প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকফেয়ারওয়েল মাই কুইন

সিনেম্যাটিক

ফেয়ারওয়েল মাই কুইন

ফেয়ারওয়েল মাই কুইন

Movie name : Farewell my Queen 

Country : France (some spoilers)

বিজ্ঞাপন

ফরাসি বিপ্লবের শুরুর কাহানি এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে। হিস্টরিকাল ও ড্রামা মুভি যাদের পছন্দ তারা এই সিনেমাটিকে লিষ্টে রাখতে পারেন। সিনেমার মূল চরিত্র রানী মারি অঁতোয়ানেত ও তার পাঠিকা মিস সিদিনী যে কিনা রাণীকে পরে শুনান। তার পাঠিকার চোখে সেই বিপ্লবের শুরুর সময়ে রাজপ্রাসাদের ভিতরের অভ্যন্তরীন পরিবেশ কেমন ছিল সেটাই মূলত সিনেমায় ড্রামার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।।


** সময়টা তখন ১৭৮৯ সাল,ফরাসি বিপ্লব তখন শুরু হলো আর রাজতন্ত্রের রাজত্বে আসতে লাগলো একের পর এক আ/ঘাত। অন্তরমহলে শুরু হলো আতঙ্ক ও পালিয়ে যাওয়ার হিড়িক। সবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও রানীর পাঠিকা সিদিনী সব সময় রানীর পাশে ছিলো। পাশে থেকে সাপোর্ট দিয়েছে। রানীর প্রতি তার ছিলো অসম্ভব রকমের সম্মান ও শ্রদ্ধা মানে রানীর প্রতি একটা বিশেষ দুর্বলতা ছিলো। তবে রানীর চেয়ে মিস সিদিনীর চরিত্রটা বেশি ভালো লেগেছে কারণ তার চোখে মুখে যেনো মায়ার আধার মানে তার এক্সপ্রেশনে গভীর মমতা ও আবেদনময়ী লক্ষ করা যায়।।


মেন্টাল একটা বি/পর্যয়ের সৃষ্টি হয়। মিস সিদিনী বুঝতে পারছিলো প্রাসাদের ভিতরে চলছে বিশৃংখলা আর যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে অঘটন। মুভিতে মূলত প্রশদের ভিতরে আতঙ্ক ও ক্ষমতার পতনের সূত্রপাত দেখানো হয়েছে। সারসারি বিপ্লব দেখানো না হলেও বিপ্লবের যে ঠেলার নাম বাবাজি প্রভাব সেটা তুলে ধরা হয়েছে। চারিদিকে আ/তঙ্ক ছড়িয়ে পরলে অনেকেই পালাতে থাকে কিন্তু মিস সিদিনী রানীর পাশে থেকে রানী কে সাপোর্ট দিয়েছে। আসলে ভালো মন্দ মানুষ যাই হোক না কেনো বিপদে পাশে থাকার লোক থাকলে, যত ঝামেলা বিপদ পতন আসুক না কেনো মনে একটা সাহস থাকে। এটা প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়।।


মুভিতে স/মকামিতা দেখানো হয়েছে। রানীর বান্ধবী গ্যাব্রিয়েলের সাথে বেশ শারীরিক ও মানষিক ঘনিষ্ঠতা দেখানো হয়। তবে তার এই ঘনিষ্ট প্রেমিকা বিপ্লবের সময় পালিয়ে যায়। বেঈমান একটা। বিপদের সময়ে মানুষকে চেনা যায়। সিনেমার লোকেশন,সাউন্ড প্রেজেন্টেশন ভালো ছিলো। মূলত ইতিহাস ভিত্তিক ড্রামা সিনেমা।। 


যদিও অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন বিপ্লবের মধ্যে কিছু গুজিবকারী রানীর সমকামিতা অভিযোগ বলে বেরিয়ে বিপ্লবকে আরো তীব্র করতো। সত্য হতে পারে আবার মিথায় হতে পারে। মানষিক চাপ টানাপোড়ন অস্থিরতা প্রাসাদে বাড়তে থাকে। এগুলো সত্য। তবে বিপ্লবের ফলে বাস্তিল দুর্গ জনগণের দ্বারা পতন হয়। এই পতন অনেক বড় অর্জন ছিলো বিপ্লবীদের। রাজপ্রাসাদের দুনিয়া এই বাইরের বিপ্লবের দুনিয়া অনেক পার্থক্য ছিলো। 


সিনেমাটি বাস্তব ও কাল্পনিক দুটোর মিশ্রণ নির্মিত হয়েছে। মূলত দর্শকদের কাছে একটু ফ্যানটাসিজিম সৃষ্টি করা ডিরেক্টরের মূল উদ্দেশ্য হয়তো। সিনেমাটি নারী কেন্দ্রীক। রানীর চরিত্রটি সত্যি কিন্ত তার প্রেমিকা ও পাঠিকা কাল্পনিক। এই কাল্পনিক চরিত্র হয়ত দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণের জন্যই হয়তো রাখা হয়েছে। হয়ত নারী কেন্দ্রীক চরিত্রগুলোকে একটু ভিন্ন রূপ বা আরো স্ট্রং করতে হয়ত এই কাল্পনিক চরিত্র সৃষ্টি । আসলে মূল ইতিহাসের শুধু সত্যিটা তুলে ধরলে হয়ত সিনেমার মধ্যে আকর্ষণ কিছুটা কম হতো। এজন্যই অনেক ইতিহাসভিত্তিক সিনেমায় কাল্পনিক দৃশ্য ও চরিত্র রাখা হয়।।


বিপ্লবের কারণ আর্থিক মন্দ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অতিরিক্ত রাজস্ব। অনেক ঋণগ্রস্থ হয়েছিলো রাজার রাজতন্ত্র। আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলন ও যু/দ্ধে অংশ নিয়ে খরচ অনেক করে ফেলেছিলো। ভিতরে ভিতরে রাজতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়। মূলত রাণী মারি অঁতোয়ানেতের একাকিত্ব মানুষিক দুর্বলতা সিনেমায় ফুটে উঠে। প্রাসাদে নিজের আর্মি থাকলেও কোন কিছুর ভরসা ছিলো না। মনের সুখ শান্তি গুলো হারিয়ে যায়।।


আরেকটা কথা ফরাসি বিপ্লব নিয়ে অনেক মুভি হয়েছে কিন্তু এই মুভিতে রানীর মানষিক কষ্ট, যন্ত্রণা একাকিত্ব দেখানো হয়েছে। জনগণের বাস্তিল দুর্গ দখলের পর মূলত রাজ প্রাসাদে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই রানীর মানসিক বিপর্যয় শুরু।

০ মন্তব্য · ৫০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!