Movie name : Amores Perros (2000)
Country : Mexico 🇲🇽
মেক্সিকানদের কাজ দেখে অবাক হয়ে গেলাম। এতো উপভোগ্য আর্ট ড্রামা মুভি।গল্প থেকে শুরু করে সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্স ও ডিরেকশন সহ সব কিছুই ছিলো দুর্দান্ত। মেক্সিকানরা ভালো মুভি বানায় সেটা জানতাম,আজ নিজে দেখে নিলাম। জীবন যাবে চলে জীবনের নিয়মে, তবে ভাগ্য ও প্রকৃতি তার সাসপেন্স দেখাতে পারে। জীবনের প্রবাহমান মোর যে কোনদিক ঘুরে যেতে পারে কারণ জীবনের চাকা অনিশ্চয়তা নিয়েই চলতে থাকে।।
মুভিতে দুর্দান্ত দৃশ্য ছিলো কুকুর ফাইট। অনেকগুলো কুকুর ফাইট দেখানো হয়। এগুলো অনেকটা ট্রেইনিং প্রাপ্ত। এরা মানুষকে কামরায় না কিন্তু প্রতিপক্ষ কুকুরকে কামড়ায়। কুকুরগুলো যখন ফাইট করে তখন মনে হলো এরাও টিকে থাকার লড়াই করে। জীবনের ঝুকি নেয়। অক্টাভিও বাজিতে কুকুর ফাইট করে ভালোই রোজগার করছে। মুভিতে তিন জোড়া চরিত্র আছে তাদের দুর্ঘটনায় জীবন নিয়ে এই মুভি। একটা দুর্ঘটনার মাধ্যমে ছয়জন একত্রিত হয় কিন্তু সবাই সবাইকে চিনে না। কিছু স্বপ্ন থমকে যায়, কিছু নিভে যায় আবার কিছু স্বপ্ন প্যারালাইজড হয়ে যায়।।
দুর্ঘটনার সিকুয়েন্স বেশ দুর্দান্ত ছিলো। দেখার মত ইমোশনাল দৃশ্য। একটা দুর্ঘটনাকে তিনটা সিকুয়েন্স ভাগ করে দেখানো হয়েছে। ঘটনাগুলো দেখানো হয়েছে মেক্সিকান সিটিকে কেন্দ্র করে,দরিদ্র ও ধনী অঞ্চল নিলেই দেখানো হয়েছে। লোকেশন, সাউন্ড সিস্টেম ও ভিএফএক্স সহ সব কাজগুলো প্রশংসার দাবি রাখে। সিনেমাটি ভালো বলেই বিদেশী ভাষায় বেস্ট ফিল ক্যাটাগরিতে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলো। এছাড়া মুভিটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।।
** অক্টাভিও ও সুজানা **
প্রথমে দেখায় অক্ট্যাভিও আর সুজানার কাহানী। তারা সম্পর্কে দেবর ভাবী কিন্তু তাদের মধ্যে গোপন ভালোবাসার সম্পর্ক আছে। তার বড় ভাই একটা সুপারশপে কাজ করে পাশাপশি করে পরকীয়া ও ডাকাতি। নিজের স্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দেয় না। তাই অক্ট্যাভিও ঠিক করে সুজানাকে নিয়ে পালিয়ে যাবে কিন্তু সুজানা বেইমানি করে। এই প্রেম তার জীবনে অন্ধকার নিয়ে আসে। তার পোষা শক্তিশালী কুকুর আছে, যেটা দিয়ে কুকুর ফাইট করে ভালো টাকা উপার্জন করে। কুকুর ফাইট করতে গিয়ে কুকুরকে হারায়। প্রতিপক্ষ কুকুরকে অন্যায় ভাবে গুলি করে। তাই আহত কুকুর নিয়ে চলে হসপিটালে। হুট করে ঘটে দুর্ঘটনা।
*এক প্রেমিক দম্পতি টিভিতে আলোচনায় আসে।
*এক এলো দাড়ী চুলওয়ালা তার মেয়েকে খুঁজছে। লোকটি অনেক কুকুর পালে ও কিলার।।
** ড্যানিয়েল ও ভেলারিয়া **
মিঃ ড্যানিয়েল ধনী ব্যবসায়ী আর মিস ভেলারিয়া মডেল ও অভিনেত্রী। তারা একে অন্যকে ভালোবাসেন।যদিও ড্যানিয়েলের স্ত্রী সন্তান আছে। এখন ভেলারিয়াকে নিয়ে এক সাথেই থাকেন। ভালবাসার মুখোশটা মিস ভেলারিয়া ধরতে পারেন নি। দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যায়। হুইল চেয়ার চলতে হয়। তার পছন্দের কুকুর ঘরের ভিতরে বেসমেন্টের চিপায় পরে মারা যায়। তার রূপ সৌন্দর্য ধীরে কমতে থাকে। ড্যানিয়েলের আর আগ্রহ থাকে না। জীবন যুদ্ধে পরাজিত মিস ভেলারিয়া। কারণ তার সখের পুরুষ হলো কাপুরুষ। নারী যখন সুন্দরী তখন তার দাম আর সেই সুন্দরী অসুস্থ হয়ে গেলে তার দাম নেই। জীবন কঠিন নাকি মানুষের চিন্তাভাবনা কঠিন?? শরীর এর সৌন্দর্য আজ আছে কাল নেই কিন্তু মনের সৌন্দর্য আজীবন ধরে রাখা যায়।।
** অক্টাভিও আর তার বন্ধু তাদের আহত কুকুর নিয়ে ছুটছে।
** সেই লোকটি এলো দাড়ী চুলওয়ালা নাম এক চিভা।
** মিঃ চিভা ও মিস মারু **
মিঃ চিভা রাস্তার ধারে ভাঙ্গা ঘরে থাকে। রাস্তার অবহেলিত কুকুরগুলো তার সাথে থাকে। শিক্ষক ছিলো হুট করে গেরিলা বাহিনীতে যোগ দেয়। স্ত্রী কন্যা ছেড়ে চলে যায়। গেরিলা বাহিনীতে কাজের জন্য জেলে যেতে হয়। বহু বছর জেল থেকে আসে। নিজের মেয়ে জানে বাবা মৃত। একমাত্র মেয়ের কাছে বাবার স্বীকৃতি পেতে চায় কিন্তু সমাজ ও সময় বেশ নিষ্ঠুর। এখন সিরিয়াল কিলিং করে পেট চালায়। জীবন তার কাছে খুব যন্ত্রণা। তার সঙ্গী অনেক কুকুর। এরাই তার আপন। শেষ বারের মত নিজের মেয়েকে কাছে পাবার চেষ্টা।।
এবার দুর্ঘটনায় আসি, অক্টাভিও ও তার বন্ধু তাদের হয়ত কুকুর নিয়ে গাড়ীতে করে যাচ্ছিলো। তাদের পিছনে ছিলো প্রতিপক্ষের বাহিনী। চলছিলো গুলাগুলি। হুট করে দুই তিনটা গাড়ীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অক্টাভিও ভাগ্য ক্রমে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হয়, কিন্তু তার বন্ধু সেখানেই মারা যায়। মিস ভেলারিয়া গুরুতর আহত হয়। মিঃ চিভা সবাইকে উদ্ধার করে সেইসাথে তাদের পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়।।
কি শিখলাম আর বুঝলাম ???
জীবন একটা লম্বা আঁকাবাঁকা পথ তাই যেকোন সময় লাইফের মোর ঘুরে যেতে পারে। মরীচিকা একবার দেখলে দ্বিতীয়বার দেখা থেকে বিরত থাকা উচিত।কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ভেবে চিন্তে নেওয়া উচিত। ভুল যদি কেউ ক্ষমা না করে তখন নিজেকে শুধরানো কঠিন হয়ে পরে।টাকার ফাঁদে পা না দেই। কিছু প্রেম চক চক করলেই প্রেম হয় না। সেটা শুধু শরীর ভোগ। ক্ষমার তৃষ্ণা পানির তৃষ্ণা থেকেও কষ্টকর। মানুষ যদি ক্ষমার চর্চা করতো তাহলে অনেক খারাপ মনুষ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে, ভালো হতে পারতো।।
এই মুভিটা দেখে অনেকক্ষণ ভাবলাম জীবনটা একটা শেয়ার মার্কেটের মতন এখানে উত্থান পতন হবেই।।দুর্ঘটনা অনেক সময় পজেটিভ ও অনেক সময় নেগেটিভ সিচুয়েশন নিয়ে আসে। ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। ভালো লাগার মতন বেস্ট মেক্সিকান মুভি।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!