Movie name : Miss Bala (2011)
Country : Mexico
সুন্দরী প্রতিযোগিতার আড়ালে চলছে ভয়ংকর মাদক ও চোরাচালান। সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এক নারীকে দিয়ে করানো হচ্ছে চোরাচালান কাজ।এক ভয়ংকর ড্রাগ কার্টেল গ্রুপের প্রধান লিনো ও তার দল এসব কন্ট্রোল করছে। তাদের হাতে বিক্রি হয় পুলিশ থেকে প্রশাসন ও বিনোদন মিডিয়া। এই সমাজে ছদ্মবেশে হরেক রকমের অপরাধ হয়। ভালো মুখোশ আর সৌন্দর্য কাজের আড়ালে অনেক অপরাধী চক্র তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যায়। যেহেতু তিনি মডেল ও সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী তাই তিনি সন্দেহের বাইরে থাকেন। মেক্সিকান এই ক্রাইম থ্রিলার সিনেমায় এই ব্যাপারগুলো প্রাধান্য পেয়েছে।।
সিনেমাটি নারী কেন্দ্রীক। অনেক সময় সুন্দরী নারীদের খেলনা বানানো হয় যেটা অপরাধীদের কাছে এক ধরনের ঢাল স্বরুপ। এই ঢাল ব্যবহার করে ফায়দা লুটে। নারীদের অন্ধ বিশ্বাস ও কোমলতাকে পুঁজি করে স্বার্থ উদ্ধার করে একদল বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্ন মানুষ।নারী শুধু চোখ দিয়ে নোনা পানি ফেলে, যেই নোনা পানি অনেক ভারী। নারীর শরীরটাই ঘুরে ফিরে ফিরে আসে। কেউ ভোগ করে আবার কেউ ব্যবসায় করে।।
মিস লড়া সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হলেও তার মনে কষ্ট আর হতাশা। সে বুঝতে পারলো এই সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক, সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ সবাই তাকে খেলনার পুতুল বানাতে ব্যস্ত। তারা সবাই দুর্নীতিবাজ। সবাই মুখোশধারী ভদ্র লোক। মুখোশের আড়ালে এরা ভয়ানক। সিনেমায় এই কন্সেপ্ট গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। যতদূর জানা যায় এটা সত্য ঘটনার উপর নির্মিত।।
সিনেমায় যেটা ঘটলো, মিস লড়া তার বান্ধবী মিস সুজিকে খুঁজছে। পুলিশ সাহায্য করলো না উল্টো সেই ড্রাগ মাফিয়া লিনোর হতে তুলে দিলো। লিনো এই মেয়েকে সেরা সুন্দরী বানিয়ে দিলো। কারণ সুন্দরী প্রতিযোগিতা যারা আয়োজন করেছে তারা নিজের ভাই ব্রাদার। সিনেমায় দেখায় বড় বড় ক্রিমিনালরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে মিডিয়া ও সুন্দরী মেয়েদের ব্যবহার করে। মিস লড়া অসহায় হয়ে উঠে। কষ্ট চেপে রাখা ছাড়া উপায় নেই।
মিস লড়া এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় আসে অনেকটা আশা নিয়ে কিন্তু অনেক সময় নিজেকে অজান্তে বিক্রি করে দিতে হয়। খেলনার পুতুলের মত অন্যের মনরঞ্জন করতে হয়েছে।বিশেষ করে সেনা প্রধান ও সরকারি দলের লোকজনের উপর গুপ্তচরবৃত্তি করিয়েছে লিনো। কারণ সুন্দরীদের অবাধ যাতায়াত থাকে। তাই সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত সুন্দরী থেকে সাবধান তবে নিজের স্ত্রী বাদে।।😜
কার্টেল লিনো মূলত মিস লড়াকে টার্গেট করে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সিনেমার গল্প মোটামুটি কিন্তু সুন্দরী প্রতিযোগিতার আড়ালে তাকে দিয়ে অবৈধ টাকা ও ড্রাগস তার শরীরের ভিতর ঢুকিয়ে পাচার করানো হয়। এই কনসেপ্ট টা ভালো ছিলো। যেহেতু সে মডেল তাই সন্দেহের উপায় থাকে না। এই সিনেমায় দেখালো যে, মিস লড়া যখন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় তখন সেনা প্রধান থেকে শুরু করে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবাই সেই সুন্দরীর স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। বাস্তবে হয়ত এরকমই হয়। সিনেমায় ড্রাগস কার্টেল ও পুলিশদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখানো হয়েছে।
তবে এটা সত্য যে মেক্সিকো তে ড্রাগস কার্টেল ও পুলিশের যুদ্ধে পুলিশ সহ হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছে। ডিরেকশন লোকেশন ভালো, খারাপ না তবে আরো ইমোশন রাখা যেতো। একটা মেয়ে একাই লড়ে যায়। নিষ্ঠুর সমাজে সে একাই সৈনিক। আহা নারী জাত....
মিস লড়া মুখে নিচু বলতে না পারলেও তার চোখ থেকে জল বের হওয়া দেখলে বুঝা যায় ভিতরে থেকে সে প্রতিবাদ করছে। নীরবতার ভাষা অনেক কঠিন কিন্তু সেই নীরব এক সময় প্রতিশোধ নেই। প্রকৃতি কিন্তু ছেড়ে দেয় না। সিনেমার শেষে দেখানো হয় যে পুলিশ মিস লড়াকে ধরে নিয়ে গেলেও মাঝ পথে রাস্তায় ছেড়ে দেয়। ভিন্ন কনসেপ্ট দেখতে চাইল দেখতে পারেন। মোটামুটি।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!