Movie Name :The Crime of Padre Amaro (2002)
Country: Mexico
ক্ষমতা, ধর্ম ও যৌনতা সিনেমার মূল বিষয়।।
ধর্ম যখন অধর্ম, ধর্ম যখন হয়ে উঠে মুখোশ, ধর্ম দিয়ে যখন সরল জনগণের আবেগ অনুভূতিকে কিনে ফেলা হয়, অপব্যবহার করা হয়,তখন ধর্মের সম্মান ও মর্যাদা কি থাকে?? আসলেই থাকার কথা না। ধার্মিক ব্যক্তি বলেই আমরা ভেবে নেই তিনি কত পবিত্র, কত ঈশ্বর ভক্তি। আসলে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দেয়। সত্যিকারের ধার্মিক ব্যক্তি অন্তত মানুষের আবেগ নিয়ে খেলবো না। অবৈধ অর্থের ঢাল হবে না।।
ভালোই লাগলো এই মেক্সিকান সামাজিক ড্রামা। যেখানে ধর্মের নামে অধর্মতা প্রাধান্য পেয়েছে। ধর্মের আড়ালে মানসিক অস্থিরতা, আদর্শ ও নৈতিকতার বিসর্জন আর ধর্ম প্রচারকদের ভণ্ডামির চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্বাস নিয়ে খেলা। ধর্মের পবিত্রকে মুখোশের আড়ালে কিছু যাজকরা অপবিত্র করে। মেক্সিকোর এক চার্জের দুই যাজক একজন ফাদার বেনিতো যিনি অবৈধ অর্ধের লেনদেন করেন আরেকজন নতুন ইয়ং ফাদার পেদ্রো এক নারীর যৌনতায় মগ্ন। অন্যের পাপ ছড়াতে নিজের পাপ সমুদ্রে ডুবে থাকেন। ধর্মের নিয়ম অনুযায়ী গির্জার ফাদারদের যৌনতা নিষিদ্ধ।।
সিনেমাটি মেক্সিকোতে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। মানুষের দুঃখ কষ্ট ও আনন্দ ফুটে উঠেছে। স্বাভাবিক জীবনে ধর্ম পালন নিয়মের মধ্যেই পরে কিন্তু মানুষ যাদের থেকে পূণ্যের পথ জানতে চায় তারাই যদি মুখেশের আড়ালে পাপে লিপ্ত হয় তাহলে সেটা হবে ঈশ্বর ও জনগণকে ঠকানো। মানুষের জীবনে গল্প ফুটে উঠেছে। জীবনে বাধা কষ্ট থাকবেই। ভালোর মূল্যায়ন নেই, মুখোশধারী মূল্যায়ন বেশি।।
মিঃ আমারো পেদ্রো মেক্সিকো শহরে চলে আসে এক গির্জার দায়িত্ব নিতে। এক বয়স্ক পুরোহিত মিঃ বেনিতো এই গির্জার অর্থায়নের কাজ করেন সেই সাথে মাফিয়া ও ড্রাগস লর্ডদের সাথে উঠা বসা। এই মাফিয়ারা গির্জাকে নিজেদের হাতিয়ার বানায়। ধর্মকর্ম অবশ্য তারা নিজেরাও করে। বেনিতো এসবে অভ্যস্ত হলেও ইয়ং ফাদার আমারো পেদ্রো ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয় বিশেষ করে আমেলিয়া নামে এক যুবতীর প্রেমে পরে যায়। মেয়েটি প্রেগনেট হয়। আব্রোশন করাতে গিয়ে মারাও যায়। নিজের আত্মার কাছে বেশ অসহায়।
যদিও এই ঘটনা ধামাচাপা হয়ে যায়। তবুও নিজের আত্মা পাপে জর্জরিত। শেষের দিকে দেখা যায় ফাদার পেদ্রো প্রার্থনা করছে সবাইকে নিয়ে। সামনে আমেলিয়ার লাশ। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাসের জায়গা। এই বিশ্বাসকে কাজে লাগায় কিছু অসাধু। গির্জার পুরোহিত হলো সম্মানের, তিনি মানুষের আশা ভরসা কারণ তিনি ঈশ্বরের সেবায় নিয়োজিত। তার কাছে সবাই আসে প্রার্থনার জন্য, অথচ কিছু অসাধু লোভী পুরোহিত এই পবিত্রতা নষ্ট করে। সিনেমায় ধর্মের এই নেগেটিভ দিন তুলে ধরা হয়েছে।।
ধর্ম পবিত্র কিন্তু তার অপব্যবহার ভয়ানক। কিছু মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে মানে স্রষ্টার নাম ব্যবহার করে তাদের আপন কলুষ লুকাতে। ধর্ম যেখানে ক্ষমতার উৎস সেখানে প্রভাবশালীদের চাটুকারিতা করা ঠিক না। সিনেমা যেরকম মানে সিনেমা যা বলতে চায় আমি সেইভাবে বিবরণ দিলাম। ধর্ম সেনসেটিভ। ব্যক্তিগতভাবে আমি সব ধর্মকে রেসপেক্ট করি।।
সিনেমায় আমেলিয়ার মৃত্যুটা মন খারাপের জন্য যথেষ্ট। কলুষকে মেঘের আড়ালে রাখতে সেই কলুষে লিপ্ত হতেই হয়। পূণ্য দিয়ে কলুষ ঢাকা যায় না। তাই কলুষে জড়ালে স্বীকারোক্তি করা আগে ভালো।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!