Movie name: Frankenstein (2025)
Country: USA 🇺🇸♥️ ( Discussion with spoilers)
একজন মনস্টার বা দানবের ইচ্ছা হয়েছিলো সে মানুষ হবে কিন্তু সমাজের কিছু দানবরুপী মানুষগুলো তাকে মানুষ হতে দেয় নি। দানবের মনে অনেক চাইদা ছিলো। সে চায় ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও সম্মান কিন্তু সে দানব তাই ব্যাচারা সব থেকে এখন বঞ্চিত। আমরা মানুষ সুধ শারীরিকভাবে অন্তরের ফিলোসফি থেকে মানুষ কতটুকু হতে পেরেছি? কিছু মানুষ হিংস্র দানব হয় কারণ সে তার মনুষত্ব বিক্রি করে দিয়েছে। অন্যদিকে এক মনস্টার বা দানবের অন্তরে মনুষত্ব উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে, শুধুই একটু স্বীকৃতি চায়। অসধারণ সিনেমা, এক কথায় দুর্দান্ত। সিনেমার কন্সেপ্ট বা প্লট দেখে অবাক হয়ে গেলাম। ভালো নির্মাণ।।
মিথলজি, সাইন্স ফিকশন, ড্রামা ও থ্রিলারে ভূরপুর। বেশ ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপার। ১৮১৮ সালের বিখ্যাত উপন্যাস 'Frankenstein' থেকে নির্মিত হয়েছে। উপন্যাসটি রচনা করেছেন মেরী শ্যালি। গল্পটি আমার পড়া হয়নি কিন্তু মুভিটি দেখে নিলাম। জীবন্ত গল্প দেখতে ভালোই লাগে।।
🍒** স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে দ্বন্দ ** 🍒
🔭 বিজ্ঞানী vs 👽 দানব
যিনি কোন কিছু যখন সৃষ্টি করবেন সেটার মান, মর্যাদা ও চাহিদা তিনি দেখভাল করবেন। এটাই নিয়ম হওয়া উচিত। মিঃ ভিক্টর ফ্রাকসেকিন বিখ্যাত বিজ্ঞানী যিনি মানুষের মৃত কোষ থেকে সৃষ্টি করলেন এক দানব রুপী মানব যে জন্ম থেকে মৃত্যুঞ্জয়ী যার মৃত্যু নেই। সৃষ্টি করলেও সৃষ্টির দায়িত্ব নিতে নারাজ। সৃষ্টি হলো এক কুৎসিত দানব কিন্তু অন্তরে আছে শুপ্ত মনুষত্ব। মানুষের মাঝে সে থাকতে চায়। সমাজ বড়ই ফাকিং টাইপ নিষ্ঠুর, তারা এই দানবটাকে জায়গা দিলো না। দানব একটু সহানুভূতি ও ভালোবাসা চায়। যে সৃষ্টি করলো কিন্তু সৃষ্টির দায়ভার না নিলে তখন তার মধ্যে আসবে অশান্তি ও ধ্বংস। বিজ্ঞান যখন সৃষ্টি করবে তখন মর্যাদাও রাখতে হবে। এদিকে বিজ্ঞানী ভিক্টর ফ্রাকসেনকিন আগুনের মধ্যে রেখে, তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।।
🖤 গ্রাফিক্স ও ভিএফএক্স * 🖤
সিনেমার গ্রাফিক্স বা ভিএফএক্স বেশ পারফেক্ট ছিলো। তবে মেকআপের কথা বলতেই হয়। দানবের যে চরিত্র সেটার মেকাপ বেশ বেশ ভালো হয়েছে। শুধুই কি মেকআপ, অভিনয় ছিলো দেখার মতন। একদম জীবন্ত।গল্পের চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছে। ওভার অল ভালো মানের ভিএফএক্স সিনেমার দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যিনি মেকআপ আর্টিস্ট তিনি পুরষ্কার পাওয়ার যোগ্য। প্রতিটা দৃশ্য দেখার মত উপভোগ্য ছিলো। লোকেশন ও সেট ডিজাইন ও দুর্দান্ত। গল্পের সাথে পারফেক্ট মানিয়েছে।।
**** ভিক্টর ও দানব বা ক্রিয়েচার ****
😊নিজেদের গল্প☺️
ভিক্টর একজন বিজ্ঞানী তিনি এমন এক প্রাণ সৃষ্টি করতে চান যেখানে মৃত্যুর পরাজয় হবে। সেই প্রাণের মৃত্যু হবে না। তাই অনেক গবেষণা করে একটা মানবরূপী ক্রিয়েচার বা দানব সৃষ্টি করেন। যেখানে প্রযুক্তি ও বজ্রের বিদুৎ দিয়ে মৃত কোষ জীবিত করে এক দানবকে সৃষ্টি করা হয়। ভিক্টরের চরিত্রটা ভালো লাগবে। সিনেমায় দেখা যায় তিনি নিজের সৃষ্টির প্রতি অহংকারী হলেও শেষের দিকে তার নিজের সৃষ্টির কাছে ক্ষমা চান। আসলে দনবটি সহানুভূতি চেয়েছিলো কিন্তু বিজ্ঞানী ভিক্টর তার সৃষ্টিকে অবহেলা করেছেন যেটা তিনি শেষের দিকে বুঝতে পেরেছেন। ক্রিয়েচার বা দানবটি নিজের ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাহিদা পেতে মরিয়া। দুজনের গল্পের মধ্যে গভীর আবেগ আছে। ভালোবাসা ও মান অভিমান আছে।।
🔭 🍒 বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানী 🍒👽
** মিঃ ভিক্টর একজন বিজ্ঞানী
** দানব বা ক্রিয়চার হতে পারে মনোবিজ্ঞানী
আমি মনে করি মিঃ ভিক্টর একজন মেধাবী বিজ্ঞানী যিনি এমন এক দানব প্রাণ সৃষ্টি করলেন যার মৃত্যুই হয় না। মেরে ফেললেও বেঁচে উঠে। এটা তার বিস্ময়কর কিন্তু সৃষ্ট ও সৃষ্টির যে সম্পর্ক সেটা বিজ্ঞানী হয়তো জানে না। দানবটি নিজেকে বুঝতে পারত সেই সাথে অন্যদেরও মন। দানবটির অন্তরে শুধুই সম্মান ও আন্তরিকতার চাহিদা। সিনেমায় দেখা যায় দানবটি ভিক্টরের অবহেলিত হলেও ভিক্টরের ভুল ও অবহেলার জন্য ভিক্তরকে ক্ষমা করে দেয়। ক্ষমা যে মহৎ গুণ সেটা দানবের হৃদয় বুঝতে পেরেছিলো।
দনবটি খারাপ হতে চায় নি সে আমাদের মত মানুষ হতে চেয়েছিল সেটা অন্তরের দিক থেকে অবশ্য। তার মনের কথা গুলো প্রমাণ করে সে দানব হলেও অন্তর থেকে সে মানুষ। এটাই বলতে পারি ভিক্টর একজন বিজ্ঞানী হতে পেরেছে কিন্তু মনবিজ্ঞানী হতে পারেনি, সেটা হয়েছে এই দানব বা ক্রিয়েচার।
🔵 সিনেমার বিশেষ ও ভালো লাগার দৃশ্যগুলো 🔵
সিনেমার ভালো লাগার দৃশ্য অনেকগুলো আছে। প্রথমে যেমন চেয়ারের উপর দানবের এক্সপেরিমেন্ট মানে তাকে জীবিত করা। ভিক্টর ঘুম থেকে যখন উঠে তখন অবাক হওয়ার দৃশ্য ভালো লাগবে। নিজের সফলতা দেখে নিজেই অবাক। এলিজাবেথের সাথে দানবের বন্ধুত্ব সিনেমার অন্যতম ইমোশনাল দৃশ্য। শেষের দৃশ্যে তো আছেই।।
🟣 সিনেমা কেনো দেখবেন ? কি ম্যাসেজ দেয়? 🟣
আপনি যদি গল্প উপন্যাস থেকে নির্মিত সিনেমা পছন্দ করেন তাহলে এটা মাস্ট ওয়াচ। সেই সাথে বোডি হরর বা ক্রিয়েচার বা সাইন্স ফিকশন টাইপ ড্রামা পছন্দ তারা এই সিনেমা দেখতে পারেন। সিনেমার মূল ম্যাসেজ আমি যেটা মনে করি সেটা হলো একজন দানব মনুষ্যত্ববোধ নিয়ে মানুষের সাথে থাকতে চায়। সে কুৎসিত দানব কিন্তু তার অন্তর পুরোটাই সত্যিকারের মনুষত্ব দিয়ে তৈরি। সে হিংস্র হতে চায় না অথচ আমরা মানুষ কিন্তু মনুষ্যত্ববোধের অভাব আছে। দানব জো নষ্ট সমাজে যখন ভালো মানুষের মতো হতে চায় তখন।মানুষের লজ্জা পাওয়া উচিত।।
স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সম্পর্ক থাকা উচিত। সৃষ্টি যখন করবে সেটার দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়। অহংকার এক সময় মাটিতে মিশে যায়। সৃষ্টির অহংকার ভালো না। নৈতিকতা ও সৃষ্টির সীমাবদ্ধতা থাকতে হয়।।
নিজের অস্তিত্ব ও সম্মান সবাই চায়। নিজের শেকড় ধরে রাখার অধিকার সবার যেমন আছে ঠিক তেমনি এই দানবেরও আছে। প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান না পেলে মনে অশান্তি ও প্রতি হিংসা আশা স্বাভাবিক।।
✨ শেষের দৃশ্য কিছুটা ইমোশনাল। সৃষ্টি তার স্রষ্টাকে বিদায় জানায় মানে তার মালিক বিজ্ঞানী ভিক্টরকে বিদায় জানায়।।
🌹 সিনেমার মূল চরিত্র ও অভিনয় 🌹
ভিক্টর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কার আইজ্যাক আর দানবের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেকব এলোর্ডি। দুজনের অভিনয় ভালো হয়েছে তবে দানবের চরিত্রে জেকব অভিনয়ের সেরাটা দিয়েছে, আমি মনে করি।।
🟡🟡 পজেটিভ ও নেগেটিভ দিক 🟡🟡
পজেটিভ ও কিছু নেগেটিভ রিভিউ মিলে এই সিনেমা লাখো দর্শক দেখছে। কিছু সমালোচকদের মতে স্ক্রিপ্ট এ দুর্বলতা একটু আছে কারণ পরিচালক সরাসরি গল্প কপি পেস্ট করেন নি মেকিং এ কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে দানব ও তার মনের অবস্থাকে বেশি ফোকাসে আনা হয়েছে।।।
তাহলে দেখে নিন এই বছরের অন্যতম আলোচিত সমালোচিত হলিউড সিনেমা ।।
আমি রেটিং দিলাম ০৮/১০.
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!