প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকদ্যা চ্যেম্বার মেইড

সিনেম্যাটিক

দ্যা চ্যেম্বার মেইড

দ্যা  চ্যেম্বার মেইড

Movie name : The Chambermaid 

Country: Mexico (some spoilers) 🍒 

বিজ্ঞাপন

মেক্সিকান এই আর্ট ড্রামা সিনেমাটি আসলেই উপভোগ্য সেই সাথে অসাধারণ। যারা মেক্সিকান ক্লাসিক "রোমা" দেখেছে তাদের কাছে এই সিনেমাকে ক্লাসিক সিনেমাই মনে হবে। জীবন ও জীবিকার চাপে হয়ত ভুলে যাই আমি কে ? আমার অনুভূতির কি চাহিদা? আমার ভালো লাগা বা খারাপ লাগার বিষয়গুলো কি ?এগুলো হয়তো বিক্রিত সময় আমাদেরকে বুঝতে দেয় না। সময় প্রকৃতির অংশ হলেও যখন সে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়, মানে যখন আমরা কাজে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাই তখন অন্তরের আবেগ অনুভূতিগুলো ছন্দপতন কম বেশি হয়। সমাজের শ্রেনী বৈষম্য এই ছন্দপতন বেশি ঘটায়।।


মনস্তাত্ত্বিক ও দর্শনটাইপ এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন Lila Avilés। ভালো কাজ বলা যায়। বেস্ট মেক্সিকান আর্ট ড্রামা খুঁজলে এই সিনেমাটি পাবেন। এই সিনেমাটি নারী কেন্দ্রীক, নারীর শ্রম অধিকার আর জানালা দিয়ে স্বাধীনতা ও অধিকারের স্বপ্ন দেখা এই কন্সেপ্ট প্রাধান্য পেয়েছে। নারী কাজ করতে করতে তার ভালো লাগাকে ভুলে যেতে শুরু করে।।


সিনেমার মূল চরিত্র হচ্ছে মিস ইভ। মিস ইভ হোটেলে ক্লিনারের কাজ শুরু করেন করতেই থাকেন। হোটেলের ২০ ও ২১ নাম্বার রুমে। ফ্লোর পরিষ্কার, চাদর, বালিশ চেঞ্জ করা থেকে শুরু করে ওয়াশরুমে ক্লিন আর প্রতিটা রুমের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা। নোংরা চাদর তয়ালে সব ক্লিনে দেওয়া। ঘুরে ফিরে এই কাজ করার দৃশ্যগুলো সিনেমায় দেখানো গিয়েছে। এই কাজগুলোর মাঝেই পৃথিবীটাকে দেখতে পাবেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে টুকটাক গল্প করা। জীবন চলছে জীবনের নিয়মে সাথে আবেগহীনতা। নিজের ইচ্ছা স্বপ্ন গুলো যেনো হারিয়ে গিয়েছে। সারাদিন চার দেয়ালে আটকে থেকে থেকে ইচ্ছাগুলো জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিদিনের কাজের রুটিনের ফাঁকে একটু হলেও মিস ইভ নিজেকে বুঝার ও জনার চেষ্টা করে।।


সিনেমার মজার দৃশ্য হচ্ছে মিস ইভ রুমের বালিশ চাদর ঠিক করছে আর জানালার বাইরে ঝুলে ঝুলে একজন লোক গ্লাস ক্লিন করছে। রেগুলার করে। মাঝে মাঝে ওই লোক হাত নেড়ে হায় দেয়। কেউ বন্দী হোটেলে কাজ করে কেউ কাজ করে খোলা উন্মুক্ত আকাশের নিচে ঝুঁকি নিয়ে জানালা ক্লিন ও দেয়ালে রং করে। লোকটির মাথার উপরে খোলা আকাশ কিন্তু অন্তর বন্দী। সিনেমায় ডায়লগ কম কিন্তু অনেক মনস্তাত্ত্বিক ম্যসেজ আছে। নীরবতার মধ্যেই সৌন্দর্য। এর মাঝেই চাপা আবেগের গল্প। মিস ইভ ২১ তলায় কাজ করে কিন্তু ইভ চায় ৪০ ও ৪২ তলায় কাজ করতে। সেখানে টিপস বেশি কিন্তু সেটা তাকে দেওয়া হয় না।।


নিজের ইচ্ছাগুলো এইভাবে হারিয়ে যায়। জীবনে এগিয়ে যেতে চাইলেও হয়ে উঠে না। সিনেমায় থ্রিল নেই, রোমান্স নেই ট্র্যাজেডি নেই শুধুই নীরবতা। ড্রামার ধামাকা। সিনেমায় শ্রেনী বৈষম্য গুরুত্ব পেয়েছে। একেই হোটেলের ব্লিডিং এর মধ্যে ভিআইপি আবার সাধারণ। ভিআইপিতে সব ক্লিনারদের নেওয়া হয় না। মিস ইভের স্বপ্ন ভিআইপি রুমে কাজ করা। স্বপ্ন আলোর মুখ দেখে না। খোলা ছাদ আর জানালা তার আপনজন। এখানে দিয়ে বাহিরটা দেখে।।


যখন আমরা কোন হোটেলে উঠি তখন সব পরিপাটি থাকে। কতইনা আরামে থাকি। এই আরাম ও ভালো লাগার পিছনে থাকে কিছু মানুষের ঘাম ঝরানো। মিস ইভ চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন খেটে খাওয়া মানুষ স্বার্থপরের মত খেটেই যায়।।


** মিস ইভ কাজের প্রতি অনেক শ্রদ্ধাশীল, চেষ্টা করে আরো বেশি ভালো ভাবে তার দায়িত্ব পালন করার। একবার বিছানা ঠিক করে সেখানে বসে ছিলো পরে দেখলো সাদা চাদরে রক্ত। তার যে পিরিয়ড বলে ব্যাপার আছে সেটা হয়তো ভুলেই গেছে । এই রক্তকে আমি বলবো মুক্তির প্রতীক মানে কাজ থেকে মুক্তি নয়। এই মুক্তি হলো একটুকরো সময় নিজের করে নেওয়া,নিজের জন্য কিছু সময় গচ্ছিত রাখা। কষ্ট করতে করতে আমরা নিজের স্বাস্থ্যকে বিসর্জন দিয়ে থাকি। সমাজের একটা বাস্তব প্রতিচ্ছবি। জীবনটা সংগ্রামে কেটেই যায়। সুখ বহু দূরে। তার কাছে যাবো কি করে?


আপনি যদি আর্ট ড্রামা সিনেমা পছন্দ করেন তাহলে এই সিনেমা দেখতে পারেন। সিনেমাটি একটু স্লো তবে বেশ জীবনধর্মী। বাস্তবতা নীরবতা তুলে ধরা হয়েছে।।


ইভ হোটেলে রুমে লাল জামা পেয়েছিলো আর মনে মনে চেয়েছিলো এরকম জামা পরতে। লাল জামা এখানে বুঝিয়েছে নতুন স্বপ্ন ও ক্ষণিকের সুখ।।


কর্মজীবন আমাদের যান্ত্রিক বানায়। আমরা কাজ করতে করতে যান্ত্রিক হয়ে যায়। নিজের মনকে ভুলে যাই। নিজের অস্তিত্ব ও হৃদয়কে বুঝতে হবে। মন বলে একটা বিষয় আছে সেটাকে বেশি কষ্ট না দেই। মনকে পরিস্কার করতে হবে যেভাবে ইভা করে। নিজের মনের পরিচর্চা করলে নতুন করে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করবে।।


মেক্সিকান সিনেমার কালচার আসলেই মনোমুগ্ধকর।মিস ইভের প্রমোশন হয়ত হয় না কিন্তু সেই ২০ ও ২১ নাম্বার রুমে হয়ত তাকে পাওয়া যাবে।।

০ মন্তব্য · ৫৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!