প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকপেড্রো প্রামো (২০২৪)

সিনেম্যাটিক

পেড্রো প্রামো (২০২৪)

পেড্রো প্রামো  (২০২৪)

Movie name : Pedro Pramo (2024)

Country: Mexico 🇲🇽

বিজ্ঞাপন

বেশ আলোচিত মেক্সিকান ড্রামা হরর সিনেমা যেটা নেটফ্লিক্সে রিলিজ হয়েছিলো এবং ভালোই সারা ফেলেছিলো। মেক্সিকান লেখক ও সাহিত্যিক জুয়ান রাফ্লো এর উপন্যাস Pedro Pramo অবলম্বনে এই সিনেমা নির্মিত।উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন রড্রিগো প্রিয়েতোর। ম্যাজিকাল রিয়ালিজম টাইপ ড্রামা সিনেমা পছন্দ করে থাকলে এটা দেখতে পারেন। মিঃ জুন তার মৃত বাবাকে খুজতে বের হোন। পথ চলতে চলতে মেক্সিকোর কোমালা গ্রামে চলে যান যেখানে জীবিত ও মৃতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই।।


পেদ্রো প্রামোর পরিচয়টা আগে বলি। তিনি ছিলেন একজন স্বৈরশাসক জমিদার যার মধ্যে ছিলো নিষ্ঠুরতা ও হিংস্রতা। বেশ সুবিধাবাদী আর নারী লোভী।সন্তানের অভাব নেই। তার জন্য সমাজের গরীবেরা আরো গরীব হতে লাগলো। ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে নিজের পাপ শুধরে নিতো। আসলে ধর্ম যাজককে তিনি কন্ট্রোল করতেন। সিনেমাটি বেশ ম্যাজিকাল মানে বাস্তবতার মাঝে অবিশ্বাস্য কিছু ব্যাপার সেই সাথে বেশ মনস্তাত্ত্বিক ও ফিলোসফি টাইপ তুলে ধরা হয়েছে। মৃত ও আত্মা, এই কনসেপ্ট দুটো অনেকটাই রুপক অর্থে দেখানো হয়েছে। এক নিষ্ঠুর জমিদার ও তার পরিণতি দেখানো হয়েছে।।


পাপ বাপকেও ছাড়ে না এই বিষয়টা দেখলাম। পাপী মরে যায় কিন্তু তার পাপের প্রতিক্রিয়া ও ফলাফল থেকে যায় বহু যুগ ধরে। কারণ মানুষের অন্তরে ঘৃণার মেয়াদ অনেক বেশি,বিশেষ করে নিপীড়িত ও নির্যাতিত মনুষদের অন্তরে ভালোবাসার চেয়ে ঘৃণার স্বত্বা বেশ শক্তিশালী। তাই পেদ্রো প্রামোর রাজত্ব কালে শত শত মানুষ মরে গেলেও, তাদের আত্মা শান্তি পায়নি। ঘৃণার মায়াবী শক্তির বলে আত্মা হয়ে উঠে জীবন্ত মানুষের মতো। তারা মনুষের মতনই ঘুরে বেড়ায়। কিছুটা ফ্যান্তসিজম ফিল করবেন।।


সিনেমায় যেটা দেখানো হয়েছে সেটা হলো, পাপী মরে গেলেও তার কর্মফল মরে না। পাপীর কর্মফল পরবর্তী প্রজন্মকে সেই পাপের বোঝা বহন করতে অনেক সময় বাধ্য করে। ঘৃণা জিনসটা কত ভয়ানক। অন্যদিকে নির্যাতিত জনগণ মরে গেলেও তাদের চাপা প্রতিবাদ ও কষ্টগুলো ইতিহাসে বেঁচে থাকে। মানুষের মুখে ও অন্তরে দুটো কন্সেপ্টই বিদ্যমান থাকে। এই কন্সেপ্ট গুলো কিছুটা ভৌতিকভাবে ও রুপক বা কাল্পনিক ভাবে প্রেজেন্ট হয়েছে যেটাকে বলা যেতে পারে ম্যাজিকাল রিয়ালিজম কন্সেপ্ট। সহজ করে বললে, মানুষের অন্তরে বহিঃপ্রকাশ গুলো ভৌতিক আত্মাগুলোকে দিয়ে এক ধরনের উপমা দেওয়া হয়েছে।।


মিঃ জুন সেই কোমালা গ্রামে আসার পর অনেক অদ্ভুত পরিবেশের সম্মুখীন হোন। কখনো মানুষ আবার কখনো ভৌতিক আত্মার সাথে আলাপচারিতা করেন।তবে তিনি বেশ আপসেট কারণ তার মত আরও সন্তান ছিলো মিঃ পেদ্রোর। পেদ্রো অনেক মহিলার গর্ভেই সন্তান দেয়। বিশেষ করে তার বাবার পাপ তাকে ব্যাথিত করেছে। চারিদিকে মৃতদের সাথে চলাফেরা ও কথাবার্তা বলতে বলতে একসময় নিজেকেই মৃত ভাবতে শুরু করে। সাইকোলজিক্যাল ভাবে মারা যাওয়াটা কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আবার অস্বাভাবিক।


অনেক সময় আমাদের মন নিজের শরীরের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। মনের বিশ্বাস, ইচ্ছাশক্তি ও কল্পনাগুলো যখন ধীরে ধীরে কার্যকারিতা হারায় তখন নিজেকে মৃত ভাবাটা স্বাভাবিক। সিনেমা দেখার শুরুতে অদ্ভুত ভাবনা সৃষ্টি হবে আর দেখার শেষের আপনি চিন্তা করবেন সময় কাউকে ছেড়ে দেয় না। ক্ষমতা এক সময় হারিয়ে যায়। পাপ তার প্রতিক্রিয়া দেখায়।


সিনেমাটি ড্রামা হরর জনার তবে এর মধ্যে ম্যাজিকাল হরর ও সাইকোলজিক্যাল ফ্যাক্ট আছে। মিঃ জুন ভালো মানুষ কিন্তু বাবার পাপের ফল মানসিকভাবে তাকে ভোগাচ্ছে। সেও ধীরে ধীরে নিজেকে মৃত ভাবছে।


০ মন্তব্য · ৪৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!