প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকএমেলি (২০০১)

সিনেম্যাটিক

এমেলি (২০০১)

এমেলি  (২০০১)

Movie name : Amelie (2001)

Country: France *(some spoilers)*

বিজ্ঞাপন

অসাধারণ একটা ফ্রেঞ্চ ড্রামা কমেডি মুভি। মন ভালো করার মত ড্রামা আছে যেই ড্রামা জীবনের রঙিন ও সাদাকালো আঁকাবাকা উঁচুনিচু পথ চলাগুলো তুলে ধরে।সিনেমার অনেক সিকুয়েন্স আপনাকে হাসাবে যেই হাসি মনের ভিতর থেকে আসবে। জীবনটা অনেক ছোট কিন্তু তার শ্রেষ্ঠ কর্মফলগুলো অনেক বৃহৎ যার কোন সীমারেখা হয় না। নিজের বাগানে প্রশান্তির বসন্ত না এলেও অন্যের হৃদয়ের বাগানে ফুল ফুটানোর মধ্যেও অনেক প্রশান্তি ও আনন্দ আছে। মিস অ্যামিলি হয়ত সেই ফুল ফুটানোর কাজে ব্যস্ত। অন্যের চোখে মুখে আনন্দের হাসি দেখাই তার কঠিন নেশা। এটাই তার চুরান্ত সেটিসফেকশন।।


জীবনটা রংধনুর মত রঙিন সুন্দর হলেও সেটা হুট করে মিলিয়ে যায়। জীবনের বিশেষ আনন্দ গুলো হয়ত এরকমই হয়। আসে চলে যায়। এটাই জীবন। আনন্দ একটা মনস্তাত্বিক চাহিদা। নিজের মধ্যে তখনই পরিপূর্ণ আনন্দ আসে যখন অন্যের আনন্দের সহজ সরল ভাষা গুলো আমরা পড়তে ও উপলদ্ধি করতে পারি। মিস অ্যামিলি সেই ভাষা পড়তে চান মানে অন্যের মুখে আনন্দের হাসি ফুটাতে চান বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে বা উপকার করে।।


সিনেমার গল্প অসাধারণ সেই সাথে ক্যামেরার কাজের প্রশংসা করতে হয়। সিনেমার লোকেশন,কালার ,সাউন্ড বা মিউজিক বেশ ভালো ছিলো। বিশেষ করে করে এক একটা চরিত্রের মুড বা এক্সপ্রেশন গুলো খুব দক্ষতার সাথে বিভিন্ন রঙে বিভিন্ন ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে যেটা সিনেমাকে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে। জীবন্ত আর্ট বলা যেতে পারে। সিনেমায় আছে একাকিত্ব, আছে ভালোবাসা আছে অভিমান ও অনুভূতি।।


মিস অ্যামেলি ফ্রান্সের প্যারিস শহরে থাকে। মেয়েটার মুখে হাসি থেকেই সেই সাথে বেশ লাজুক প্রকৃতির তবে তার কল্পনার বিস্তৃত অনেক। কল্পনা, আবেগ ও ইচ্ছাশক্তি এই তিনটা জিনিষ তার মধ্যে ভালোই রয়েছে। ছোটবেলায় তার মা কে হারানোর পর অনেকটাই এক হয়ে যান। তার বাবা তার মধ্যে কিছুটা পাগলা টাইপ। শৈশবটা খুব একটা আনন্দ পায় নি। নিঃসঙ্গটা তার নীরব সঙ্গী। তাই নিজের আনন্দ খুঁজে নেন অন্যের মনের আনন্দের মধ্যে। হয়ত এই কারণেই কল্পনাপ্রবণ মিস অ্যামিলি।।


 একদিন সে তার রুমের দেওয়ালের ভিতরে একটি পুরনো টিনের বাক্সে পায় যেখানে একটা ছোট ছেলের পুরনো কিছু খেলনা আর ছবি পায়। হুট করে মাথায় এলো সেই ছেলেটিকে খুঁজে বের করবে আর এটা দিয়ে দিবে। অনেক রিসার্চ করে খোজ খবর নিয়ে অবশেষে খুঁজে পেলো আর লুকিয়ে দিয়ে দিলো। দেখা দিলো না।লোকটির এক্সপ্রেশন দেখে বেশ ইমোশনাল হয়ে গেলো মিস অ্যামিলি। সে চিন্তা করলো অন্যকে গোপনে খুশি করার মধ্যে এতো আনন্দ। তাই এইবার সে গোপনে আনন্দের খোজ করতে লাগলো। কোথায় আনন্দ আছে।


আর কি কি করলো????

এক বয়স্ক লোককে স্ত্রীর ভান করে চিঠি দিয়ে তার মনে প্রশান্তি আনলো। প্রতিবেশী প্রবীণ পেইন্টারকে তার রংতুলির কাজে উৎসাহ দেওয়া। এক অন্ধ লোককে রাস্তা পার করতে করতে হৃদয়ের আনন্দের নয়ন স্থাপন করা । দোকানদারের সহকারীর আত্মবিশ্বাস আনার চেষ্টা করা। অন্যকে আনন্দ দিয়ে নিজে আনন্দ পায় যদিও তার হৃদয়টা একাকিত্ব ও শূন্যতায় ভরপুর। স্বার্থ কি জিনিষ সেটা হয়তো জানে না। শুধু দামী হাসি দিতেই জানে। এভাবে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে, থাকে না আর বদ্ধ ঘরে,দেখে শুধু জগতটাকে। 


এই সিকুয়েন্স গুলো ইমোশনাল হওয়ার মতন। ড্রামার মধ্যে যেনো একটা গর্জিয়াস আর্ট আছে, আবেগ আছে, নতুন আশা জাগানো আছে,প্রেম আছে। প্রেমে পরে যায় এক ছবি সংগ্রহকারীকে যে কিনা কুড়িয়ে পাওয়া ছবি সংগ্রহ করেন। দুজনের মনের গন্তব্য বা আকাঙ্ক্ষা হয়তো এক ও অভিন্ন। ভালো লাগবে,শুধুই ভালো লাগবে। অনেক ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর দুজনের দেখা। চুমু দিয়ে ভালোবাসা শুরু হয়ত এর শেষ হবে না মৃত্যু পর্যন্ত।।


সেক্সুয়ালিটি ও নগ্নতা আছে সেটাও ভালো লাগবে কারণ গল্প বা প্লট সেই সাথে রং বেরঙে সাজানো প্যারিস শহরটাকেও ভালো লাগবে। ডিরেক্টর বুঝতে দিলো জাদুর একটা শিপ্লের শহর। সেখানে মিস অ্যামিলির মত অনেক জাদুকর আছে চিপায় চাপায়। জীবনটা আসলেই বিউটিফুল।।


জীবনে সাহস নিয়ে ছোট ছোট ভালো কাজ করলে জীবন আর আনন্দময় হয়। নিজের অনেক চাপা কষ্ট থেকে চাপমুক্ত থাকা যায়। এটা সিনেমা নয় এটা একটা জীবন্ত স্বপ্নের বাস্তব আবেগ মিশ্রিত রূপ। এই অ্যামিলির চরিত্র আমাদের বাস্তবে চলার পথে উৎসাহ দিবে। এই অ্যামিলির চরিত্র একটা আনন্দের ফেরিওয়ালা যে আনন্দ ফেরি করে আনন্দ বিনামূল্যে দিয়ে যাবে।।

০ মন্তব্য · ৪৭ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!