরো মুভি দেখতে হবে।।


মুভিতে প্রেম ভালোবাসা সেই সাথে বিশ্বাস এবং ত্যাগস্বীকার প্রাধান্য পেয়েছে। গল্প বেশ ভালো তাই হয়ত। অবশ্যই গল্প ভালো। ধনীর পরিবারে আছে ডার্ক সাইট।


স্ত্রীর প্রতি আলেক্সের ভালোবাসা তাকে সত্যান্বেষী করে তুলছে এটাও সিনেমার অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।


মার্গটের চরিত্রটি বেশ রহস্যময়। তিনি ভিকটিমের স্বীকার অথচ ভালোবাসা ও সত্যকে চাপা দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে নিজের জীবন রক্ষা করে। নিজেকে চাপা কষ্টেও রাখে কারণ স্বামীকে শুধুই ভালোবাসে।।

০ মন্তব্য · ৬০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!