প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকআই এম নট এংরি (২০১৪)

সিনেম্যাটিক

আই এম নট এংরি (২০১৪)

আই এম নট এংরি  (২০১৪)

***স্পয়লার এলার্ট***

I'm Not Angry! (2014)

বিজ্ঞাপন

একটা ইয়াং পোলা সারাক্ষণ রেগে থাকে। অথচ সিনেমার নাম ‘আই অ্যাম নট অ্যাংরি!’। এইটা কিছু হইলো। আসলে এইখানেই আসল মজা। যে ছেলেটা রাগ হয়ে আছে, সে রাগী টোনে সবাইকে বলতেছে, ‘আমি রাগ করি নাই! আমি রাগ করি নাই!’। মজার ব্যাপার হইতেছে আমাদের সবার জীবনেই এমন হয়, না? আমরা আসলে রাগ করি, কিন্তু মুখে বলি, 'না, সব ঠিক আছে, আমি রাগ করি নাই।'


পোলাটা খুবই সাধারণ। ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। হঠাৎ একদিন বিনা নোটিসে তারে ইউনিভার্সিটি থেকে বের করে দিলো। কারণ সে নাকি রাজনীতি করতো। অথচ তার অপরাধটা কী, সেইটাই পরিষ্কার না। আমাদের দেশেও এমন হয়। আর এসব কারণে হঠাৎ করেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। সো, এই ঘটনার কারণে সে ভালো চাকরি পাচ্ছিলো না। হতাশায় ডুবে যাচ্ছিলো।


এদিকে সেতারা নামের রেজার একটা প্রেমিকা আছে। সেতারা অসুস্থ, তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার। এই টাকাটা জোগাড় করতে পারছে না রেজা। বাংলা সিনেমার মতো রক্ত বেঁচে তো আর জীবন চলে যায়। রেজা বেচারা ভালোবাসার মানুষটার জন্য কিছু করতে না পারার যন্ত্রণায় একদম অসহায়। এই অসহায় ফিলটা আমি ফিল করতে পারি খুব ভালোবাসবে। আমি শিওর আপনারা অনেকেই কানেক্ট করতে পারবেন নিজের কোনো একটা সিচুয়েশনের সাথে।


ছেলেটার মাথায় হুট করে তার বন্ধু নাসিরের কথা মন পড়ে। নাসির মূলত একজন আন্ডারগ্রাউন্ড মিউজিশিয়ান। মানে, এমন ধরনের গান করে যেটা ইরানে নিষিদ্ধ। অনেক ভেবে ছেলেটা আর নাসির মিলে একটা ব্যান্ড বানায়। টার্গেট একটাই—গান গায়া টাকা জোগাড় করা, যাতে সেতারার চিকিৎসা হয়।


এই নিষিদ্ধ জগতে তাদের জার্নিটা মোটেও ইজি ছিলো না। প্রতিটা কনসার্টই ছিলো এক ধরনের লুকোচুরি খেলা। কখন পুলিশ রেইড দেয়, সেই ভয়টা ছিলো সবসময়। সিনেমার এক একটা সিন দেখে মনে হবে যেন আপনি নিজেই এই লুকোচুরি খেলার অংশ।


ইন্টারেস্টিংলি এইখানে কিছু সত্যিকারের ব্যান্ডকেও দেখানো হইছে। তাদের গানগুলা ছেলেটার মনের ভেতরের রাগ, হতাশা আর স্বপ্নের কথা বলে। মনে হবে যেন গানগুলা ছেলেটার মনের কথাই বলতেছে গানের মতো করে।

আসলে সিনেমার নামের মধ্যেই পুরা গল্পটা লুকানো আছে। ছেলেটা সব কিছুতে ব্যর্থ হচ্ছে, তার প্রিয় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, সে নিজে অসহায়—তবুও সে ক্রমাগতভাবে বলতেছে, “আমি রাগ করি নাই”। এইটা আসলে এক ধরনের প্রতিবাদ। যে সমাজে তার মতো হাজারো তরুণ হতাশা আর অনিশ্চয়তায় ভুগতেছে, সেইখানে এই কতাটা আসলে তাদের ভেতরের নীরব চিৎকার।


সিনেমার শুটিংটা ইন্টারেস্টিং। কারণ, এই সিনেমার বেশিরভাগই হাতে ধরা ক্যামেরা দিয়ে শ্যুট করা হইছে। এতে করে মনে হবে আপনি যেন সরাসরি ছেলেটার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী। সিনেমার সাদা-কালো এবং ঝাপসা সিনগুলা আসলে ছেলেটার মনের ভেতরের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তাকে পোট্রে করে।


বটম লাইনে বলতে গেলে- 'I'm Not Angry!' শুধু একটা ড্রামা সিনেমা না, এইটা একটা প্রতিবাদ। সিনেমাটা দেখলে আপনার মনে হবে, এই গল্পটা শুধু ঐ ছেলেটার না, এইটা আপনার, আমার, আমাদের সবার গল্প। আমাদের জীবনের কঠিন সময়ের গল্প। যারা নিজেদের রাগটাকে নিশ্বাস বন্ধ করে ভুঁড়ি লুকানোর মতো, রাগ লুকিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তাদের গল্প।


ফাইনালি একটা কথা বলা যায়, সিনেমাটা দেখে আপনি শুধু একটা গল্পই দেখবেন না, আপনি ছেলেটার ভেতরের যন্ত্রণা আর রাগটাকেও ফিল করবেন।

হ্যাপি ওয়াচিং।

০ মন্তব্য · ৩৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!