প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকলা লিগনে ডরিটে (২০১১)

সিনেম্যাটিক

লা লিগনে ডরিটে (২০১১)

লা লিগনে  ডরিটে  (২০১১)

Movie name : La Ligne Dorite (2011)

Country: France 🇫🇷

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সের অনেকগুলো দেখার মতন স্পোর্টস মুভি আছে তার মধ্যে এই মুভিটির গল্পটা ভালো লাগলো তাই দেখে নিলাম। মুভিটির গল্প একজন অন্ধ এথলেটকে নিয়ে যে কিনা দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাকে গাইড করে করে মিস লেইলা। মিসেস লেইলা একজন সাবেক এথলেট। পাঁচ বছর পর জেল থেকে বের হয়ে ট্রেইনারের দায়িত্ব পান। অন্ধ ছেলেটির নাম ইয়ানিক। দুর্ঘটনায় তার চোখ হারান কিন্তু পি চালিয়ে নিতে চান। মুভিতে যেটা মূল ম্যসেজ সেটা হলো শক্তিশালী আত্মবিশ্বাস আর সাহস। মনের জোরে অনেক কিছুই করা সম্ভব।।


স্পোর্টস ড্রামা টাইপ সিনেমা যাদের পছন্দ তাদের জন্য ভালো হবে আশা করি। দৌড় প্রতিযোগিতা নিয়ে আগে সিনেমা দেখিনি, তাই এটি আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। ভালোই লাগলো। ড্রামা দেখার বিশেষ মজা আছে সেটা হলো গল্পকে জীবন্তরূপে দেখা যায়। অন্ধদের নিয়ে এই দৌড় প্রতিযোগিতা যেখানে তাদের সাথে গাইড থাকবে। গাইডের সাথে হাত বাঁধা থাকবে ও দৌড়াবে।


জীবন যুদ্ধ ও সমাজে টিকে থাকার লড়াই নিয়ে ব্যস্ত মিসেস লেইলা ও ইয়নিক। পাঁচ বছর জেল খেটে বের হলো। স্বামী সন্তান থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একমাত্র সন্তান কাছে থেকেও দূরে। তবে মিঃ ইয়ানিককে ভালো ভাবে ট্রেনিং করাচ্ছেন। ইয়ানিক দুর্ঘটনায় চোখ হারিয়ে ফেলে কিন্তু তার সেন্স খুব ভালো কাজ করে। কারো করুণা হতে চায় না। অধিক করুণা ও দয়া মায়া অনেক সময় জীবনে এগিয়ে যাবার পথ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মিঃ ইয়ানিক অটুট লক্ষ্য দৌড় খেলা চালিয়ে যেতে চান এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান। একটাই লক্ষ্য প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া।।


সিনেমাটি মূলত স্পোর্টস ড্রামা। অ্যাকশন থ্রিলার দেখতে দেখতে যখন ভিন্ন কিছু দেখার ইচ্ছা জাগে তখন স্পোর্টস টাইম মুভি বেছে নিতে পারেন। এখানে এথলেট মানে দৌড় খেলা দেখানো হয়েছে মানে একজন এথলেট কে নিয়ে এই স্পোর্টস ড্রামা। সিনেমার গ্রাফিক্স সাউন্ড মিউজিক ভালো ছিলো।।


ট্রেইনিং নিয়ে কিছু বলি। মিস লেইলা ও ইয়ানিক এক সাথে একটা লাইন হাঁটতে থাকে। প্রথমে ধীরে তারপর আরো ধীরে ধীরে স্পিড বাড়াতে থাকে। হুট করে দৌড় দিল তো পরে যাবে কারণ সে অন্ধ। তাই একটা লাইন ধরে প্রথমে হাঁটার প্র্যাকটিস তারপর ধীরে ধীরে দৌড়। ইয়ানিককে মেন্টালিও সাপোর্ট দেওয়া হয়। একটা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে তার সিক্সসেন্থ ভালো কাজ করে।।


সিনেমায় একটা শুরিংগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। লাস্ট দৃশ্যে ইয়াণিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে। যেহেতু সে অন্ধ তাই তাকে ট্রেইনার গাইড করবে। গাইড করার কথা মিস লেইলাকে কিন্তু শুটিং করার সময় উনি আহত হন। আহত বিষয়টা সিনেমায় সংযুক্ত করা হয়। তাই সিনেমার গল্প স্ক্রীপ্টও চেঞ্জ হয়ে যায়। মিস লেইলার জায়গায় মিঃ ফ্রাঙ্ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। লাস্ট দৌড় দৃশ্যে তিনি গাইড করেন। দর্শকের সারিতে বসে থাকেন মিসেস লেইলা। তবে ইয়ানিক মিসেস লেইলালেকে সমস্ত ক্রেডিট দেয় কারণ তাকে অন্ধত্বকে জয় করেন তিনি। সম্মান শ্রদ্ধা বিরল দৃষ্টান্ত। 


সিনেমার সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হচ্ছে সমুদ্রতীরে ইয়ানিক এর দৌড় দেওয়া, নোনা জলে গা ভিজানো সাথে মিসেস লেইলা ছিলো। খোলা আকাশ আর সমুদ্র ইয়ানিকের মনে প্রশান্তি এনে দেয়। সমাজে করুণার স্বীকার হলেও প্রকৃতি তার অপরুপ সৌন্দর্য দিয়ে তাদের মনে সবুজ শান্তি এনে দেয়। সবুজে কোলাহল নেই শুধুই নীরবতা। ভালো লাগার মতন স্পোর্টস ড্রামা। 


ইয়ানিকের চরিত্রটা জীবনকে নতুন করে ভাবাবে। জীবন যতই শক্ত প্রতিবন্ধকতা আসুক না কেনো ধীরে ধীরে হলেও এগিয়ে যেতে হয়। কারো করুণা না হয়ে আপন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। ইচ্ছা থাকতে হবে, স্বপ্ন দেখতে হবে,আশা থাকতে হবে। মিস লেইলা জেল থেকে বেরিয়ে নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। এক সময় লে এথলেট ছিলো। দৌড় খেলা খেলতো। লেইলা জীবনের অংকগুলো বুঝতে থাকে। উপলদ্ধি করে চাইলে অতীত ভুলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।।


অন্ধ হয়ে ইয়াণিক দৌড়ে সফল হয়েছে আবার মিসেস লেইলা পিছনের অতীত ভুলে সফল ট্রেইনার হয়েছে। দুইজন তাদের কৃতকর্মে সফলতা পেয়েছে। একটা কথা আছে নো রিস্ক নো গেইন। তাই অন্তরে জড়তা ভয় না রেখে,ব্রেইনে একবার সাহস এনে একবার ফিল্ডে নামুন সফল অল্প হলেও হবেন আর যদি ভাগ্য সহায়ক হয়

 তাহলে সফলতার অনেক উপরে উঠে যেতে পারেন।।


শেষের দৃশ্যে বেশ ইমোশনাল। ইয়াণিক গাইড ফ্রাঙ্কের সাথে রেসে দৌড়ালেও মনে মনে মিসেস লেইলা কে মিস করছিলো কারণ তার রিয়েল মেন্টর ছিলো। দৌড় জেতার পর দুই চোখে অশ্রুর আনন্দের ধারা। আনন্দে মিসেস লেইলা ইয়ানিককে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। সত্যিকারের পথ পদর্শকরা সব সময় সম্মানিত।।

০ মন্তব্য · ৩৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!