প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকপুতুল নাচের ইতিকথা

সিনেম্যাটিক

পুতুল নাচের ইতিকথা

পুতুল নাচের ইতিকথা

Movie name: Putul nacher Itikotha

Country: India 

বিজ্ঞাপন


পুতুল নাচের ইতিকথা এই উপন্যাসের নামটির সাথে হয়ত সবাই পরিচিত। পরিচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কারণ বিখ্যাত উপন্যাসিক মানিক 


মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সেরা সৃষ্টি মানে সেরা উপন্যাস বলা যায়। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। এই উপন্যাস অবলম্বনেই কলকাতার পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় নির্মাণ করেন পুতুল নাচের ইতিকথা সিনেমা। সিনেমায় অভিনয় করেন আবীর চ্যাটার্জি, জয়া আহসান, পরমব্রত সহ আরো অনেকে। উপন্যাসটি যেনো জীবন্ত ফুটে উঠেছে সিনেমার পর্দায়। 


সমাজের শিক্ষা ও অশিক্ষা, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস আবেগ, মধ্য ও নিম্ন বিত্তের কষ্ট ও আনন্দ প্রাধান্য পেয়েছে। আমরা এক ধরনের জীবন্ত পুতুল আর আমাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থা সেই সামাজিক অবস্থা হতে পারে আলোকিত আবার হতে পারে অন্ধকার। পরিবেশ ও সংস্কৃতি আমাদের পুতুল বানিয়ে রাখে যেমন নাচায় তেমনি নাচি। তবে গ্রামে একজন ছিলো যে নাচতো না, যে নাচতো নিজ শিক্ষায়, নিজ দর্শনে,সে হলো ডাক্তার শশী। আবীর চ্যাটার্জি এই চরিত্র ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছে।।


কুসুম চরিত্রটা ভালো লেগেছে। জয়ার লুক ও এক্সপ্রেশন দুর্দান্ত ছিলো। চোখে যেনো মায়াবী মায়া লুকিয়ে আছে। হাসিতে জাদু আছে যেই জাদু অন্তরে ধাক ধাক করে তুলে। মায়াবতী এই আবেদনময়ী নারীর আবেগের ফাঁদে পা দেয় তো আবার দেয় না শশী সাহেব। তবে শসী সাহেব গ্রামের কুসংস্কার নিয়ে চিন্তিত। আমরা অজান্তেই পুতুল হয়ে যাই। আমরা সিস্টেম বানাই আবার আমরাই নিজেদের সিস্টেমে পরে পুতুলের মত পরিচালিত হতে থাকি। এটাই মূল।কথা।।


গ্রামের সবুজ পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। গাছ লতাপাতায় সাপখোপে ভরপুর গ্রামের রাস্তাঘাট। বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপার। সেই পুরনো গ্রামীণ সংস্কৃতি। তবে গ্রামের মানুষ অত শিক্ষায় শিক্ষিত না।অন্ধ বিশ্বাস ও কুসংস্কার গুলো যেনো তাদের বাস্তব ও আলোর সাইকোলজি দখল করে আছে। সেই জমিদার বাড়ীগুলো হয়তো এখনো আছে।।


শসী সাহেব ডাক্তারি পাশ করে নিজ গ্রামে চলে আসে। নিজের গ্রামের মানুষ ও পরিবেশের সাথে মেলামেশা ও মানিয়া চলা অনেকটাই চ্যালেঞ্জ কারণ তার শিক্ষা ও চিন্তার সাথে গ্রামের মানুষের চিন্তার পার্থক্যের ব্যবধান অনেক অনেক। চাইলেও অসুখ নিয়ে শারীরিক সুস্থতা নিয়ে সত্য বলা যায় না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিত্সা করে। সেই সাথে কুসুমের সাথে বেশ খাতির। এক অন্ধ চাপা প্রেম দুজনের মাঝে যদিও কুসুম বিবাহিত। দুইজনের ক্যামিস্ট্রি ভালো ছিলো।। 


কুসংস্কার ও অশিক্ষা গ্রামের মানুষগুলোকে পুতুল বানিয়ে রেখেছে। এটাই হতো এক সময়ে। গ্রামের কৃষক জমিদার পরিবার, দারিদ্রতা প্রাধান্য পেয়েছে। গ্রামের গান ও যাত্রা নাটকের সংস্কৃতি গুরুত্ব পেয়েছে। উপন্যাসিক ড্রামা টাইপ সিনেমা আগ্রহ থাকলে এই।সিনেমা দেখতে পারেন। তবে উপন্যাস পরে যতটা ভালো লাগবে, সিনেমা ততটা ভালো লাগতে নাও পারে। গ্রামীণ পরিবেশে ভালো লাগবে। সিনেমার লোকেশন ও ১৯৩০ দশকের সেট ডিজাইনিং ভালো ছিলো। অভিমান ও সুপ্ত ভালোবাসা গুলো যেনো পিছু ছাড়ে না।।


কুমুদের চরিত্রটা একটু ইউনিক। সিনেমায় ভিন্ন মাত্রা স্বাধ যোগ করে। কুমুদ হচ্ছে শশীর বাল্য বন্ধু। কালচারাল মাইন্ডের। গান ও নাটক করে থাকে। গ্রামের পরিবেশের সাথে মিশে যায়। অল্প বয়সী একটা মেয়ের প্রেমেও পরে যায়। শশী ও কুমুদ দুজনে শিক্ষিত হলেও দুইজনের সাইকোলজি ও স্বপ্ন ভিন্ন। কুমুদ জীবনের উদ্দেশ্য ভালোই বুঝে। কুমুদ মনে হয় পারপার্শিক অবস্থাকে মেনে নেয় অন্যদিকে শশী পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করে।। 


এই সিনেমাকে সমাজের আয়নাও বলা যায়। সমাজের সিস্টেম মানুষের ব্রেইনকে কিভাবে পুতুল বানায় সেটার জন্য এই সিনেমা দেখতে পারেন। এখানে দেখানো হয়েছে কলেরা ও পক্স নিয়ে মানুষের ভ্রান্ত ধারণা কিন্তু শশী এই ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে চায় কিন্তু গ্রামের মানুষের সাথে পেরে উঠতে পারে না। হতাশা ও অভিমান তার অন্তরে কাজ করে।। 


পণ্ডিত মশাইয়ের চরিত্রটাও গুরুত্বপুর্ন। উনি প্রকৃতির উপর অনেকটা বিশ্বাসী। আধুনিকতা ও পরিবর্তনে অতটা বিশ্বাসী নয়। গ্রামের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করা। অন্ধবিশ্বাস করে। শশী সাহেবের সাথে কিছুটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে। শশী চায় আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান দিয়ে মানুষকে বুঝাতে কিন্তু পণ্ডিত সাহেব চায় তার প্রচলিত জ্ঞানের ধারায় বজায় থাকতে। উনি সূর্যের পূজা করেন। তিনি মনে করেন এটাই শক্তি।।


শেষের দিকে দেখায় শশী গ্রামে বড় হাসপাতাল এর পরিচালনা করছে। কি কাহানি দেখে নিবেন। অনেক দিন পর কলকাতার মুভি দেখলাম। ভালো লাগলো।।


০ মন্তব্য · ৩৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!