প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকমিক্স টেপ (২০২৫)

সিনেম্যাটিক

মিক্স টেপ (২০২৫)

মিক্স টেপ  (২০২৫)

Mix Tape (2025) Country : Ireland & Australia 

Season 01, total Episode : 04

বিজ্ঞাপন

একটি ক্যাসেট আর সেই ক্যাসেটে অসাধারণ সুর যেই মায়াবী সুর একটা সেতুর মতন যেই সেতু সংযোগ করেছে দুটো আবেগী হৃদয়কে। সেই দুটো হৃদয় যেনো এক একটা উদাস ফরিং। তারা রঙিন ফুলের মাঝে হারিয়ে যায়। বাগিচায় বুলবুলি পাখি গান গায়। পুরো হৃদয়টা যেনো নরম মাটির বাগিচা। খুব সুন্দর রোমান্টিক ড্রামা তার চেয়েও বেশি সুন্দর ক্যাসেটের গান। চোখের ভাষা ও মুখের ভাষার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য সৃষ্টি হয়। দুটো ভাষা না বুজলে ভালোবাসার নান্দনিক সৌন্দর্য থাকে না। ভালোবাসা যত গভীর মুখ ও চোখের ভাষার পার্থক্য বাড়বে।।


দুটো চোখে কবিতা ফুটে উঠে। নীরবে নিভৃতে প্রেমিক ও প্রেমিকা দুজন দুজনের কবিতা আবৃত্তি করে আপন মনে। হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মত উপভোগ্য সিরিজ। আসুন বলে দেই করা সেই প্রেমিক প্রেমিকা।।


ইংল্যান্ডের সাজানো গোছানো সুন্দর ছবির মত একটি শহর শেফিল্ড। সময়টা ১৯৮৯ সাল। তখন গান মানেই ফিতাওয়ালা ক্যাসেট যেটা না ভুলে যাওয়ার মতন নস্টালজিয়া। শুধুই কি গান, আড্ডা, গল্প ,প্রেম সেই সময়ের স্কুল কলেজের তরুণ তরুণীদের মধ্যে স্বাভাবিক সুন্দর ব্যাপার।


 একটা পার্টিতে প্রথম দেখা মিস আলিশন আর মিঃ ড্যানিয়েলের। মিস আলিশন কিউট একটা মেয়ে সেই সাথে লাজুক প্রকৃতির। বই তার কাছে প্রকৃত বন্ধু মানে এই মিষ্টি ম্যাডাম বইপোকা টাইপ মেয়ে। বই পড়বে আর হৃদয়টাকে লাইব্রেরি বানাবে।


মিঃ ড্যানিয়েল গানকে অন্তর আত্মা দিয়ে ভক্তি করে। গান গাইতে ভালোবাসে। নিজের গান নিজেই রেকর্ড করে। নিজেই মিক্স টেপ তৈরি করে এক একটা গান যেনো কবিতা গল্পের সংমিশ্রণে এক একটা মহাকাব্য।


মিস আলিশন আর মিঃ ড্যানিয়েল একের অপেরের ।শুধু তাদের হৃদয় একত্র হওয়া মানেই মনি কাঞ্চন যোগ। তাদের মিষ্টি ঘটনা কিছু বলি তাহলে।


একদিন ড্যানিয়েল খুব সখ করে আলিশনকে একটা ক্যাসেট দেয় যেটা নিজের হাতে বানানো ও নিজের কণ্ঠস্বরে মিষ্টি গান। গান বাজতেই আলিশনের চোখে নতুন আবেগময় জগৎ তৈরি হয়ে যায় যেখানে পাখিরাও গান গায় আর গাছের রঙিন ফুলগুলো মুগ্ধ হয়ে শুনে। ড্যানিয়েলের গানের প্রেমে পরে যায়। 


প্রেমকাহিনী শুরু হয় মিক্স টেপের গান শুনা থেকেই, অসম্ভব রকমের মায়াময় প্রেম। স্কুল থেকে পালিয়ে রেললাইনের পাশে বসে গান শোনা, মিষ্টি মিষ্টি ভাষায় খুনশুটিতে মেতে ওঠা। এলেমেলো শীতল বাতাসে একে অপরের দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকা। যৌবনের উঠত বয়সের প্রেম ভালোই চলছিলো। 


সময়টা ভালো।ছিলো কিন্তু সেই সাথে সময় বেশ নিষ্ঠুর ও কৃপণ। সময় বেশি দিন ভালোকে থাকতে দেয় নি। সময় তাদের আলাদা করে দেয়। কিশোর বয়সের সব প্রেম পূর্ণতা পায় না।।


সিরিজের প্রতিটা দৃশ্যে বিশেষ করে তাদের ছোটবেলা ও প্রাপ্ত বয়সের দৃশ্যগুলোর প্রেজেন্টেশন বা চিত্রায়ন ভালো ছিলো। লোকেশন, সেট ডিজাইন,কালার গ্রেডিং আর ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড বেস্ট ছিলো। এই সিরিজের প্রাণ হলো গান। মিষ্টি ভয়েজে গান বেশ ভালো লাগবে এই সিরিজকে মিউজিক্যাল ড্রামা সিরিজ বলা যেতে পারে। জীবন্ত গল্প।।


পেরিয়ে যায় ৩০ বছর পর তখন সময়টা ২০১৫ সাল। ত্রিশ বছর সাক্ষাৎ নেই। একদিন.....


ড্যানিয়েল সেই শেফিল্ডেই থাকেন বিয়ে করেছেন ও এক ছেলের বাবা। মিউজিক নিয়ে কাজ করেন বিশেষ করে মিউজিক সাংবাদিক হিসেবে। প্রেমের পুর্নতা না পেলেও মনের ভিতরে পুরোনো আবেগগুলো বাস্তবতার  দরোজায় হালকা কড়া নারে। চলমান কিন্তু হৃদয়ের এক জায়গায় শুন্যতা আছে।


অন্যদিকে আলিশন সিডনি থাকেন। লেখিকা হিসেবে সফলতা পেয়েছেন। স্বামী আর দুই মেয়েকে নিয়ে সুখী পরিবার। তবুও মাঝে মাঝে মনে পরে ছোটবেলার সেই বন্ধু যার মিক্স টেপের গান শুনে প্রেমের বাগিচায় হারিয়ে গিয়েছিলো। দুজন দুই মেরুতে থাকলেও মনের মেরুতে কাছেই ছিল শুধু ছিলো মাঝখানে কাচের দেয়াল। জীবনের ব্যস্ততায় সেটা ভাঙ্গ হয় নি। সেই ক্যাসেটের মধুর সুর কানে বাজে।।


এখানেও পরিবার প্রাধান্য পেয়েছে। স্বামী স্ত্রী সন্তানদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, খুনশুটি, মান অভিমান প্রাধান্য পেয়েছে। পরিবার দিনশেষে অনেক আপন। অতীত আর পূর্ণতা পায় নাই। 


একদিন অনলাইনে দেখতে পেলো আলিশানকে। অনিচ্ছা স্বত্বেও নক দিলো। কথা হলো, দেখা হলো একজন লেখক, একজন গায়ক। তিরিশ বছর পর দেখা হলো। কি ভাবছেন তারা আবারো মিলে যাবে? না সেটা না, দুজনের কেউ পরিবার ছেড়ে আসতে ইচ্ছুক না, অতীতের প্রেম মানেই ছেড়ে আসা না। কিছু ভালোবাসা পূর্ণতা না পেলেও ভালো লাগা, সম্মান ঠিকই থাকে।।


লেখক হয়ত তার লেখায় পুরোনো প্রেমের কাব্য রচনা করবে আবার গায়ক হয়ত সেই পুরোনো রেকর্ড আবার গাইবে। সিরিজের ফিনিশিং সিম্পল। সিরিজটা এটাই বুঝালো যে প্রেমে পূর্ণতা পেল না কিন্তু জীবনকে এগিয়ে নিতে হলে সংসার সন্তান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। পুরোনো প্রেম জাগ্রত মানেই নিজের পরিবার ছেড়ে আসা নয়। এক্স এর সাথে বিয়ে হয়নি বলে বর্তমান পার্টনারকে ছেড়ে দেওয়ার ঠিক না। মিঃ ডেনিয়েল ও মিস আলিশান দুইজন দুইজনকে বিদায় দেয়। চলে যায় নিজ পরিবারে।।


 পৃথিবীর সব প্রেম একসাথে থাকার জন্য সৃষ্টি হয় না, কিছু প্রেম ও ভালোবাসা শুধু অন্তরে স্থানের জন্যই যথেষ্ট হয়ে থাকে।।


ড্যামিয়েল সিডনির সমুদের পারে বসে আছে হেডফোন সেই মিক্স টেপের গান শুনছে। গান এনে দিলো নোনা জল। চোখ ভেজা।।


মিসেস আলিশন তার নোটবুক বের করলো কিছু একটা লিখছে হয়ত জীবনের পুরাতন উপন্যাস। সেই উপন্যাসে পুরোনো ক্যাসেট এর গান আছে।।


এই সিরিজে দেখে ছোটবেলার কথা মনে পরলো। ছোটবেলায় ফিতা ওয়ালা ক্যাসেটে গান শুনতাম এখন ইউটিউবে শুনি কিন্তু ইউটিউবে ছোটবেলার ফিলিংস কখনও পাবো না।।

০ মন্তব্য · ৪৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!