Movie name: EL Club (2015)
Country: Chile
চিলির সিনেমা মানেই গভীর দর্শন থাকবে। ধর্মের নামে অধর্ম প্রাধান্য পেয়েছে। চার্চ যেখানে পবিত্র ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকার কথা সেখানে যদি দুর্নীতি ও অমানবিক অন্যায় হয় তাহলে তো সেটা ধর্মের নামে উগ্র ও বেইমানি করাই হলো। চার্চের যিনি দায়িত্ব থাকেন তিনি হলেন ফাদার বা যাজক। সবাই সম্মান ও ভক্তি করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু দুই একজন এমন আছে যারা ধর্মের ভুল দোহাই দিয়ে সব কিছুর ঊর্ধ্বে চলে যায়। তাই শত অন্যায় করলেও তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলা যায় না এটাই সিনেমার মূল কন্সেপ্ট।।
যারা আর্ট ড্রামা ও ডীপ ইমোশন পছন্দ করেন তাদের কাছে ভালো লাগতে পারে। সিনেমাটি বেশ স্লো কারণ এখানে গৃহ বন্দী যাজকদের দৈনন্দিন জীবন ও তাদের অপরাধের স্বীকার উক্তি ও কুকুর হত্যা ছাড়া তেমন কিছুই নেই। চার যাজক এই এলাকায় কুকুর দিয়ে রেস করে টাকা কামায় ও সেই সাথে সময় কাটায়। মাঝে মাঝে অপরাধীদের দমন করতে গিয়ে অনেক সময় নিরাপরাধরা বলি হয়ে যায়। নিষ্পাপ কুকুরগুলোকে মেরে ফেলা হলো। সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই আসলে কিছু বদ ধার্মিক থাকে।।
চার যাজকদের চাপে রাখতে তদন্তকারী যাজক ফাদার গ্রেসিয়া কৌশলে এই কাজ করতে বাধ্য হোন। তদন্তকারী যাজক কেনো এলো এই সমুদ্রের শহরে? ঝমালা তো হয়ে যায় হুট করে। ফাদার মাতিয়াস নামে নতুন একজন যাজক এই বাড়িতে আসার কথা। তিনিও সেই যাজকদের মত অপরাধ করেছেন। চলেও এলেন। তারপর নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করলেন।কারণ যুবক বয়েসে সন্দাকান নামে ছোট ছেলেকে দিয়ে মাস্টারবেট করাতো সে এসে হাজির। অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। সব ফাঁস করে দিলো। রাগে ক্ষোভ ও লজ্জায় নিজের মাথায় গুলি করলো ফাদার মাতিয়াস।
ফাদার মাতিয়াসের মৃত্যু এখানকার পুরো সিস্টেমকে এলোমেলো করে দেয়। ফাদার গ্রেসিয়াস অন্য যাজকদের জবানবন্দি নেওয়া শুরু করেন। তাদের অপরাধ প্রকাশ হতে থাকে।।
সব যাজক অবশ্যই খারাপ না কিন্তু দুই একজনের জন্য সবার বদনাম হয়ে যায়। ঘটনায় আসি, চারজন যাজক কে সমুদ্রতীরবর্তী ছোট শহরের একটি বাড়িতে গৃহ বন্দী করে রাখা হয়। এটাই মূলত ক্লাব। তাদের দেখভাল করার জন্য সিস্টার মারিয়ানা আছে। তাদের অপরাধ ছিলো রাজনৈতিক সহিংসতার অপরাধে সমর্থন, ছোট ছোট বাচ্চাদের সেক্স্যুয়াল এবিউস সহ আরো অনেক অপরাধ রয়েছে। তাদের কঠিন বিচার না করে দূরে এই শহরে নজর বন্দী করে রাখা হয়। এই এলাকার বাইরে তারা যেতে পারে না।।
ধর্ম বিষয়টা বেশ সেনসেটিভ তাই ধর্মের কথা দিয়ে বেশ ভালোভাবেই ইমোশন করা যায়। তবে যারা ধর্মের নামে ভন্ডামি করেন তারাই ধর্মের কথা কে বিকৃত করে কিছু মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করে থাকে। এই চারজন যাজকের মধ্যে সত্যিকারের ঈশ্বর ভক্তি নেই। পাপ ও নীরবতা হয়ত তাদের মোটিভ।
সন্দাকান ভুক্তভোগী কিন্তু সঠিক ন্যায়বিচার পায় না।চার্চের অন্য সদস্যরা একে অন্যের পাপ জেনেও নিশ্চুপ। নীরবতার নেগেটিভ সাইড ইফেক্ট দেখানো হয়েছে। নীরবতা সম্মতির লক্ষণ অন্য জেনেও নীরবতা অন্যায়কে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে আবার একজন ভুক্তভোগী নীরব মানে সে ন্যায়বিচার চাচ্ছে কিন্তু পাচ্ছে না।।
তারা প্রতিদিন সকালে উঠে প্রার্থনা করে। টিভি দেখে গল্প করে, কুকুরের সাথে খেলে। এলাকায় বাজি ধরে এভাবে দিন চলে যায়। তারা তাদের পাপে অনুতপ্ত নন।বরং দূরে আছেন আইনের শাসনের ভয়ে। ক্ষমতার কাছে ন্যায়বিচার অতি ক্ষুদ্র। অপরাধীদের সঠিক পথে নিয়ে আসা অনেক সময় বেশ কষ্টকর হয়ে উঠে,কারণ কিছু কিছু সত্য প্রকাশ পেলে সেই সত্য সিস্টেমকে এলোমেলো করে দেয়। তখন ভালো কে ভালো করা যায় না।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!