Movie name: El Incidente (2014)
Country: Mexico
আসলে মাথা হ্যাং করার মত সিনেমা। আপনি রাস্তা দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছেন কিন্তু রাস্তা শেষ হচ্ছে না। একেই জায়গায় বার বার চলে আসছেন। একটা অসীম রাস্তা যার শুরু আছে শেষ নেই। দিনের পর দিন,মাসের পর মাস আর বছরের পর বছর গাড়ী চলছে তো চলছে।গন্তব্যে আর আসে না। ঘুরে ফিরে একেই পেট্রোল পাম্প, একেই সুপার শপ। গাড়ির পেট্রোল মানে পেট্রোল পাম্পের তেল শেষ হয় না আবার সুপার শপের খাবার জিনিষ ও শেষ হয় না। অদ্ভূত ইনফিনিটি তে আটকে।
আবার কেউ দশ তলা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে তো নামছেই কিন্তু সিঁড়ি আর শেষ হয় না। উপড়ে উঠে কিন্তু সিঁড়ি শেষ হয় না। দশ তলা উঠে গেলে সিঁড়ি আবার এক তলা থেকে শুরু হয়। আট তলায় একটা ফ্রিজ আছে। ফ্রিজে পানি ড্রিঙ্কস খাবার। সেগুলো শেষ হয় না। দিনের পর দিন,মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সিঁড়ি দিয়ে উঠছে আর নামছে বের হতে পারছে না।
কি অবস্থা তাই না।সিনেমার শেষের দিকে টুইস্ট আছে সেটাও অবাক ও মাথা এলোমেলো করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। দুটো প্লটে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। জীবনে কিছু ভুল এমন ভাবে আমাদের জীবনের উপর প্রভাব বিস্তার করে যেটা ঘুরে ফিরে একেই জায়গায় আমাদের নিয়ে যায়। ঘুরে ফিরে একেই ঝামেলা,একেই অশান্তি একেই কষ্ট আসতে থাকে। ভাগ্য সময়ের কাছে বন্দী হয়ে যায়।।
সিনেমার প্লট দুই জায়গায় একটা হলো বিল্ডিং এর সিঁড়ি আরেকটা হলো হাই রোড। দুই জায়গায় সময় থমকে যায়। সিনেমার প্লট ছোট একেই দৃশ্য একেই জিনিষ বার বার কিন্তু এর মধ্যেই আছে টিকে থাকার লড়াই আর মুক্তির প্রচেষ্টা। বেশ থ্রিলিং সৃষ্টি হয় সেই সাথে কিছুটা সাসপেন্স ফ্রি।।
সৃষ্টিকর্তা শাস্তি দেয় সময়কে ভিন্ন রূপে সাজিয়ে, সময় তখন আটকে যায়। মানে আপনার মাইন্ড বা বিবেক বুদ্ধি নিজের মত কাজ করবে না,শাস্তির জন্য অপেক্ষা করবে। কখনও যদি সময়ের উপর বিরক্ত হয়ে বলে উঠেন সময় তো শেষ হয় না, আর ভালো লাগে না।তখন ভেবে নিবেন হয়ত সে সময়ের একটা অবয়ব আপনার ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছেন আবার হতে পারে শাস্তি দিচ্ছেন।।
সিনেমায় একটা অসীম টাইম লুপ আছে এটা কখনো শেষ হয় না। এক লুপ থেকে মুক্তি পেলে অন্য লুপে যেতে হয়।।
সিনেমায় ক্যামেরার কাজ অবাক করার মতন। কখনও ধীর গতি আবার কখনো দ্রুত। দৃশ্যগুলোর ভিজ্যুয়াল কাজ পারফেক্ট। এই ধরনের সিনেমা বানানো বেশ ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপার। অজান্তে আপনার মন ও মাইন্ড হারিয়ে এলোমেলো হয়ে যাবে।।
*** আসুন সিঁড়ি ঘটনা বলি ***
অলিভার ও কার্লোস দুই ভাই ফ্ল্যাটে ছিলো। পুলিশ অফিসার মার্কো তাদের তারা করে। সিঁড়িতে নামার সময় ঝগড়ার পর্যায়ে মার্কো কার্লোসের পায়ে গুলি করে। হুট করে একটা শব্দ। যায় হোক সিঁড়ি দিয়ে নামছেই তো নামছেই। ৩৫ বছর ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামছে কিন্তু বের হতে পারছে না। তারা অনেক চেষ্টা করেছে। এই চেষ্টার মধ্যেই অনেক থ্রিলিং ছিলো। এই ৩৫ বছর তাদের বয়স বেড়েছে তবে কার্লোস মারা গিয়েছে। মার্কো বৃদ্ধ হয়ে অনেকটা প্যারালাইজড। অলিভার বয়স বেড়ে হয়েছে ৫৫, তবে শরীর ফিট আছে।।
*** আসুন রাস্তার ঘটনা বলি ***
ড্যানিয়েলের বারো তেরো বছর হবে সে তার মা সান্দ্রা বোন ক্যামেলিয়া ও তাদের সৎ বাবা রবার্তো গাড়ী তে করে যাচ্ছে। যেতে যেতে একটা সাইনবোর্ড,পেট্রোল পাম্প আর একটা সুপারশপ। ঘুরে ফিরে একেই জায়গায়। ড্যানিয়েলের বোন ক্যামেলিয়া মারা যায় কারণ তার শ্বাসকষ্ট। তার সৎ বাবা রবার্তো আর মা সান্দ্রা ৩৫ বছর ধরে গাড়ী চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রাস্তা শেষ হয় না, ঘুরে ফিরে একেই জায়গায়। গাড়ি চালাতে চালাতে বৃদ্ধ হয়ে যায়। তাদের বাবা মা মারা যায়। ছোট ড্যানিয়েলের বয়স বেড়ে ৪০ এর উপরে হয় গেলো।।
*** প্লট চেঞ্জ ****
ড্যানিয়েল একটা পথ খুঁজে পেলো। দেখলো একটা পুলিশ গাড়ী। ভিতরে ড্রেস। একটা ব্যাচে নাম লিখা মার্কো। নতুন টাইমে প্রবেশ করলো। ড্যানিয়েলের নাম এখন মার্কো।।
সিঁড়িতে মার্কো মারা যায়। অলিভারকে লিফট খুজতে বলে।কিভাবে যেনো লিফট পেয়ে গেলো অথচ ৩৫ বছর ধরে সিঁড়ি নামছে। লিফটে ঢুকলো। নতুন টাইমে প্রবেশ করলো। দেখলো একটা ড্রেস। একটা ব্যাচে নাম লিখা কার্ল। তার নাম এখন কার্ল।।
সময় তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময় থেকে মুক্ত। হতে পারে কিন্তু নতুন সময়ে বন্দী হতে কতক্ষন???
কার্ল আবার ও আটকে সাথে এক দম্পতি।।।
দুর্দান্ত সিনেমা। সিনেমাটি অনেক আধ্যাত্বিক কন্সেপ্ট তুলে ধরেছে। মেক্সিকোর অন্যতম বেস্ট আর্ট ড্রামা বলা যায়। সেই সাথে সিনেমাটি বিশ্বে বেশ প্রশংসিত।।
এক কথায় বলতে চাই আমরা আমাদের কর্মফল থেকে পালাতে পারি না, সময় তার জবাবদিহিতা আদায় করে নেয়। সময় কখনও হয়ে যায় বিচারক আবার কখনো হয়ে যায় ভাগ্য নির্ধারণকারী। মুক্তি নেই কিন্তু সময় তার খলোস বদলায়।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!