প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকনেরুদা (২০১৬)

সিনেম্যাটিক

নেরুদা (২০১৬)

নেরুদা  (২০১৬)

Movie name: Neruda (2016)

Country: Chile 🇨🇱 

বিজ্ঞাপন

যেই দেশে নোবেল পায় সেই দেশ অশান্তি লেগেই থাকে। ঠিক তাই নেরুদা ১৯৭১ সালে সাহিতে নোবেল পুরষ্কার পান ঠিক তার দুই বছর পরেই অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গনতান্ত্রিক সরকার হটিয়ে সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় আসেন জেনারেল পিনোচেট। ক্ষমতায় থাকেন ১৭ বছর। যদিও সিনেমার প্রেক্ষাপট এইটা না, নোবেল পাওয়ার ২০ বছর আগের কাহানি নিয়ে সিনেমা নির্মিত হয়েছে।। 


পাবলো নেরুদা চিলির একজন বিখ্যাত কবি। তাকে স্প্যানিশ ভাষার অন্যতম সেরা কবি বলা হয় থাকে। "লাভ সনেট ১৭ " তার বিখ্যাত কবিতা। তিনি শুধু সেলিব্রিটি কবি নন, তিনি একজন কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ। কমিউনিস্ট নেতা। সমস্যা শুরু এখানেই। 


সময়টা তখন ১৯৪৮ থেকে ৪৯ সাল। চিলির রাষ্ট্রপতি গাব্রিয়েল গনসালেস বিদেলা কমিউনিস্ট রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন ও কমিউনিস্ট নেতাদে দমনের সিদ্ধান্ত নেন।শুরু হয় দমন নিপীড়ন। তখন থেকেই ঝামেলা শুরু। নেরুদা কবিতা ও বক্তব্য দিয়ে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন। তাই হয়তো তিনি হয়ে উঠলেন মূল টার্গেট। জোর করে হলেও তাকে অপরাধী বানানোর পরিকল্পনা করা হয়। ফ্যাসিজম মনোভাব থাকলে যা হয়। সিনেমাটি আর্ট ড্রামা বলা যায় তবে থ্রিলিং অনুভবও করবেন।।


সিনেমাটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, শোষণ ও নিপীড়ন প্রাধান্য পেয়েছে। ইতিহাস ও বায়োগ্রাফি ভিত্তিক ও সেই সাথে ফিকশনের কিছু মিশ্রণ রয়েছে। ক্ষমতা দিয়ে জনগণকে যতটা প্রভাবিত করা যায় তার চেয়ে বেশি প্রভাবিত করা যায় কবিতার শক্তি দিয়ে। কবিতার মধ্যে আধ্যাত্বিক ক্ষমতা আছে সেটা আত্মার বন্ধ চোখকে খুলে দেয়। সেই চোখে নতুন করে আলো ফুটিয়ে দেয় কবিতার এই আধ্যাত্বিক শক্তি।।


সিনেমার মোর ঘুরে যায় যখন পাবলো নেরুদার বিরুদ্ধে সরকার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। নেরুদাকে ধরতে দায়িত্ব দেওয়া হয় ইন্সপেক্টর অস্কার পেলুচোনো। বেশ অভিজ্ঞ এই উচ্চ পদস্থ পুলিশ অফিসার। সরাসরি প্রেসিডেন্টের অর্ডার করতেই হবে।


 ইন্সপেক্টর অস্কার বনাম নেরুদার মধ্যে চলতে থাকে চোর পুলিশের খেলা। নেরুদা অনেক আগে থেকে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়ায়। ইন্সপেক্টর অস্কার তাকে কৌশলে ধরার চেষ্টা করছেন। ইন্সপেক্টর অস্কার নেরুদার বাসায় গিয়ে তাকে পায়নি,শুধু পেয়েছে কবিতার বই আর ভাস্কর্য ও পেইন্টিং।


প্রতিটা দৃশ্য বেশ ভালো লাগছিলো। আসলে ড্রামার মাধ্যমে সংস্কৃতির গভীরে পৌঁছানো যায়। সিনেমার দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়েছে কয়েক ধাপে। লোকেশন ও সেট ডিজাইন বেশ ভালো ছিলো। কবির মত আপনাকেও বিপ্লবী হতে ইচ্ছা করবে। 


পাবলো নেরুদা একজন লেখক, কবি,আবৃত্তিকার ও কমিউনিস্ট নেতা সেই সাথে নারী প্রেমিক। অনেক নারীদের সাথে এক সাথে সেক্স করাটা তার ভালো লাগার মধ্যে একটি।।


নেরুদা পালিয়ে বেড়ালেও তার লিখা কবিতা সারা দেশে গোপনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবাই কবিতা পরে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। ইন্সপেক্টর অস্কারও ধীরে ধীরে নেরুদার প্রতি একটা সফট কর্নার সৃষ্টি হয়। তার সাথে শত্রুতা নেই কিন্তু সরকারের চাপে বাধ্য হয়েই তার বিরুদ্ধে যেতে হয়েছে।।


ইন্সপেক্টর অস্কারের চরিত্রটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুইজনের মধ্যে সিনেমার মূল সিকুয়েন্স চলে আসে। আধ ঘন্টা পর দুজনকে ঘিরে চলতে থাকে নানা ঘটনা। মজার ব্যাপার হলো ইন্সপেক্টর অস্কার নেরুদা কে ধরার চেষ্টা করলেও নেরুদার কবিতার বই সে নিজেও পড়ে। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। 


কবিতা গান মানে শিল্প সংস্কৃতি দিয়ে দেশ ও জনগণের মধ্যে পরিবর্তন সম্ভব বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি। রাষ্ট মানুষ দমন করতে পারে কিন্তু অন্তরে বৈপ্লবিক গান কবিতা দমাতে পারে না। রাষ্ট ও পুলিশের ক্ষমতা আছে কিন্তু কবির কাছে শুধু কবিতা আছে।।


নেরুদা ও ইন্সপেক্টর অস্কারের মধ্যে সাইকোলজিক্যাল খেলা চলতে থাকে। অস্কার ভাবে সেও হয়তো নেরুদার সাহিত্যের অংশ কারণ সে নেরুদাকে ট্রাক করলেও নেরুদা ঠিকই জানত অস্কার তার পিছু নিয়েছে। তার জন্য ইচ্ছা করে ক্লু দিয়ে যেতো। দুজনের মধ্যে একটা মাইন্ড গেমস চলতে থাকে। 


নেরুদা কিভাবে পালিয়ে আর্জেন্টিনা গেলো আর অস্কার চেয়ে চেয়ে দেখলো সেটা জানার জন্য পুরো সিনেমা দেখুন। আইনের ফাঁক দিয়ে মাইন্ড গেমস বের হয় যায়। মনে রাখবেন।।


০ মন্তব্য · ২৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!