Movie name: 22 Bullets (2010)
Country: France *(some spoilers)*
বাইশটা গুলি খেয়েও মৃত্যুর দেখা নেই। মৃত্যু হয়তো তাকে বরণ করতে চায় না। মৃত্যু শুধু এড়িয়ে যায় বার বার। মিঃ চার্লি মাটিয়েকে বাইশটা বুলেট দিয়ে গুলি করা হয় কিন্তু মৃতুকে করছেন তিনি জয়। হাসপাতালে তার অপারেশন করার সময় একে একে বাইশটা গুলি বের করা হয়। দুর্দান্ত সেই দুর্দান্ত এই ফ্রেঞ্চ ড্রামা অ্যাকশন, ও থ্রিলার মুভি। মন জুড়িয়ে যাওয়ার মতন উপভোগ্য।যেমন স্ট্রং গল্প তেমনি টান টান উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাকশন।।
মূল ঘটনা:
মিঃ চার্লি ম্যাটিও ছিলেন এক সময়ের গড ফাদার ক্রিমিনাল। তার আধিপত্য ছিলো অনেক সেই সাথে তার অনেক অনুসারীও ছিলো। তার কাছের পার্টনার ছিলো টনি জাকিয়া সেও অনেক বড় মাফিয়া গ্যাং লিডার। ক্ষমতা লোভী।দুই জনে মাফিয়া আর বিজেনস পার্টনার। মিঃ চার্লি অপরাধ জগৎ ছেড়ে দেয়। ভালো হতে চায়। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভালো ভাবে থাকতে চায় কিন্তু নিষ্ঠুর সমাজ ভালো হতে দেয় না। অপরাধ জগতে আশা যায় কিন্তু যাওয়া নাকি যায় না। টনি জাকিয়া নিষ্ঠুর আর হিংসুটে। তার ধারণা চার্লি বেঁচে থাকলে তার আধিপত্য থাকবে না। তার অনুসারীরা তার ভক্ত হয়েই থাকবে।তাই পুরো গ্যাং নিয়ে চার্লি কে বাইশটা গুলি করে কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়।।
মুভির ডিরেনশন বেশ ভালো। লোকেশন ও বেস্ট। অ্যাকশন সিকুয়েন্স গুলো ভালো ছিলো। ঠান্ডা মাথায় ও ধৈর্যের সাথে মধুর প্রতিশোধের দৃশ্যগুলো থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। এছাড়া পুলিশ ও চার্লির মধ্যে গাড়ি চেজ ভালোই লেগেছিলো। চার্লির সেন্স অফ হিউমার বেশ ভালো লাগবে। তার সাহসিকতা ধৈর্য আর ঠান্ডা মাথায় কৌশলী প্রতিশোধ সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্সকে স্টাইলিস্ট করে তুলেছে। তার চোখের দৃষ্টি আর চোখে চোখ রেখে কথা বলার স্মার্টনেস দেখার মতন।ড্রামা ও থ্রিলার দুটোর মিশ্রণ দিয়ে ডিরেক্টরের প্রেজেন্টেশন বেশ দুর্দান্ত।
বেশির ভাগ খারাপ মানুষ ভালো হতে চায়। অপরাধ জগতটা ছেড়ে পরিবার নিয়ে ভালো জীবন যাপন করতে কিন্তু সেটা সহজে পসিবল হয় না। ক্ষমা ও অপরাধ দুটোর কন্সেপ্ট বেশ স্ট্রং ছিলো মুভিতে। একজন অপরাধী হতে গেলে তার পুরনো বন্ধুরা তখন হয়ে যায় শত্রু। অতীত পিছু ছাড়ে না। পুরোনো বন্ধু হয়ে যায় বেঈমান। শত্রু বেঈমান আর পুলিশের আইন এই তিনটা দিক খুব ধৈর্যের সাথে সামলাতে হয়।।
মিঃ চার্লি হতে চেয়েছিলো ভালো কিন্তু আগের চেয়ে হলো আরো বেশি এগ্রেসিভ। জিয়ান রেনো খুব ভালো অভিনয় করেছেন। তার অভিব্যক্তি ও চোখের জটিল ভাষা একজন অনুশোচনা ও প্রতিশোধপরায়ণ মানুষদের প্রতিনিধিত্ব করে। মার্সেই শহরটাকে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে অপরাধ প্রবণতা হয়েই থাকে। প্রতিশোধ নেওয়ার পর হয়তো এলোমেলো শহরটি শান্ত হবে।।
মুভিতে মূল ভিলেইন ছিলো টপ মাফিয়া টনি জাকিয়া।তার পাগলামো ও হিংস্রতা ভালো লাগবে, মনে হবে প্রাফেক্ট হিংস্র ও সাইকো মাফিয়া। সমানে সমানে লড়াই চলতে থাকে। একটা কথা মনে রাখা উচিত, বনের সিংহ জঙ্গল ছেড়ে চলে যাওয়া মানে এই না যে, তার যৌলোস, হিংস্রতা ছেড়ে দিয়েছে , আঘাত করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। সেগুলো সব আছে। চার্লি অস্ত্র জমা দিয়ছে ট্রেইনিং জমা দেয় নি। সিংহ সব সময় সিংহই থাকে সেই বনেই থাকুক আর লোকালয়ে থাকুক। চার্লি হলো সেই সিংহ।।
মিঃ চার্লিকে গুলি করার দৃশ্যটা বেশ ভায়োলেন্স ছিলো। গাড়ির গ্যারাজে ছিলো চার্লি। হুট করেই এক ঝাঁক গুলি করা হলো। বাইশটা গুলি তার শরীরে লাগে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। পুলিশ অফিসার মিসেস ম্যারি গোল্ডম্যান তদন্তের চেষ্টা করছেন। উনার রোলটাও গুরুত্বপূর্ণ।সিনেমায় বন্ধু ও শত্রুর সঙ্গা পাল্টে যেতে থাকে।।
যারা অ্যাকশন ও রিভেঞ্জ ড্রামা পছন্দ করেন আর জিয়ান রেনো ভক্ত তাদের জন্য এই মুভি মাস্ট ওয়াচ।।
*** সমাজের কোন খারাপ মানুষ ভালো হলে তার পাশে থাকা ও মনস্তাত্বিক সাপোর্ট দেওয়া কর্তব্য।।
*** সবল যদি দুর্বল হয় ভেবে নিবেন না যে তিনি অচল হয়ে গিয়েছেন।।
*** ক্ষমার সুযোগ না দিলে না দিবেন, কিন্তু বেইমানি ও হিংসা পরিহার করা কর্তব্য।।
*** অপরাধ জগতের দরজাগুলো বন্ধ হবে না কিন্তু ফেরার পথ সহজ করা উচিত। কেই বা জানে একদিন কেউ বলবে আমি ভালো হতে চাই।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!