Movie name: The Captain (2019)
Country : Chaina, * (some spoilers)*
ভয়াবহ মানষিক চাপ, ধৈর্য আর জীবন বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টা নিয়ে দুর্দান্ত থ্রিলার চাইনিজ মুভি। চীনের মুভি ইন্ডাস্ট্রিও অনেক উন্নত।প্লেন দুর্ঘটনা টাইপ মুভি দেখতে ইচ্ছা করলো তাই এই চাইনিজ মুভি দেখে নিলাম। ইমোশন আর থ্রিলিং এ ভরপুর বিশেষ করে প্রেজেন্টেশন অনেক ভালো ছিলো। উপভোগ্য হওয়ার মত সিনেমা। The Captain সিনেমাটি ২০১৮ সালের একটি সত্যি ঘটনা অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছে। চেংডু থেকে লাসা যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে একটি সিচুয়ান এয়ারলাইন্স এর একটি বিমান।।
মুভিতে দেখানো হয়েছে বিমান পরিচালনার ব্যাবস্থা। পাইলট ও এয়ার হোস্টিজরা বিমানে প্রবেশের আগে ও পরে সব কিছু পরিষ্কার ,গুছানো থেকে শুরু করে পরীক্ষা নিরীক্ষা, নিরপত্তা খতিয়ে দেখা হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয় প্লেনটি কোন অবস্থায় কে রকম আছে। আবহওয়া অবস্থা ভালো না,তাই কন্ট্রোল রুমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিসার ও পাইলটরা চিন্তিত। এয়ার লাইন্সের সিস্টেমগুলো থেকে বেশ শেখার আছে।।
সবাই হাসিমুখে প্লেনে প্রবেশ করছে কিন্তু কেউ কি আর জানে যে সেখানে মরণ ফুলের ডালা নিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে রেডি হয়ে আছে দানব মেঘরাশি। কালো মেঘের ভিতরে ঠান্ডা শিলা আর বজ্রের ছড়াছড়ি। যে কোন বিমানের কাছেই এটা পার করতে পারাটা বেশ বেশ চ্যালেঞ্জিং। মেঘের দৃশ্য যখন আসে তখন থ্রিলিং বেড়ে যায় তো যেতেই থাকে। বিপদ শুরু। যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু, ধৈর্য বলে একটা ব্যাপার আছে সেটা সবাই ভুলতে শুরু করেছে।
ঘটনা শুরু যেভাবে, প্লেনটি মেঘের অনেক উপরে দিয়ে যাচ্ছিলো। বাতাসের চাপ এতটাই বেশি যে প্লেনের কাচ ফেটে ভেঙে গিয়েছিলো আর কো পাইলট সামনে ছিটকে যায়। শরীর অর্থেক বাইরে, তীব্র বাতাসে এক চোখ বন্ধ হয়ে যায়। এক হাত দিয়ে পাইলট প্লেন চালাচ্ছে আরেক হাত দিয়ে কো পাইলটকে ধরে রাখে। যে কোন সময়ে প্লেন ক্রাশ করতে পারে। মুভিতে পাইলটের দক্ষতা ও ধৈর্যের প্রশংসা করতে হয়। টান টান উত্তেজনা।।
একজন পাইলটের কাজ শুধুই প্লেন চালানো না, অনেক মানুষের জীবনও তার হাতে। বিপদের সময় একজন দক্ষ পাইলট পারে যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে। তবে প্রকৃতি যখন হিংস্র হয়, তখন প্লেন নিয়ে নিরাপদে ল্যান্ড করা মানে মৃত্যুকে ফাঁকি দেওয়া, যেটা খুব কঠিন কাজ। বিপদের সময়ে কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেজ এর সাথে যাত্রীদের মেন্টাল এডজাস্টমেন্ট সমন্বয়, পারস্পরিক সাপোর্ট ও একতা বেশ প্রয়োজন।।
এই মুভি আপনাকে শিখাবে জীবনে যে কোন সময়ে যেকোন কিছু হয়ে যেতে পারে। বিপদে ধৈর্য রাখতে হয়। বিপদের সময়ে একজন পাইলটের কি পরিমাণ মানসিক চাপ থাকে, সেটা এই মুভি প্রাক্টিক্যালি দেখিয়ে দিয়েছে। পাইলটকে হতে হবে শান্ত ও ধৈর্যশীল সেই সাথে বুদ্ধিমত্তা ও ঝুঁকি নেওয়ার সাহস। নো রিস্ক নো গেইন। ভাগ্য ভালো হলে ঝুঁকি সফলতা আনবেই।।
মুভির গ্রাফিক্স বা ভিএফএক্স ছিলো দুর্দান্ত যেটা চোখের প্রশান্তি এনে দেয়, মানে উপভোগ্য করে তুলে। মনে হবে জীবন্ত সব কিছু। সাউন্ড সিস্টেম ও কালার এডজাস্টমেন্ট ভালো যেটা সিনেমার আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিরেকশন খারাপ না। বাস্তব জীবনে চলার পথে বাধা আসবে সেই বাধা জয় করতে হয় নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যেভাবে পাইলট অনেক কষ্টে বাঁচিয়েছিলো প্লেনের যাত্রীদের। পাইলট দিন শেষে গিয়ে গেলো জনগণের হিরো।
মুভিটি সবার ভালো নাও লাগতে পারে। ভয়ংকর বাস্তব দুর্যোগ থেকে বেঁচে ফেরার গল্প পছন্দ যাদের ভালো লাগে তাহলে এটা দেখতে পারেন। সেই সাথে জীবনে চলার পথে লিডারশিপ, টিমওয়ার্ক ও প্রাকটিক্যাল ওয়ার্কিং টাইপ নিয়ে আগ্রহ থাকলে চিনের এই বাস্তবধর্মী মুভি দেখতে পারেন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!