Movie name : Like water for Chocolate (1992)
Country: Mexico 🇲🇽
মেক্সিকান আর্ট ড্রামা দেখার অন্যতম কারণ হলো তারা তাদের সংস্কৃতিকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলে যেটাকে আমি বলি শিল্পীর জীবন্ত ছবি। ড্রামা ও রোমান্স ভরপুর এই ম্যাজিক্যাল রান্না ভিত্তিক সিনেমা। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝে ম্যাজিক্যাল ঘটনা ফুটে উঠে। তখন ঐ ম্যাজিক্যাল ব্যাপারগুলো হয়ে যায় বাস্তব। তবে যত ম্যাজিক খাবারের মধ্যে লুকায়িতো।
বাড়ির ছোট কন্যা টিটো হরেক রকমের রান্না করেন। রান্না করা খাবারের মধ্যেই তার আনন্দ কষ্ট মানে আবেগ অনুভূতি গুলো ফুটে উঠে। তার হাতের রান্নার খাবার খেয়ে যে কারো শরীরের অনুভতির পরিবর্তন হতে পারে যেনো মায়াবী জাদু। রোমান্টিক আর্ট সিনেমা হিসেবে এটি পারফেক্ট।।
লরা এস্কুইভেলর উপন্যাস অবলম্বনে এই সিনেমা নির্মিত। এটি ১৯৮৯ সালের উপন্যাস। প্রতিটা ডায়লগের মধ্যে আবেগ আছে, দর্শন আছে মনে হয় চরিত্রগুলো যেনো জাদু দিয়ে তৈরি। গল্পের গভীরতা অনেক, তার চেয়ে বেশি গভীর প্রেম। শরীর ও মনের মধ্যে দ্বন্দ্বের খেলা চলে। বাড়ির ছোট মেয়ে টিটো ও তাদের প্রতিবেশী ছেলে পেদ্রোর মধ্যে প্রেমের বন্ধন জোড়া লাগা সম্ভব নয়। সেই আঠারো শতকের সময়ে সামাজিক ও বংশের রীতিনীতির কাছে প্রেমের পরাজয় হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার।।
** রান্না একটা শিল্প। সিনেমায় রান্না শিল্পকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মিস টিটোর মা এলেনা বেশ করা ভাবেই সব তদারকী করে থাকেন। কারণ গার্জা পরিবারের উনি প্রধান। হরেক রকমের ও হরেক রঙের মশলা দিয়ে রান্না হয়। আগুনের একটা মায়াবী তাপ রান্নার উপর প্রভাব বিস্তার করে। মাংস রান্না থেকে শুরু করে স্যুপ আর ব্রেড সব রান্নার মধ্যেই মিস টিটোর আনন্দ কষ্ট ভালো লাগার জাদুকরী অনুভূতিগুলো রান্নার সাথে মিশে যায়। যেটা খেলে শরীরে অনুভতির জাদুকরী পরিবর্তন আসে**
** আঠারো শতকে মেক্সিকোতে ছোট মেয়েদের সহজে বিয়ে হতো না। মায়ের সেবা করবে। মায়ের মৃত্যুর পর বিয়ে। টিটোর মা এলেনার কঠোরতার কাছে সবাই মাথা মত **
সিনেমার গ্রাফিক্স সেট ডিজাইনিং ভালো ছিলো। সামাজিক জনারের মধ্যে রোমান্স আর কিছুটা ম্যাজিকাল ফ্যান্টাসিজম রয়েছে সেই সাথে বিচ্ছেদ এবং রান্নার শিল্প। এটাই হলো জনার। মিক্সড জনার।সবার অভিনয় কম বেশি ভালো ছিলো।
পেদ্রো সাহসী ছেলে। তার বাবা সরকারি দলের লোক সেই সাথে কমিনিউস্ট বিদ্রোহীদের দমনের পক্ষে কিন্তু পেদ্রো কমিনিউস্টদের পক্ষে। এটা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়ে যায়। পেদ্রো মিস ভালোবাসার প্রেমিকা টিটোকে বিয়ে করতে পারলো না কিন্তু বিয়ে করতে হলো টিটোর বড় রোসাউরাকে। মিস টিটো মন থাকে বেশ আঘাত প্রাপ্ত হোন।সিনেমায় প্রেমের বিচ্ছেদ ও তার প্রতিক্রিয়া খুব সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে।।
বিচ্ছেদের চাপা কষ্টগুলো তার রান্নায় ফুটে উঠে। কারণ তাকে সারাদিন রান্না করতে হয়। যতই বিচ্ছেদের কষ্ট পায় ততই জাদুকরী কার্যকলাপ ফুটে উঠে। একদিন মিস টিটোর রান্না করা খাবার খেয়ে সবার এমন ভাবে সেক্স উঠে সবাই টেবিল ছেড়ে দৌড়ে পালায়। তার ছোট বোনের গায়ে আগুন ধরে যায়। গোসল করতে গিয়ে গোসলখানা পুড়ে যায়। মূলত আবেগ ও অনুভতির গরমকে একটু ম্যাজিক্যালি প্রেজেন্ট করা হয়েছে।।
অনেক ঘটনা ঘটে যায়। সেই সময়ে মেক্সিকোর রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। কৃষক বিদ্রোহ, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছিলো। টিটোর ছোট বোন পালিয়ে যায়। বড় বোন এক সময় মারা গেলে বহু বছর পর পেদ্রো ও টিটোর মধ্যে সেই পুরোনো প্রেমে জাগ্রত হয়। টিটো ও পেদ্রো এক সাথে মিলিত হলো। সেক্স করতে করতে মারা গেলো পেদ্রো। টিটো স্থির থাকতে পারলো না। অনেকগুলো ম্যাচের কাঠি খেয়ে ফেললো। তার গায়ে আগুন ধরে গেলো। পুরো বাড়ি পুড়ে গেলো। এভাবেই শেষ হয় সিনেমা।
সিনেমায় আরো অনেক কাহানি হয়েছে। সেগুলো দেখে নিবেন।।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!