প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকউৎসব (২০২৫)

সিনেম্যাটিক

উৎসব (২০২৫)

উৎসব  (২০২৫)

Movie name : Utshob (2025)

Country: Bangladesh 💕 

বিজ্ঞাপন

একটা সিনেমা এতটা জীবনমুখী কি করে হয় ?? জীবনটাকে চাইলে মন থেকে আসলেই অনেক সুন্দর ও সহজ করা যায়। এতো অসাধারণ ও মনোমুগ্ধকর বাংলাদেশী সিনেমা বহু বছর পর দেখলাম। এতো সুন্দর, এতো সুন্দর আর এতো অসাধারণ ড্রামা মুভি আমাদের বাংলাদেশে নির্মিত হতে পারে ভাবতেই আনন্দ হচ্ছে। এর চেয়ে ভালো কমেডি ড্রামা মুভি এত সহজে হতেই পারে না। জীবনের অনেক রং আমাদের মাঝে আছে কিন্তু কেনো যেনো সেই রঙের খোজ আমরা করেও করি না। বুঝতে পারলেও অনেক সময় বুঝতে পারি না।নিজেরটাও না আবার অন্যের টাও না। তবে অন্যের মনের সঠিক রঙ বুঝতে পারাটা এক ধরনের মনের উৎসব।।


জীবনে ভুলে যাওয়া খন্ড খন্ড গল্প গুলো হুট করেই চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। মনের অবচেতন মন তিন রূপে, তিন মানব রূপে এক নর ও দুই রমণী রূপে জাহাঙ্গীরের সামনে জীবনের কিছু না বুঝার রং নিয়ে হাজির হয়। মনের মধ্যে যে আনন্দ বলে একটা ব্যাপার আছে সেটাই আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। জাহাঙ্গীরও তাই। জীবনের জটিল হিসাবগুলো করতে করতে একটু বেশি হিসাবী হয়ে উঠে। বেশি হিসাবী মানে আবেগ অনুভূতি গুলো পাথুরে হয়ে যাওয়া। এখন সেই পাথর ভাঙার সময়।।


অতীত , বর্তমান ও ভবিষ্যতের তিন দরজায় দিয়ে জাহাঙ্গীর দেখলো চারপাশের মানুষকে অনেক কিছু দেওয়া আছে। টাকা পয়সা না, উৎসব দেওয়ার আছে। উৎসব মানেই বড় কিছু না। উৎসব হলো মুখের সাধারণ নির্ভেজাল হাসি যেটা চারপাশের মানুষের দিকে তাকিয়ে হাসলেই হয়। আসলেই নিয়ত শুদ্ধ থাকলে পরিবর্তন হতে সময় লাগে না। সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্স ভালো ছিলো বিশেষ করে সেট ডিজাইন বেস্ট। নব্বই দশক ও বর্তমান দশক দুটোর সেট ডিজাইন ভালো ছিলো।


সাদিয়া আয়মান ভালোই অভিনয় করেছে সেই সাথে সৌমো। জাহিদ হাসান আসলে দেখিয়ে দিলো অভিনয় কাকে বলে কত প্রকার। জাত অভিনেতা।উৎসব সিনেমার এই খাইষ্টা জাহাঙ্গীরের চরিত্র একটা ইতিহাস হয়ে থাকবে। অনুপ্রাণিত হয়ে থাকবে জাতীয় পুরষ্কার পাওয়া উচিত।।


বন্ধন জীবনের অনেক কিছু। পরিবার, আত্মীয় ও সামাজিক বন্ধন থেকে দূরে থাকার মধ্যে শূন্যতাই বেশি। পারিবারিক বন্ধন যদিও ভাঙ্গে সেখানে সম্মান রাখা উচিত জেসমিন যেটা করেছে। মেয়ের বাবার সঠিক পরিচয় রেখেছে। জাহাঙ্গীর দিন শেষে ভাতিজা ভাইগনাকে কাছে টেনে নিয়েছে। বন্ধন এক ধরনের সত্যিকারের উৎসব। উৎসব একক ভাবে হয় না। মিলেমিশেই উৎসব।


চোখের মধ্যে এক একটা আবেগ আপনাকে যথেষ্ট ইমোশনাল করে দিবে। মুভিতে আবেগ, ভালোবাসার পাগলামি, ভুল এবং উপলদ্ধি সব কন্সেপ্টই আছে। নব্বই দশকের ছেলে মেয়েদের এই সিনেমা আলাদা একটা প্রশান্তি এনে দিবে। নস্টালজিয়া ফ্যাক্ট।।


অন্তরে যখনই ঘুমন্ত মানুষটা জাগ্রত হবে তখনই তার মধ্যে আসে বিশাল চারিত্রিক পরিবর্তন। সিনেমায় সবচেয়ে ভালো লাগা বিষয় হচ্ছে গল্প। অসাধারণ একটা গল্প, যেই গল্প আমাদের মনের কথা বলে, কষ্টের কথা বলে, বিচ্ছেদ ও বন্ধনের কথা বলে। ভাগ্য যেরকম হোক না কেনো কষ্ট করে মানিয়ে নিতে পারলে সুন্দর। জেসমিন ও জাহাঙ্গীরের বিচ্ছেদটা ভালো না লাগতে পারে কিন্তু এই বিচ্ছেদ হয়ত অনেক আবেগ অনুভতির পরিবর্তন এনেছে। বিচ্ছেদ না হলে হয়ত পরিবর্তনের সৌন্দর্য থাকতো না। এটাই ভাগ্য। আমার মত নব্বই দশকের যাদের জন্ম তাদের কাছে এই সিনেমা একটা রত্ন, একটা ভালোবাসা, একটা অপূরণীয় আবেগ।।


ঢাকার সংস্কৃতি খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুধুই ঢাকা নয় আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক তুলে ধরা হয়েছে। নব্বই দশক মানেই ব্যাসিক ইনস্টিক থেকে শুরু করে দিল ডিডিএলজে। সেই ক্যাসেটে ভিসিআর এর কথা মনে পড়ে গেলো। কতই না আবেগ জড়িত। ঈদের আগে ঢাকার অনেক এলাকায় আনন্দের বৃষ্টি ঝরে যেতো। ছাদের উপরে রমাজনের ওই রোজার শেষে গান,আড্ডা কুশল বিনিময় এই গুলো ছিলো কমন ব্যাপার। একটা আর্ট। এই অসাধারণ সংস্কৃতি আজ নেটের চাপে চাপা পড়ে আছে। পরিচালক তামিম নুর অসাধারণ ভাবে এই সৌন্দর্যকে পুনর্জীবিত করেছেন।।


অভিনয়ের কথা কি বলবো। ছোটবেলায় যাদের অভিনয় দেখে বড় হয়েছি তাদের আবার দেখতে পেলাম। জাহিদ হাসান থেকে শুরু করে চঞ্চল চৌধুরী, অপি করিম, জয়া আর এই যুগের সাদিয়া আয়মান আর সৌম। আফসানা মিমি কেও অনেক দিন পর দেখলাম। সবার অভিনয় খুব ভালো ছিলো। আলাদা করে কারো প্রশংসা করতে চাই না। সবার এক্সপ্রেশন ও ডায়লগ বেশ আকর্ষনীয় ছিলো। এই সিনেমা দেখিয়ে দিলো জীবনে ভুল থাকবেই আর সেই ভুল হয়ত নতুন পথ দেখাবে।।


সিনেমার গান গুলো হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতন। বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। সিনেমার খাইশটা জাহাঙ্গীরের পরিবর্তন থেকেও আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। পুরো সিনেমাই ভালো লেগেছে। তবে জেসমিন ও জাহাঙ্গীরের বিচ্ছেদের বহু বছর পর এক সাথে দেখা করটা ভালো লাগবে। তবে নিজের মেয়ে আছে এটা জানার পর বাবা মেয়ের প্রথম দেখা ও তাদের গল্প আপনাকে কাদাতেও পারে। বেশ বেশ ইমোশনাল। সুনেরাহ এর ইমোশন খারাপ ছিল না। ভালোই।।


সিনেমা উৎসব করতে শেখায়। উৎসবকে চারিদিক ছড়িয়ে দিতে হয়। আনন্দের ফেরিওয়ালা হতে হয়। অন্যের হৃদয়ে মাঝে মাঝে অনন্দ খুঁজে নিতে হয়। ক্ষমা একটি নান্দনিক সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যের চর্চা কেন আমরা করি না?? তানিম নূরের এই সিনেমা একটি জীবন্ত সাহিত্য বলা যায়। সবাই যদি নিজের ভুল স্বীকার করে আর ভুল থেকে যদি শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে জীবন বদলানো সম্ভব।।


উৎসব মুভিটি চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত উপন্যাস A Christmas Carol থেকে অনুপ্রাণিত। ডিরেক্টর তামিম নুর সেই গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালির ঈদ ঢুকিয়েছেন সেই সাথে বাংলা ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি।।

A Christmas Carol এ মুখ্য চরিত্রে ছিলো মিঃ এবেনিজার যিনি একজন একজন কৃপণ ও হৃদয়হীন মানুষ। এক ক্রিসমাসের রাতে তিনটি ভূতের মুখোমুখি হয় অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত।


উৎসব সিনেমায়ও জাহিদ হাসান ওরফে জাহাঙ্গীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মাঝে নিজের আকা বাকা জীবনের স্বচ্ছ আয়না দেখে ফেলে। আমাদের প্রাণের উৎসব ঈদ আর বাংলার সামাজিক ও পারিবারিক সংস্কৃতি গুরুত্ব পেয়েছে।।

 

দর্শন ও সাইকোলজি কন্সেপ্ট গুলো বিদেশী মুভি বা সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত হলেও প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বাঙালা ও বাঙ্গালী। খাটি বাঙালিয়ানা। এটা আমাদের ছবি। এটা বাংলাদেশের ছবি। নব্বই দশকের ছেলে মেয়েদের কাছে এই সিনেমা আলাদা একটা ইমোশন হয়ে থাকবে।।


My rating: 09/10

০ মন্তব্য · ৪৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!