Movie name: Import Export
Country : Austria
খুব স্লো একটা আর্ট ড্রামা মুভি দেখলাম। মুভিতে শুধুই প্রবাহমান জীবনের গল্প। নেই কোন মিউজিক, নেই থ্রিলার বা অ্যাকশন শুধুই জীবনের কষ্টের নীরবতা। জীবন ও জীবিকা দুটোর মধ্যে আছে দীর্ঘশ্বাস, হতাশা আর অর্থের বাস্তব কষ্ট। শুধুই কষ্টের হাসি। আনন্দের হাসি হয়ত মুখে আসে না। জীবন মানেই মেন্টালি ও ফিজিক্যালি যুদ্ধ। নিজ দেশে শান্তি নেই আবার শান্তি থাকলেও অর্থের অভাব। অভাব এক ধরনের উই পোকা যেটা মানষিক শান্তিকে কুচ কুচ করে কেটে ফেলে।।
Export : জীবনে শুধুই কষ্ট করেই গেলাম।
Import : জীবনে পেলাম শুধুই বঞ্চনা।
মুভির মূল কনসেপ্ট অনেকটা এটাই। মানুষ পেটের দায়ে বিদেশে যায় আবার এমন হয় বিদেশ থেকে কেউ দেশে চলে আসতেছে। জীবন যুদ্ধ ও উপার্জনের সর্বচেষ্টা নৈতিকতার সাথে যুদ্ধ, অচেনা অজানা দেশের পরিবেশের সাথে নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াই দেখানো হয়েছে। খুব ধীর ও নিস্তব্ধতার সাথে প্রেজেন্ট করা হয়েছে। জীবনের বাস্তবতার আয়নাতে নিজের মুখটাও দেখে নিলাম কারণ আমিও জীবন যোদ্ধা। জীবন মানেই যন্ত্রণা ও কষ্ট।
অস্ট্রিয়া দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বেশ ভালো বলা যায় বিশেষ করে তারা ভালো আর্ট ড্রামা বানাতে পারে। তাদের সংস্কৃতি ও ভালো গল্প বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পায়।আসুন মুভির দুজন প্রধান চরিত্র নিয়ে কথা বলি যাদের কষ্টের যাযাবর টাইপ জীবনের গল্প। ভিন দেশে হয়ত অর্থ কম বেশি আছে কিন্তু আত্মার শান্তি নেই। মিসেস ওলগা ও মিঃ পাউল। তবে দুজন ভিন্ন চরিত্র সেই সাথে তাদের জীবনের গল্প স্বতন্ত্র। কোন যোগসূত্র বা সম্পর্কের চরিত্র নেই। শুধুই নীরব ড্রামা।।
****** মিস ওলগা ******
মিস ওলগা ইউক্রেনে থাকেন। পেশায় একজন নার্স কিন্তু শরীর ও মনের সম্মান কোথাও নেই। নিজের ইউক্রেনের দেশে চাকরি হাহাকার। সেপারেটেড কিন্তু বাচ্চা ও মায়ের ভরপোষণ করতে হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত উপার্জনের জন্য অস্ট্রিয়াতে চলে আসে। শুরুতে অনলাইন পর্ন ওয়েবসাইডে কাজ করলেও পরে বৃদ্ধাশ্রমে নার্সের কাজ নিয়ে নেয় কিন্তু মেন্টালি খুশি হতে পারছেনা। অন্তরটা যেনো শেকলে বন্দী। অনেক আশা নিয়ে গেলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। দেশ ত্যাগ তার জন্য খুব একটা সুখকর হলো না।
******* মিঃ পাউল *******
মিঃ পাউল অস্ট্রিয়াতে থাকেন। চাকুরীর জন্য তিনি ইউক্রেনে আর ইউক্রেন থেকে রাশিয়া থেকে থেকে ভ্রমণ করেন জীবনের গল্পের বাস্তবরূপ দেখতে থাকেন। ফেস করতে থাকেন মানুষের দেওয়া কষ্ট ও বঞ্চনা। অস্ট্রিয়াতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকুরী করলেও পরে সৎ পিতার সঙ্গে বিভিন্ন অশ্লীল গেম মেশিন ব্যবসায় জড়িয়ে পরে যান। কি আর করার। অভাবে বিবেক নষ্ট।অন্তরে শুধুই হতাশা ও নিজের জীবনের প্রতি ঘৃণা ছাড়া আর কি বা আছে। কাজ ও অর্থের সন্ধানে যাযাবরের মত এক দেশ থেকে আরেক দেশ যাচ্ছে কিন্তু জীবনের সব সরল অংকের সমাধান নেই। ঘুরতে ঘুরতে নিজের অস্তিত্ব ভুলতে বসেছে। হয়ত এভাবেই চলবে।।
এই দুজনের জীবন নিয়ে সিনেমার মূল কাহানি হলেও দুটো চরিত্রের মধ্যে কোন সম্পর্ক ছিলো না। কোন ডায়ালগ তাদের মধ্যে নেই,হবেই কি করে তারা কখনও মুখোমুখি হয় নি। যার যার জীবন যুদ্ধ নিয়ে লড়তে ব্যস্ত। শুন্যতা ইমোর্টের বিপরীতে অনেক শ্রম, কষ্ট আর শরীর বিলিয়ে দিতে ব্যস্ত। মুখোশের আড়ালে ভালো মানুষ সমাজে বেশি বলেই এই অবস্থা।
আমরা অনেকেই উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে চলে যাই। সেখানে যতই ভালো থাকি না কেনো মনের মাঝে স্বাধীনতার স্বাদ নেই।মনের মধ্যে খুব বেশি আনন্দ থাকে না। মনের মধ্যে এক ধরনের শুন্যতা আশ্রয় নেয়। আবার যদি বিদেশে গিয়েও অবস্থা ভালো না হয় তাহলে তো কষ্টের কোন লিমিট থাকে না। অনেকেই আবার দেশে ফিরে আসে। নিজ দেশের মধ্যে নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকেলও যদি কাজের সংস্থান না হয় তখন নিজ দেশ পর পর মনে হয়।
এক্সপোর্ট ইমপোর্ট দিয়ে এই ফিলোসফি বুঝায় সেটা হলো শ্রম মেধা দিয়ে দিলাম। ভালো কিছুর আশায়। বিনিময়ে ইমপোর্ট করি বা গ্রহণ করি মনুষের দেওয়া উপহাস ও কষ্ট। এটাই জীবন। মিস ওলগা নিজ দেশে ছেড়ে বিদেশে গেলো বিনিময়ে শরীর ও মনের অসম্মান ছাড়া কিছু পাইনি। অন্যদিকে মিঃ পাউল নিজে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে দেশে ঘুরে ফিরলেও বিনিময়ে তেমন কোন কাজ পেলো না। মানুষের অপহাস পেয়েছে শুধু।।
মুভিটি দেখতে কিন্তু বোরিং লাগাতে পারে কারণ পুরোটাই স্থির ড্রামা। বেশ স্লো। শুধুই জীবনের গল্প। একটা নান্দনিক আর্ট বলা যায়। সিনেমার ডিরেক্টর শুধুই জীবনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন। তুলে ধুরছেন বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সেই সাথে জীবন ও জীবিকার মধ্যে দুরত্ব।
সিনেমায় প্রচুর নগ্নতা আছে যেটা হয়ত জীবনেরই একটা অংশ। সিকুয়েন্স খুব স্থীর। সিনেমা দেখার পর মনে মনে ভাবছি এরকম কষ্ট যাতে জীবনে না আসে। এমন কষ্ট না আসুক যেটা মুখের হাসি কেড়ে নেয়।অভাব দারিদ্র্য থাকবে কিন্তু মুখের মধ্যে যে হাসি আছে সেটা ভুলে যেতে দেওয়াটা ঠিক না। মিস ওলগা ও মিঃ পাউল মন থেকে হাসতে হয়ত ভুলে গিয়েছে।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!