Movie name : Renoir (2012)
Country: France
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। চারিদিক আতঙ্ক, ধ্বংস আর মৃত্যু কিন্তু এর মাঝে রং তুলি যেনো প্রশান্তি বয়ে আনে।প্রকৃতির নগ্নতার সৌন্দর্য ধরা দেয় রং তুলিতে,ফুটে উঠে সাদা কাগজে। সাদাকে বলা হয় শান্তির প্রতীক।তাই সাদা কাগজে চিত্রকর্ম যখন ফুটে উঠে তখন মনের প্রশান্তি বয়ে আনে। মিঃ রেইনোর বয়সের ভারে চলতে ফিরতে না পারলেও অন্তরে বা হৃদয়ে ছড়ানো ছিটানো রংগুলো যেনো চির সবুজ। ভালো লাগার মত আর্ট ড্রামা।।
সিনেমার লোকেশন বেশ সুন্দর। নীল লোনা জলের পারে বিশাল বাড়ী। সবুজের ঠেলায় আর কোন রং চোখে পরবে না। প্রশান্তির বাতাস বয়ে যায় তবে কারো মনে বা হৃদয়ে শান্তি আছে কি না বাতাস সেটা জানে না। বাতাসের কাজ বাতাস বয়ে যাওয়া। সাউন্ড ও গ্রাফিক্স ভালো। মিঃ রেইনর প্রকৃতি ভালোবাসেন। কখনও সবুজ বাগান,কখনও পাহার আবার কখনও ঝর্নার বয়ে যাওয়া নদী।
এক মডেল তার কাছে আসে। নাম আন্দ্রে। সেই মডেলের নগ্নতার সৌন্দর্য তুলে ধরেন। নগ্নতা ও প্রকৃতি এক হয়ে গেলো। প্রতিটা নগ্ন ছবির মধ্যে অনেক আবেগ আর নীরব ভাষা আছে যেই ভাষা চোখ দিয়ে বুঝানো সম্ভব।।
সিনেমাটি কিন্তু বায়োপিক। ফ্রান্সের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী
পিয়ের অগুস্ত রেইনারের শেষ জীবনের কিছু কাহনী তুলে ধরা হয়েছে। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন। অর্ধেক শরীর প্যারালাইজ কিন্তু তার আত্মবিশ্বাস এতটাই প্রবল যে হাত দুটো দিয়ে ভালো রঙের খেলা দেখাতে পারেন। আরেকটি চরিত্র হচ্ছে জিয়ান রেইনার। তিনি তার বাবার মতো চিত্রশিল্পী না কিন্তু তার প্যাশন হচ্ছে সিনেমা। তিনিও অনেক বিখ্যাত পরিচালক।।
বাবা ও ছেলের চরিত্র নিয়েই এই বায়োপিক ড্রামা। বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ শরীর নিয়ে তার ছবি আঁকা চালিয়ে যান আবার তার ছেলে সিনেমা দিয়ে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। একটা প্রজন্ম শেষের দিকে আরেকটা শুরুর দিকে। দুটো চরিত্র ভালো লাগবে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত পৃথিবীতে এখন শুধু সবাই একটু মানষিক প্রশান্তি চায়। মিঃ রেইনোর মনে করেন, ছবি আঁকতে পারেন বলেই তিনি বেঁচে আছেন। শিল্প তাকে আত্মবিশ্বাস ও সাহস দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। অপরদিকে তার ছেলে সিনেমার মাধ্যমে নতুন শিল্পের আবির্ভাব ঘটাচ্ছেন।।
প্রতিটা চরিত্র কিন্তু বাস্তব কল্পনা নয়। তারা ইতিহাসে জীবিত। ইতিহাস তাদের মনে রেখেছে বিধায় এদের নিয়ে এই সিনেমাটি হলো। আর্ট নিয়ে অনেক মুভি দেখেছি তবে এই মুভিটার গল্পটা ভালো লেগেছে। আর্ট মনের উন্মুক্ত দরজাকে প্রতিনিধিত্ব করে। আর্টে ফুটে উঠে এক সৌন্দর্য যেই সৌন্দর্যের গভীরতা কুয়ার মতোই অনেক গভীর। রেইনরের সামনে যখন মেয়েটি নগ্ন হয়ে শুয়ে থাকতো তখন মনে হতো এক জীবন্ত ভাস্কর্য শুয়ে আছে আর জীবন্ত ভাস্কর্য যেনো সাদা কাগজে এসে সময়কে বন্দী করেছে।।
নগ্ন ছবি প্রকৃতির সুন্দর শৃঙ্খলকে বুঝিয়ে থাকে। আলো আধারের মিশ্রণে এক একটা ছবি সময়কে বন্দী করে চির সবুজে সবুজায়ন করে। আর্ট মানেই চির সবুজে যৌবনের উম্মাদনা। আর্ট কখনো বৃদ্ধ হয় না। সিনেমার প্রতিটা চরিত্রের অভিনয় ভালো ছিলো। বিশেষ করে মেয়েটির এক্সপ্রেশন ভালো ছিলো। দেহের প্রতিটা অঙ্গ মায়াময়। মেয়েটি মিঃ রেইনরের ছবির মডেল হলেও পরবর্তীতে তার ছেলের মানে জিয়ান রেইনারের সিনেমার নায়িকা হয়।।
মুভিতে মেয়েটির চরিত্র ভালো লাগবে। সে হচ্ছে শিল্পের অনুপ্রেরণা। নগ্নতা তার কাছে লজ্জা না কারণ রং তুলিতে তার যৌবন ফুটে উঠে, যেই যৌবন যুদ্ধ বিধ্বস্ত পৃথিবীর আবেগ কষ্ট ফুটে উঠে। চাপা আনন্দ ও চাপা কষ্টে দুইটাই আছে। বুলেট বোমা দিয়ে মানুষ মারতে যখন লজ্জার সৃষ্টি হয় না সেখানে প্রকৃতির কাছে লজ্জা কেনো পেতে হবে। এটা প্রকৃতির অংশ। মেয়েটি হলো আলোকিত মন ও আত্ম স্বাধীনতা আর শিল্পের সৃষ্টিশীলতার প্রতীক।।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম শিল্পের পরিবর্তন হয়। সিনেমার শেষে এটাই দেখানো হয় তবে অনুপ্রেরণা আছে,সম্মান ও ভালোবাসা আছে। বৃদ্ধ রেইনোর হাত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। তারপরেও ছবি আঁকা চালিয়ে যায়। হরেক রকমের নান্দনিকতা। জিয়ান বাবার ছবি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আর্টিস্ট না হলেও সে ক্যামেরা দিয়ে নতুন শিল্পের জন্ম দিতে চায়।। লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!