প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকনো (২০১২)

সিনেম্যাটিক

নো (২০১২)

নো  (২০১২)

Movie name: NO (2012)

Country: Chile

বিজ্ঞাপন

মার্কেটিং পলিসি দিয়ে কিভাবে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো যায় সেটাই এই পলিটিক্যাল ড্রামা সিনেমায় দেখানো হয়েছে।।

অনেকদিন পর পলিটিক্যাল ড্রামা দেখে নিলাম। চিলির স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্লট পরিবর্তন নিয়ে এই সিনেমা নির্মিত হয়েছে। সময়টা তখন ১৯৮৮ সাল। মিলিটারি সরকার চলছে। দেশের মধ্যে নেই গনতান্ত্রিক অধিকার,নেই সমালোচনা করার অধিকার, সরকারের মন মতো না হলেই চলে গুম খুন হত্যা বা নির্যাতন। দেশের বেশিরভাগ জনগণ চাচ্ছে না এই সরকার দেশের দায়িত্বে থাকুক। তাই হ্যা ও না ভোটের মতন একটা গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সাথে এই সরকারকে যেনো সবাই '' না '' দেখায় সেজন্য চলছে বিশেষ মার্কেটিং পলেসি কার্যক্রম।।

🍒 হ্যা : মানে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা চালিয়ে যাবেন।

💚 না : প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা ছেড়ে নতুন করে নির্বাচন দিবেন।

আট বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন জেনারেল ওগাস্ত পিনোচেত। আরো আট বছর ক্ষমতায় থাকতে চান। আন্তর্জাতিক ও দেশের ভিতর থেকে ভালোই চাপ অনুভব করছেন। হুট করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো জনগণের মধ্যে হা ও না ভোট টাইপ কিছু হবে। জনগণ যে সিদ্ধান্ত মেনে নিবে সেটা মেনে নিবেন যদিও সহজে পরে মানতে চান না। সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়। পরে আসল নির্বাচন হয়। আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়ে। ১৯৯০ সালে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন।।

তবে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন সংগ্রামের প্রয়োজন হয় নি। করা হয়েছে কর্পোরেট স্টাইলে মার্কেটিং পলিসি আর পলিসির দায়িত্বে ছিলো মারেকটিং এক্সপার্ট মিঃ রেনে। মিঃ রেনে সাধারণ নাগরিক হয়ে কাজ করেছেন। তিনি মনে করেন ভয় ভীতি নয় বরং আনন্দ, বিনোদন খেলাধুলা, কনসার্ট ,থিয়েটার ও টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে "" না "" ক্যাম্পেইন করবেন। এই না হলো অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে না বলা, স্বৈরশাসক কে না বলা, এই না দিয়ে সত্য ও মুক্ত পাওয়াকে হা বলা। আপনি যখন অন্যায়কে না বলবেন তার মানে ন্যায় কে হা বলা।।

মিঃ রেনে বিশেষ ভাবে মানুষের মাঝে "" না"" প্রচার করেন যাতে সরকারকে "না" দেখানো হয়। এই রেনার চরিত্রটা বেশ ভালো লাগবে।শর্ট ভিডিও,মিউজিক ভিডিও, টিভি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেলে সব জায়গায় শুধু না আর "না" জয়ধ্বনি। পাবলিকের মনে "না" প্রচার ভালোই সারা ফেলেছে। এদিকে জেনারেল ওগাস্ত পিনোচেতের ধারণা মিডিয়া তার পাশে থাকবে কিন্তু পরিস্থিতি উলটো হলো। ক্ষমতার ক্ষয় একদিন হবেই কিন্তু সত্যের ক্ষয় কখনও হবে না।

তবে প্রেসিডেন্ট ও বসে নেই। তিনিও ' হা ' ভোটের জন্য প্রচারণা করছেন। তিনিও মোটামুটি সাড়া পাচ্ছেন।তবে হ্যা ও না এর মধ্যে লড়াইটা দুর্দান্ত হচ্ছে। সিনেমার মেকিং ভালো হয়েছে। মনোযোগ দিয়ে পলিটিকাল সিচুয়েশন গুলো দেখলে, দেখবেন কখন মুভি শেষ হয়ে গিয়েছে। এই '' না " কন্সেপ্ট টা বেটার ও ভিন্ন ছিলো তাই আমিও উপভোগ করলাম।।

সিনেমাতে এটাই বুঝালো যে রক্তপাত ছাড়াও পরিবর্তন করা যায়। জনগণ থাকলে নিয়ম থাকবে। মিঃ রেনে একটা অসাধ্য সাধন করলো। জনগণকে ভয়ভীতি না দেখিয়ে হাসি বা আনন্দের মাধ্যমে টিভিতে " নো " প্রচারণার কৌশল দেখার মতন ছিলো।

নো প্রচারণার পোস্টারটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। রেইনবো পিকচারের মাঝে লিখা ''নো''। দেখুন জনগণ কি রায় দিলো।

🍎 হ্যা : ৪৩ %

🍏 না : ৫৫ %

✌️ No বা না জিতেছে।। এভাবেই সাফল্য আসে।। ✌️

সিনেমাটি কিন্তু বেশ বোরিং লাগতে পারে, যারা হিস্টরিকাল ও পলিটিক্যাল ড্রামা দেখতে অভ্যস্ত না। চিলি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা দেখানো হয়েছে। তাদের কালচার সম্পর্কে জানতে পারা যাবে।।


০ মন্তব্য · ৫৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!