প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকজেল ব্রেক প্যাক্ট (২০২০)

সিনেম্যাটিক

জেল ব্রেক প্যাক্ট (২০২০)

জেল ব্রেক প্যাক্ট  (২০২০)

Movie name : Jailbreak Pact (2020)

Country: Chile 

বিজ্ঞাপন

চিলির ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কালচার নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে দেখলাম যে, তারা পলিটিক্যাল ক্রাইসিস নিয়ে সিনেমা বেশি নির্মাণ করে থাকে, যেখানে ফ্যাসিবাদ, বিরোধীদের দমন নিপীড়ন, সামাজিক অস্থিরতা,গুম খুন, হত্যা প্রাধান্য পেয়ে থাকে। ড্রামার ও সফট থ্রিলারের মাধ্যমে সাধারণত প্রেজেন্ট করা হয়। গভীর আবেগ থাকে, হাজারও প্রশ্ন থাকে। 


জেল থেকে পালানো কন্সেপ্ট নিয়ে অনেক সিনেমা হয়েছে। সাধারণত ক্রিমিনালরা জেল থেকে পালায় তবে এই সিনেমায় জেলে থেকে পালায় কিছু রাজনৈতিক বন্দী নেতারা। সিনেমাটি মূল বিষয় স্বৈরাচারী সরকারের বিরোধীদের উপর দমন নিপীড়ন। বিরোধী বাম দলরা নাকি দেশদ্রোহী।।


সিনেমাটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে ,


সময়টা ১৯৯০ সাল। চিলিতে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। স্বৈরাচারী সরকার বেশ চাপে। ক্ষমতায় আছেন মিঃ পিনোচেট যিনি সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন। প্রায় সতেরো বছর ক্ষমতায় থাকার পর তার ক্ষমতায় হুট করেই ঘন ঘন ভূমিকম্প শুরু হলো।


প্রায় পঞ্চাশ জন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। সিনেমাটি পঞ্চাশজন জেলবন্দী নিয়ে যাদেরকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে আটক করা হয়। সবাই জেলের ভিতরে টিভি দেখছে। ব্রেকিং নিউজ এর অপেক্ষায়। "হ্যা" ও 'না 'ভোটের প্রস্তুতি চলছে। 'হ্যা' জিতলেই নির্বাচন। কদিন আগে NO সিনেমা নিয়ে পোস্ট করেছিলাম। সেখানে মূল বিষয় ছিলো "হ্যা" ও 'না' ভোট নিয়ে প্রচারণা। সেটাই এখানে দেখালো, যদিও ঐ সিনেমার সাথে এই সিনেমার লিঙ্ক নেই কিন্তু প্রেক্ষাপট এক।।


এদিকে বিদ্রোহী রাজনৈতিক নেতারা জেলখানায় কষ্টে রয়েছে। যদিও তাদের বিশেষ কিছু সুবিধা রয়েছে।তারা প্ল্যান করছে কিভাবে জেলখানা থাকে পালানো যায়, কারণ এখানে পরে থাকলে তাদের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার ও স্বাভাবিক জীবন দুটোই বিপদে পরবে। তারা বিভিন্ন মামলা ফেস করছে। অনেকের ফাঁসির রায় হয়েছে আবার আপিলের কাজ চলছে। মাস্টার প্ল্যান করে পালানো উত্তম কাজ। চিলির সান্টিয়াগো কারাগারের কাহিনী। কারাগার থেকে সুরঙ্গ দিয়ে পালাতে হবে।।


কমরেড রিকার্ডো মাস্টার প্ল্যান করছে। জেলখানায় এক রুমের ভিতরে ধীরে ধীরে দেয়াল কাটা হয়। পরে ইট সিমেন্ট ধীরে ধীরে ভেঙে সুরঙ্গের পথ তৈরি করা হয়। সুড়ঙ্গটি জেলের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে একদম মেইন রোড পর্যন্ত অনেক দীর্ঘ । ভিতরে খুব সুন্দর ভাবে লাইটিং সিস্টেম করে সুরঙ্গ তৈরি করা হয়। হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হবে।


 প্রায় সাত মাস লেগেছিল সুরঙ্গ বানাতে।খুব কৌশল, ধৈর্য ও জীবনের ঝুকি নিয়ে বানানো হয়। একটা টিম মাটি খনন থেকে শুরু করে লাইটিং এর কাজ করে।আরেকটি টিম বাহিরে থাকে যে কোন সিচুয়েশন ব্যাকাপ দেওয়ার জন্য। সিনেমাটি দেখা শুরু করলে শেষ পর্যন্ত ভালো লাগবে। মাস্টার প্ল্যান।।


সিনেমার একটা দৃশ্য দেখার মত ছিলো সেটা হল যখন শেষ পর্যন্ত সুরঙ্গের কাজ হয়ে যায় তখন ভূমিকম্প শুরু হলো তবে সুরঙ্গের কারণে নয়, ন্যাচারাল ভূমিকম্প। সবাই যখন জেলের বিল্ডিং থেকে বের হচ্ছিলো তখন সুরঙ্গের মধ্যে দুইজন ছিলো। তারা অনেক কষ্টে বের হয়েছে। এর কদিন পর শুরু হয় দাঙ্গা। আমি তো ভাবলাম এইবার শেষ সুরঙ্গ।।


বেশ ড্রামাটিক তবে থ্রিল কম হলেও ভালো লাগবে। রাজনৈতিক ও পারিবারিক দূরবস্থা অবস্থা, জীবনের অনিশ্চিয়তা গুলো চার কোনার ফ্রেমে ফুটে উঠেছে। সিনেমার লোকেশন, ডিরেকশন ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ভালো ছিলো। এখন প্রতিরোধের সময়।।


সিনেমায় দেখালো দমন নিপীড়ন করে টিকে থাকা যায় না। একসময় নামতে হবেই। জেলে থেকে পালানো মানে এই না যে তারা চোর ডাকাতের সমতুল্য। এই পালানো হচ্ছে স্বৈরাচারের চোখে ধুলো দেওয়া, স্বৈরাচারকে ঘোল খাওয়ানো। এটা বুদ্ধিভিত্তিক বিপ্লব, এক ধরনের সাইলজিক্যাল প্রতিবাদ।। পালানো দৃশ্য গুলো দেখতে ভালোই লাগছিলো। মাস্টার প্ল্যান। এই প্ল্যান কিভাবে শুরু হলো ও বাস্তবায়ন হলো সেটা দেখে নিবেন।।


তবে তাদের আইনজীবীরা তাদের পালানোটা পছন্দ করে নাই। কারণ সুরঙ্গের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার আগেই গণভোট "না" জিতে যায় মানে নির্বাচন হবে। তাহলে তাদের জন্য সুবিধা হলো। তবুও তারা পালিয়ে যেতে চায়। ইতিহাসের বিপরীতে বিকল্প ইতিহাস থাকে। হয়তো এটাই বিকল্প প্ল্যান। সামরিক শক্তি যদি জুলুম হয়ে যায় তখন বিকল্প প্ল্যান লাগবেই।।


পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদরা ভিলেইন এর মত কাজ  করেছে। সময় মনুষকে ভিলেইন বানিয়ে দেয়।।।


০ মন্তব্য · ৩৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!