Movie name : Post Mortem (2010)
Country : Chile
আমরা চাইলেই কি সব সময় প্রতিবাদী হতে পারি? প্রতিবাদী স্বত্বাটা সবার ব্রেইনে সমান ভাবে থাকে না। প্রতিবাদী হতে হলে মতিষ্কের মধ্যে সাহসী ও জীবনের মায়া ত্যাগ করার একটা ইচ্ছা জাগ্রত করতে হয় যেটা সবার মধ্যে আসবে না। আমরা বেশিরভাগ সময়ে প্রতিবাদ করি না ঝামেলার ভয়ে। ইচ্ছা থাকলেও এড়িয়ে যেতে হয়। পরিবার ও চাকুরীর ক্যারিয়ার এর নিশ্চয়তার কথা ভেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে বিরত থাকতে হয়। চোখ দিয়ে দেখে যেতে হয়, আবেগহীন হয়ে অন্তর দিয়ে সাক্ষী হয়ে থাকতে হয়।মিঃ মারিও এই আবেগহীন ব্যক্তি।।
সময়টা ১৯৭৩। চিলি দেশের ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। গনতান্ত্রিক সরকারের পতন।হয়। সামরিক অভ্যুত্থান হয়। চারিদিকে শুধু লাশ আর লাশ যদিও সরাসরি লাশ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সিনেমায় দেখানো হয় না। মর্গে লাশ কম বেশি থেকেই কিন্তু সরকার পতনের সময় লাশের সংখ্যা অনেক অনেক বেড়ে যায়। মারিও বুঝতে পেরেও মুখ ফুটে কিছু বলে না। সবাই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না।মারিও তাই। পাথর হয়ে থাকতে হয়। জীবনের ভয় ও আতঙ্ক আছে। সিনেমার মূল কন্সেপ্ট।।
এই ড্রামা সিনেমার মূল চরিত্র হচ্ছে মিঃ মারিও যিনি সরকারি হাসপাতালে মর্গে কাজ করেন। ডাক্তার লাশ পরীক্ষা করেন আর একটা একটা করে কেস নম্বর থেকে শুরু করে লাশের যত পজিশন ও তথ্য বলতে থাকেন আর মারিও সেগুলো লিখে রাখেন। পরে টাইপ ম্যাশিনে টাইপ করে নথি তৈরি করেন। হাসপাতালে তার সাথে অনেকেই কাজ করেন। ডাক্তার ও তার সহকারী আর কয়েকজন কর্মকর্তা। আর্মীরাও আশা যাওয়া করেন। ড্রামার মাধ্যমে দৃশ্যগুলো অসাধারণভাবে গভীর দর্শনে উপস্থাপিত হয়েছে।।
মর্গে লাশ নিয়ে কাজ করতে করতে মিঃ মারিও মানসিক ভাবে নিজেই হয়তো লাশ হয়ে গিয়েছেন। নিজের ইচ্ছার স্বাধীনতা নিজেই নষ্ট করেছেন। প্রতিবাদীর ভাষা সবার থাকে না। আরেকটি ঘটনা ফোকাসে আনা হয়েছে সেটা হলো ন্যান্সি নামে একজন ক্লাব ড্যান্সার নিখোঁজ হন। যিনি কিনা মারিওর প্রতিবেশী সেই সাথে তাকে পছন্দ করেন মারিও। মারিও মনে মনে তার খোঁজ করছেন নিরবে নিভৃতে।।
সিনেমায় দেখা যায়, একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের লাশ পোস্ট মর্টেম করা হচ্ছে। যার নামে অনেক দুর্নীতি ও অন্যায়ের অভিযোগ আছে। মিঃ মারিও মর্গে কাজ করতে করতে অনেকে ভালো মন্দ মানুষের সম্পর্কে জনাতে পারেন। তার টাইপ মেশিনে ফুটে উঠে গভীর সত্য। তবুও তিনি চুপ। গভীর নীরব। আসলে এমন অনেকেই আছেন, এই রকম পরিস্থিতিতে নীরব থাকেন। বন্দুকের গুলি দিয়ে খুন করা যায় তেমনি আতঙ্ক ভয় দিয়েও মানসিক ভাবে খুন করা যায়। হয়তো মিঃ মারিও মানসিক ভাবে খুন হয়েছেন। শারীরিক ভাবে তিনি জীবিত। নীরবতা ছাড়া তিনি কিছুই পারেন না।
সিনেমাটি অনেকটাই ফিনিশিং নেই। সমাজ ও দেশ পরিবর্তন হয় তার মাঝে অনেক মানুষ শুধু নীরবে থাকেন। এটাই স্বাভাবিক। নীরবতা মানে সাক্ষী হয়ে থাকা। এখানে সেটাই হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে, মিঃ মারিও অনেক লাশের সাক্ষী হয়েছেন, প্রিয়জন হারিয়েছেন। তিনি শুধুই নীরবে দেখেছেন। একজন নীরব আবেগহীন মানুষের গল্প। সবার ব্রেইনে সব সময় প্রতিবাদী স্বত্বা জাগ্রত হয় না।।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা দেশের জন্য মঙ্গলকর নয়। তাই রাষ্ট্রপ্রধানদের উচিত দেশে ও জনকল্যাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।।
দেখে নিন চিলির এই নীরবতার ড্রামা।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!