প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকইনসাফ (২০২৫)

সিনেম্যাটিক

ইনসাফ (২০২৫)

ইনসাফ  (২০২৫)

Movie name : Insaaf (2025)

Country : Bangladesh 🇧🇩 (♥️ spoilers)

বিজ্ঞাপন

এই বছরে মোটামুটি বেশ আলোচনায় ছিলো শরিফুল রাজ, তাসনিয়া ফারিন ও মোশারফ করিম অভিনীত অ্যাকশন ক্রাইম থ্রিলার মুভি ইনসাফ। সমাজের জটিলতা ও সিন্ডিকেট এবং অপরাধের কাছে বিবেক বিক্রি হওয়া, প্রশাসনের কুকীর্তি সিনেমার মূল বিষয়বস্তু। আমাদের সমাজ কতটা নোংরা সেটা সিনেমার কাহিনীতে প্রকাশ পায়। আপনি পড়ালখা করে ক্যাডার হতে চান কিন্তু অপরাধের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারলেন না তাইলে কি লাভ হলো? অপরাধ দমন করতে অপরাধী হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। এটা প্রকৃত তিতা সত্য। ভাইরাস মারতে ভাইরাসকেই লাগে যদিও সেটা একটু এন্টি কিন্তু ভাইরাস তো।।


সিনেমার ভালো লাগা বিষয় যেটা ছিলো সেটা হচ্ছে শরিফুল রাজ ও ফারিনের কেমিস্ট্রি। ভালো জুটি হয়েছে।শরিফুলের অভিনয়ের প্রশংসা করতেই হয়। তার লুক এক্সপ্রেশন ভালো ছিলো। রাজ থাকে মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল নাম ইউসুফ। 


সিনেমাটি মূলত গ্যাংস্টার বনাম গ্যাংস্টার। এখানে ওরকম নায়ক নেই যদিও আগেরদিনে সিনেমায় নায়ক ও ভিলেইন থাকতো। এখন সিনেমায় সবাই ভিলেইন।এটাই ট্রেন্ড।।


ফারিনের প্রথম সিনেমা এটি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চরিত্রে থাকেন।ফারিনের অভিনয়ের চেয়ে হাসিটাই বেশি ভালো লেগেছে। কঠোরতা ভিতরে কোমলতা লুকিয়ে থাকে সেটা দেখিয়ে দিলো ফারিনের পুলিশ অফিসারের চরিত্রটি। দেখিয়ে দিলো হাতে কলমে বাস্তবতা, কিন্তু তার ফাইটিং দৃশ্যগুলো ভালো হয় নি। ফাইট আরো ভালো শিখতে হবে।


মোশাররফ করিম একজন ভালো সৎ ডাক্তার থাকেন কিন্তু সমাজের নিষ্ঠুরতা তাকেও হতে হয়েছে ক্রিমিনাল।কারণ দূষিত সমাজে ভালোর দাম নেই। দুর্নীতি আর সিন্ডিকেট তার সততাকে হারিয়ে দিয়েছিলো। যেভাবে রাজ ওরফে ইউসুফকে বনাইয়েছিলো মোস্ট ওয়ান্টেড।।


শরিফুল ওরফে ইউসুফ আগে ভালো ছেলে ছিলো কিন্তু নিয়তি তাকে বড় গ্যাংস্টার বানিয়েছে। তবে সিনেমায় আরেকটা গ্যাংস্টার আছে মিশা। মিশার অভিনয় ভালো ছিলো। নিজের ভিলেইনটা রোলটা ভালোই করতে পারেন।।

 

শরিফুল ওরফে ইউসুফ ছদ্মবেশে আর্টিস্ট থাকে। কিছু কাহানি ঘটে যাওয়ার পর তাদের বিয়ে হয়। ভিলেইনরা ফারিনকে আক্রমন করলে শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশ ছেড়ে ফারিনকে বাঁচায়। এখানে সিকুয়েন্সটা ভিন্ন করতে পারতো। ইউসুফ তার সমস্ত ডাটা চেঞ্জ করে আর্টিস্টের পরিচয় নেয়। মারামারি করা দেখে বুঝে গেলো এটা সেই দুর্ধর্ষ ক্রিমিনাল ইউসুফ কিন্তু এমন হতে পারতো যে ফারিন পুরোনো কাগজ বা নথি ঘাটতে ঘাটতে একটা আকা ছবি পেয়ে গেলো বা কোন ভাবেই জানতে পারলো যে ইউসুফ আর্ট জানে। এই কন্সেপ্ট এ যদি ইউসূফ ধরা খেতো তাহলে সিকুয়েন্সটা ভালো হতো।। 


রাজের নাম থাকে ইউসুফ যে কিনা মোস্টোয়ান্টেড ক্রিমিনাল। প্রতি পক্ষের গ্যাংস্টারের গুলিতে মারা গিয়েছিলো। আসলে কি তাই।পুলিশের রিপোর্ট তাই বলে,কিন্তু হুট করেই ফিরে আসলো। চারিদকে গুজবের মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়িয়ে গেলো। ফারিন তাই ইউসুফকে ধরতে গিয়ে একেই রকম দেখতে একজন আর্টিস্টকে ধরে ফেলে। হয়ে যায় অনেক কাহিনী। শেষের দিকে শরিফুল আর মিশার মধ্যে ফাইট হয়। অন্যদিকে মোশারফ করিম বন্দুক নিয়ে ফারিন ও তার গর্ভবতী শিশুকে বাঁচাতে যায়। 


সিনেমাটি মিক্সড লেগেছে। ভালো ৫০% ও মন্দ % । আরো ভালো করা যেতো। ডিরেকশন কিছুটা দুর্বল।।


সিনেমার গল্পটা বেশ ভালো কিন্তু ভালোমত মেকিং করতে পারেনি। একটার পর একটা সিকুয়েন্স আসছিলো সেটার এ্যাডযাস্টমেন্ট ঠিক মত হলো না। প্রথম হাফ ও দ্বিতীয় দুই জায়গায় ভালো মন্দ মিলিয়েই ছিলো। তবে ভরপুর টুইস্ট আছে। গান গুলো ভালো লেগেছে। ভিএফএক্স বা গ্রাফিক্স দুর্বল ছিলো।


সিনেমাটি সিক্যুয়েল আসবে সেটা সিনেমার লাস্ট দৃশ্যে দেখানো হয়। সিনেমাটি ভালো আয় করতে পারে নি। ইনকাম করেছে এক কোটির নিচে। বাজেট যেখানে দুই কোটির বেশী হবে হয়তো। দেখা যাক কি হয়। আমি মনে করি সিক্যুয়েল হোক । উপভোগ্য ও ডিরেকশন ভালো হলে হলে প্রথম পার্টের লস পুষিয়ে অধিক লাভ ও হতে পারে। সিনেমা বিজনেস মানেই অনিশ্চয়তা লাভ হলো অনেক লাভ এই লস হলে লস।।


বাংলাদেশের সিনেমা দেখুন। বাংলাদেশকে ভালবাসুন। জয় হোক বাংলাদেশের সিনেমা।।।

০ মন্তব্য · ৪৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!