Movie name: Desierto (2015)
Country: Mexico 🇲🇽
মেক্সিকান এই থ্রিলার সিনেমাটি হচ্ছে সিম্পলের মধ্যে গরজিয়াস। সিনেমার গল্প ডাঙ্কি নিয়ে মানে একদল নারী পুরুষ মেক্সিকান বর্ডার থেকে জীবন বাজি রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে আমেরিকাতে প্রবেশের চেষ্টা করে। এটাই সিনেমার গল্প তবে এখানে বেশ থ্রিলিং আছে কারণ আমেরিকায় পৌঁছাতে হবে। জীবন বাঁচানো ও টিকে থাকার লড়াই খুব জমজমাট ছিলো। জীবিকার তাগিদে হাজার হাজার মানুষ অবৈধ ভাবে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। বেশ দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ আর একটু এদিক সেদিক হলেই মৃত্যু নিশ্চিত।।
সিনেমাটির মেকিং আরো বেটার করা যেতো আরো কিছু গল্প বা কাহানি অ্যাড করে। এখানে লোকেশনও বেশি বড় না। মেক্সিকান ও আমেরিকান ঝুঁকিপূর্ণ বর্ডার। জাস্ট শুধু মরুভূমির মধ্যে পালিয়ে বেড়ানো। জীবনের আলো যেখানে নিভে যেতে সময় লাগে না। সিনেমার গ্রাফিক্স ও সাউন্ড সিস্টেম ভালো ছিলো।
একদল নারী পুরুষ হতে পারে কেউ শ্রমিক কেউ স্টুডেন্ট আবার কেউ মেকানিক। তারা সবাই মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় যাচ্ছিলো অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে। ট্রাকে করে যাচ্ছিলো কিন্তু ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলো আর ঠিক করা গেলো না। শুরু হলো উত্তপ্ত মরুতে পায়ে হেঁটে চলা। নীরব রোদেলা মরুভূমির চারপাশে ফুটন্ত বালু, কাটা যুক্ত ক্যাকটাস আর কিং কোবরা সাপ। তবে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিলো স্যাম নামে একজন পাগলা স্নাইপার। যে একে একে অনেক অবৈধ অভিবাসীকে গুলি করে মেরে ফেলা শুরু করে।টিকে থাকার লড়াই আর বেঁচে থাকার কৌশলের দৃশ্যগুলো দেখার মত ছিলো।
ছুটাছুটি দৌড়াদৌড়ি চলছে কিন্তু স্যামের নিশানা থেকে কেউ পালাতে পারছে না সেই সাথে তার ট্রেইনিং কুকুর তারা করছে। একে একে অভিবাসীগুলো মারা যেতে থাকে। বেঁচে থাকে মিঃ মোয়জে ও মিস এডেলে। একটা কথা হয়তো স্যাম ভুলে গিয়েছে সবাইকে শিকার বানানো যায় না। সময় অনেক সময় শিকারী শিকার হয়ে যায়। মিঃ মোয়েজে বেশ ধুরন্ধর। বার বার কৌশলে পালিয়ে যায়। স্নাপারের গুলি তাকে ছুটে পারে না। মিস এডেলেও পার পেয়ে যায়।।
শুরু হয় মোয়েজে ও স্যামের মধ্যে চোর পুলিশের খেলা। কেউ কারো চেয়ে কোন অংশে কম না। উত্তপ্ত মরু সেই খেলার সাক্ষী। একটা কথা মনে রাখা উচিত পরিনতি নিজেকেও ভোগ করতে হয়। তুমি যখন কিলার তখন তোমাকে মারার জন্য কোন না কোন কিলারের জন্ম হয়ে যাবে। প্রকৃতি এইভাবে শোধ নেয় হিংস্রভাবে। সিনেমাটি দেখে শিখলাম বিপদ থাকে বাঁচার প্রথম উপায় হলো ধৈর্য, বুদ্ধি আর সামান্য সাহস।।
মোয়েজে চায় নিরাপদে লোকালয়ে পোঁছে যেতে আর স্যাম চায় ওদের মেরে ফেলতে। কি আছে ভাগ্যে?? সিনেমাটি সিম্পল হলেও সিনেমার প্লট ভালো লাগবে। কিছু মানুষের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বুক ভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা অবৈধপথে, জীবন মৃত্যুর দুর্গম পথে। অবৈধ বা ডাঙ্কির মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া ভাগ্য বা লটারীর মতন। কপাল ভালো হলে পৌঁছাবে না হলে আলবিদা। সিনেমার পরিধি কম, কাস্টিং কম কিন্তু গভীর দর্শন আছে।।
অনেকেই বলে নো রিস্ক নো গেইন কিন্তু যখন নিজ দেশ ছেড়ে অন্যদেশে চুপিসাড়ে ঢুকবেন তখন এই কথা চেঞ্জ হবে, তখন বলতে হবে নো লাক গেইন।।
অনুপ্রবেশ করলেই কি মেরে ফেলতে হবে? কেউ তো শখ করে নিজে দেশ ছেড়ে চলে যায় না। একটু সুখ ও পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে অবৈধ পথ পাড়ি দেয়।ধনী দেশের সমাজে তো টাকার ছড়াছড়ি, সেখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী কিছু নিরীহ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যেতে পারে। বর্ডারে মনুষত্ব ও বিবেক ঘুমিয়ে থাকে।সেখানে বুলেট রক্ত ঝরায়। বুলেট ঢুকবে অপরাধীর বুকে,নিরীহ লোকের বুকে নয়।অভিবাসীদের আশ্রয় না দিলে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হোক, কিন্তু রক্ত না ঝরুক।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!