Movie name : Tony Manero (2008)
Country: Chile
স্বৈরাচারিতা ও সমাজের অপরাধ নিয়ে এই সিনেমা নির্মিত। একজন ক্রিমানালের অপরাধের জীবন তুলে ধরা হয়েছে যদিও চিলিতে তখন পিনোচেট ক্ষমতায়। ১৯৭৩ সালে পিনোচেট সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। মজার কথা হচ্ছে জনগণ তাকে ক্ষমতায় বসায়, আরো মজার কথা হচ্ছে বছরখানেক পর জেনারেল পিনোচেট জনগণের কাছে চোখের বালি হয়ে যায়। চলছে বিরোধীদের দমন নিপীড়ন।
অন্যদিকে রাউলের মত অপরাধীরা অপরাধ করার দ্বিগুণ উৎসাহ পেয়ে থাকে। অপরাধীদের সাইলেন্স আইডল থাকে একটা দেশের স্বৈরাচার। মিঃ রাউল সিনেমার মূল চরিত্র।।
সিনেমার নাম টনি মানেরই যেটা হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা saturday night fever এর মূল চরিত্র। ড্যান্সার মিঃ রাউল এই চরিত্রের মতন নিজেকে গড়ে নিতে চায়। চরিত্রটি ছিলো একজন ডিস্কো ড্যান্সার। মিঃ রাউল ডিস্কো ড্যান্স পারফর্ম করতে পারেন কিন্তু সেই টনি মানেরই চরিত্রটি মিঃ রাউলের মনে গভীর ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। এই চরিত্রের মত নিজেকে যে কোন মূল্যে গড়তে চায়।।
মিঃ রাউল ও টনি মানেরই এর চরিত্র দিয়ে স্বৈরশাসন রাজনীতির ছায়া উপস্থাপন হয়েছে।।
মিঃ রাউল আর্থিক কষ্টে আছেন। তার কাছে টিভি নেই, টাকা নেই যে তাকে অনুকরণ করে ডান্স শিখবে। তাই এক মহিলাকে খুন করে টিভি চুরি করে। সিনেমা হলে সেই সিনেমার রিল চুরি করে সেখানে একজন লোককে হত্যা করে। এছাড়া আরো বিভিন্ন জায়গায় অনেক ঝামেলা করে। যে কোন মূল্যে তিনি নিজেকে টনি মানেরই এর মত করে গড়ে তুলবেন। মিঃ রাউল একজন ড্যান্সার সেই সাথে একজন ক্রিমিনাল। তিনি অপরাধ করেন আপন আনন্দে ও স্বার্থে।।
এই অপরাধীদের অপরাধের মধ্যে দিয়েই সিনেমায় বিশেষ ম্যাসেজ আছে। সরকার তার সমালোচকদের দমন নিপীড়ন করবেই অন্যদিকে সমাজের অপরাধীদের অপরাধ দমনে মনোযোগ নেই। খারাপ পরিস্থিতি মানুষের সাইকোলজিকে এলোমেলো করে দেয়। দেশের যখন স্বৈরশাসক দমন নিপীড়ন চালায় তখন নিরীহ মানুষের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে।
সরকার প্রধানের যদি ন্যায় নৈতিকতা না থাকে তাহলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। এটা তাদের বিশেষ সুযোগ। অন্যায় তখন ন্যায়ের দিকে আঙুল তুলে। নৈতিকতা বলে কিছু থাকে না। মিঃ রাউল হয়তো এই সুযোগ নিচ্ছে।।
এটা মূলত পলিটিক্যাল ড্রামা সিনেমা। সরাসরি রাজনীতি দেখানো না হলেও একজন অপরাধীর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ প্রবণতাকে উদহারন বা উপমা দিয়ে নোংরা রাজনীতিকে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একটা দেশে স্বৈরাচার সরকার কতটা বিপদজনক সেটা জানার জন্য অপরাধীদের অপরাধগুলো উপর পর্যবেক্ষণ করলেই হয়। সিনেমায় চিলির রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা প্রাধান্য পেয়েছে।।
প্রকৃতপক্ষে একজন অপরাধী তার টার্গেট পূরণ করতে পারে কিন্তু অন্তরে সুখের হাসিটা মুখে অনুপস্থিত থাকে। তেমনি স্বৈরাচার পিনোচেট জোড় করে ক্ষমতায় আছে অন্তরে সুখ নেই। একটা দেশে দিন শেষে সাধারণ জনগনই হয় ভুক্তভুগী।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!