Movie name : Eiffel (2021)
Country : France 🇫🇷
ফ্রান্সের সেই বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের নাম সবাই কম বেশি জানে যেটা নির্মাণ করেছেন মিঃ গোস্তাব আইফেল। কিভাবে নির্মাণ হলো ফ্রান্সের এই আইফেল টাওয়ার সেটা নিয়েই এই ইতিহাস ভিত্তিক ড্রামা মুভি। ভালোই লাগলো। দেখলাম আর ইতিহাস জানলাম। সিনেমা দেখে ইতিহাস জানতে আমার ভালো লাগে তাই দেখে নিলাম ফ্রান্সের এই ইতিহাস ভিত্তিক ফ্রেঞ্চ ইতিহাস ভিত্তিক ড্রামা মুভি আইফেল। মিঃ আইফেলের নাম অনুসারে এই টাওয়ারের নাম যেটা আজও ফ্রান্সের ইতিহাসকে প্রতিনিধিত্ব করে। এখনো হাজারো ভ্রমনপ্রেমী এই টাওয়ার দেখতে ভীর করেন।।
মিঃ আইফেল বিশ্বে একটি জনপ্রিয় নাম কারণ তিনি আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি আর ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তার সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই শিল্প গড়ে তুলেন। সিনেমায় দেখা যায় স্ট্যাচু অব লিবার্টির বানানোর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তাকে নাগরিকত্ব সম্মান দেন। দেশে ফেরার পর তিনি প্যারিসে মাটির নিচে মেট্রো বানানো প্ল্যান করেন কিন্তু প্রধান মন্ত্রী তাকে এমন কিছু বানাতে বলেন যেটা স্ট্যাচু অব লিবার্টির মত সম্মান আর ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠবে। টাওয়ার টাইপ কিছু। তখন মিঃ আইফেল টাওয়ার এর ডেমো দেখেন আর ডিজাইন করেন।।
টাওয়ার নির্মাণে খুব একটা আগ্রহ ছিল না কিন্তু হুট করে ইয়ং বয়সের সেই এক্স প্রেমিকার সাথে দেখা হলো যার স্বামী কিনা সরকারি কর্মকর্তা। পুরোনো প্রেমিককে দেখে পূরণ দিনের প্রেম ও খুনশুটি কথা মনে পরে গেলো। হৃদয়ে নতুন করে বিরহের হওয়া বয়ে গেলো। প্রেমিকার নাম ও আন্দ্রিয়ানা। আইফেল টাওয়ার টা অনেকটা A আকৃতির হয়ত প্রেমিকার নাম অনুসারে এটা করেছে কারণ মিস আন্দ্রিয়ান চান এই টাওয়ার টা হোক। প্রেমিকার আগ্রহ দেখে মিঃ আইফেলের সাহস ও আগ্রহ দুটোই হলো। শুরু করলেন প্রাথমিক কাজ।।
মিঃ আইফেল একজন প্রতিভাবান ইঞ্জিনিয়ার যার কাজের দক্ষতা অবাক করে দেয় কারণ অনেকটা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাকে বলা হয় আয়রন ম্যাজিশিয়ান। লোহা দিয়ে তার জাদু শিল্পই আজকের আইফেল টাওয়ার। তার প্রেমিকা অনেক ধনী পরিবারের মেয়ে তাই আন্দ্রিয়ানার পরিবার আইফেলের সাথে বিয়ে দিতে রাজি নয়। বেশ ঝামেলায় হয় তাই আর বিয়ে হয় না।
মিঃ আইফেল শুধু ইঞ্জিনিয়ার না তিনি একজন সেরা মটিভ পারসন। শ্রমিক ও কর্মচারীদের খুব ভালোভাবে নির্দেশনা ও প্রণোদনা দিতেন যাতে তারা নিজেদেরকে এই প্রজেক্টের অংশ মনে করে। তাই আইফেল টাওয়ার নির্মাণের সময় শ্রমিক কর্মচারীদের বলেছিলো "তোমরা এই মেগা প্রজেক্টের একটি অংশ তোমাদের সন্তান একদিন তোমাদের নিয়ে গর্ব করবে। ১৮৮৯ সালে তখন এটি নির্মিত হয়। এটি প্রযুক্তিগত নির্মাণ আজও সবাইকে অবাক করে। ৩২৪ মিটার বিশাল লম্বা যেটা পুরোটাই লোহার কারুকাজ। সেই সময়ে এটা ঐতিহাসিক নির্মাণ। বুঝা যায় ফ্রান্স সেই সময়ে অবকাঠামো খাতে কত উন্নত ছিলো।।
তবে শহরের কিছু জনগণ আর পুরোনো দিনের কিছু ইঞ্জিনিয়ার এই টাওয়ার নির্মাণে বিরোধিতা করে। তারা মনে করে এটি কুৎসিত ও বিপদজনক হবে। মিঃ আইফেল বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের সাথে এই বিরোধীদের ধীরে ধীরে বুঝাতে পেরেছেন। যখন এটা কমপ্লিট হয় তখন হাজার হাজার মানুষ ফ্রান্সের পতাকা নিয়ে চলে আসে আর মিঃ আইফেলকে সম্মান জানাতে থাকে।।
আসলে নতুনত্বের সৌন্দর্য কে আমরা প্রথম প্রথম মেনে নিতে কেনো যেনো পারি না। মেনে নিতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তবে নির্মাণের পর ধীরে ধীরে দেখতে ভালো লাগতে শুরু করে। প্যারিস শহরে লোহার স্থাপত্য তেমন পছন্দ না মূলত পাথরের শিল্প পছন্দ তাই অনেকে ভেবেছিলো এটা ভেঙ্গে পরবে কিন্তু মিঃ আইফেল যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে এটার ভিত্তি বেশ মজবুত সেই সাথে এই টাওয়ার ঝড়, বৃষ্টি বা বজ্রপাতে বা ভূমিকম্পে কোন ক্ষতি হবে না।
লোহার কারুকাজ অনেকের ভালো লাগেনি কিন্তু কেউ কি ভেবেছিলো যে, একদিন এই টাওয়ার হবে ফ্রান্সের গৌরব ও স্বাধীনতার প্রতীক যেই টাওয়ারের নামে পুরো দুনিয়া ফ্রান্সকে এক নামে চিনবে। ফ্রান্সের সাহস ও শক্তির প্রতীক। বর্তমানে এটাকে আরো আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এটাকে সাত বছর পর পর রং করা হয় আর রাতের বেলায় এটাকে আলোকিত রাখা হয়।।
পুরো সিনেমাটি ড্রামা ভিত্তিক। ইতিহাস সেই সাথে কিছু ফিকশন দেখানো হয়েছে। লোকেশন ও ভিজ্যুয়াল বা গ্রাফিক্স ভালো ছিলো তবে ইতিহাস নাকি কিছুটা কাল্পনিক বা ফিকশন। সিনেমায় যেটা দেখায় মিঃ আইফেল প্রেম আর প্রেমের জন্যই এই আইফেল টাওয়ার নির্মাণ। সেটা নাকি বাস্তবে ছিলো না। ডিরেক্টর নাকি সিনেমায় একটু আকর্ষণ আনার জন্য প্রেম কন্সেপ্টটা ঢুকিয়ে দেন তবে কতটুকু সত্য সেটা জানি না।।
যায় হোক ইতিহাস জানাতে এই মুভিটা দেখে যেতে পারে। তবে নির্মাণ আরো ভালো করা উচিত ছিলো। ভালো কিন্তু চাইলে বেস্ট হতে পারতো সেটা হয় নি। যারা ইতিহাস ভিত্তিক ড্রামা পছন্দ তাদের জন্য এই সিনেমা।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!