Billionaires Bunker (2025), Country : Spain
Season 01 Episodes 08. ( Some spoilers)
বিলিয়ন টাকা থাকলে তো চাঁদেও যাওয়া যায় আবার মাটির হাজার ফিট গভীরেও যাওয়া যায়। তবে এখানে চাঁদে নয় একদল বিলিয়নিয়ার পরিবার চলে যায় মাটির হাজার ফিট গভীরে যেখানে আছে শক্তিশালী বাংকার যেই বাংকার শক্তিশালী মিসাইল বা নিউক্লিয়ার বোম প্রতিরোধ সম্পন্ন কারণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এটাই নিরাপদ আশ্রয়স্থল। তবে আসলেই কি যুদ্ধ চলছে? বিলিয়নারেরা এখানে এসে মেন্টালি বা ফিজিক্যালি কোন দিক দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে না তো??
ফেক ফিউচার টাইমলাইন,ফেক যুদ্ধ, টিকে থাকার লড়াই,ফ্যামিলি দ্বন্দ্ব, প্রেম ও ভালোবাসা, ভুল বুঝাবুঝি এই কন্সেপ্ট গুলো প্রাধান্য পেয়েছে বিশেষ করে সাইকোলজিক্যাল কন্সেপ্ট। মাইন্ডস গেম খুব ভালোভাবে সবার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে। সিরিজের ভালো লাগা বিষয় ছিলো টেকনোলজি ও ভিএফএক্স। সিরিজের গল্প ভালো তবে মেকিং বা ডিরেকশন আর বেটার করা যেতো। একটা বিশাল ভ্রম বা মরিচকায় আটকে আছে কিছু মানুষের জীবন।।
হাজার কোটি টাকার মালিক যাদের অনেক ক্ষমতা তারাই ভয়ংকর টেকনোলজির ও আধুনিক সিস্টেমের ফাঁদে পড়ে গেলো। প্রকৃতি যখন আপন মনে গান গাইছে তখন হাজার ফিট গভীরে বাংকারে ভিতরে থাকা বিলিয়নেরা মাটির টিভিতে দেখতে পায় শুধুই পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ।। আসলেই কি হচ্ছে??
চারিদিকে ভ্রম আর মোহ আর প্রযুক্তি সেই সাথে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের করা হয়। যদিও বিলয়িনারদের সম্পদ ও বিজনেস নিয়ে অনেক গবেষণা করা হয়। কৌশলে হয়ত সেগুলো হাতিয়ে নেওয়া প্ল্যান। তাদের সবাইকে একটা আধুনিক বাংকারে রাখা হয় যেখানে অন্ন,বস্ত্র,খাদ্য ও জিম সহ সকল ব্যবস্থা আছে। কৃত্রিম প্রকৃতির ব্যবস্থাও আছে। আসলে বাহিরে কি ঘটছে??
প্রথম এপিসোড টুইস্ট পেলাম। আসলে হলো টা কি? মানি হাইয়েস্ট সিরিজের পরিচালক এলেক্স পিনা সিরিজটি ডিরেক্ট করেছেন। মানি হাইয়েস্ট ব্যাংক ডাকাতি দেখালেও এই সিরিজে মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের দুর্দান্ত চুরি দেখানো হয়। কতজন বিলিয়নিয়ারদের সাথে মাইন্ড গেম শুরু হলো। এই প্ল্যানের পিছনের গল্প ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সেই রকম জটিল ছিলো। টেকনোলজি ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে রিতিমত ঘোল খাইয়ে রেখেছে বিলিয়নিয়ারদের।।
সিরিজের মূল গল্পে আসি তাহলে, ম্যাক্স জেলখানা থেকে মুক্তি পায়। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালায় তার হবু স্ত্রী আন্নি মারা যায়। ম্যাক্সের জেল হয়। টিকে টাকার লড়াই করে জেলে থেকেই স্ট্রং পার্সন হয়ে উঠে। অবশেষে মুক্তি পেয়ে বাবার সাথে ব্যাংকারে চলে আসে। সেখানে আন্নি পরিবার ছিলো। দুই পরিবারের।মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও সেই দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে কমে যায়। আন্নির বোন এলিস এর সাথে ম্যাক্সের ভালো খাতির হয়ে উঠে। ম্যাক্স ধীরে ধীরে বুঝতে পারে পুরো দুনিয়া ঠিক আছে তাদের খুব স্পেশাল ভাবে বোকা বানিয়ে বাংকারে রাখা হয়েছে। তাই ম্যাক্স হয়ে উঠে সত্যান্বেষী।
সিরিজের দেখানো হয় এআই প্রযুক্তি সহ মাস্টার প্ল্যান। সিরিজের গল্প বা প্লট যতটা ভালো মেকিং ততটা উপভোগ্য লাগলো না। পার্সোনাল ইমোশন ড্রামা, পার্সোনাল সম্পর্ক, লেসবিয়ানিজম ও যৌনতা একটু গুরুত্ব পেলে ভালো হতো। ভালোবাসা থাকবে কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে কম।।
তবে সিরিজের অন্যতম খল নায়িকা মিস মিনার্ভার চরিত্রটা পারফেক্ট ছিলো। মহিলা বেশ টাইলান্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার যার হাতে এই বাংকার সৃষ্টি। তার কাছে আছে গুপ্তচর আর শক্তিশালী হলুদ মিডিয়া যারা বিলিয়নারদের টার্গেট করে প্রযুক্তি নির্ভর মোহে আটকে দেওয়া হয়। মিস মিনার্ভা ট্যালেন্টেড সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। কিভাবে এই বাংকার হলো টা দেখানো গিয়েছে। মিস মিনার্ভার ও তার টিমের কার্যক্রমগুলো পারফেক্ট ছিলো।।
কেনো এই কাজ??? হয়ত তাদের সম্পদ দখল আবার তদের মনস্তাত্বিক পরীক্ষা করা, এটা দেখা যে বিলিয়ন সম্পদ হারালে মন মানসিকতা কেমন হয়? আচরণের পরিবর্তন কেমন হয়? বিলিয়ন টাকা ছেড়ে থাকতে কেমন হয় সেটাও পরীক্ষা হয়ে যায়। মিস মিনার্ভার টার্গেট এটাই হয়তো সেই সাথে তাদের অর্থ নিজেদের কাছে রাখা। শেষের এপিসোড ভালো ছিলো।
শেষের দিকে কিছুটা জমে উঠেছে। ম্যাক্স এগিয়ে যাচ্ছে তো যাচ্ছে। নতুন করে সূর্যের আলো দেখার অপেক্ষায়।
সিরিজে থেকে বুঝতে পারা যায় মিথ্যা যতই শক্তিশালী হোক না কেনো এটা এক সময় দুর্বল হয়ে যায়। সত্যি উম্মুক্ত হয়। বিলিয়নররা তাদের পাহাড় পরিমাণ সম্পদ ছেড়ে কি ভাবে থাকে সেটাও বুজতে পারা যাবে। এটা এক দিক দিয়ে এক্সপেরিমেন্ট হয়ে গেলো মানে মাধ্যমে দেখা হলো যে, সম্পদবিহীন মানুষ গুলোর অহংকার ও দাপট কতটুকু কমে, সম্পদ ছাড়া নিজেদের কত ভালো রাখতে পারে। তবে গল্প শেষের দিকে যেভাবে টার্ন নিলো তাতে দ্বিতীয় সিজন লাগবেই।।
দেখা যাক, বাংকার টিমদের আসল রহস্য কি? তাদের সম্পদ লুট নাকি তাদের মনস্তাত্বিক পরীক্ষা।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!