প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকআতকা (২০২৬)

সিনেম্যাটিক

আতকা (২০২৬)

আতকা  (২০২৬)

Aatka (2026) ,Country: Bangladesh

Season 01, Episodes 05 

বিজ্ঞাপন


এই বছর প্রথম বাংলাদেশী ওয়েব সিরিজ '' আতকা " দেখে ভালোই লাগলো। নিজের মাতৃভাষা ও নিজের সংস্কৃতিতে সিরিজ দেখতে কার না ভালো লাগে। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিলো নব্বই দশকের অভিনেতা অভিনেত্রী এই সিরিজে অভিনয় করেছেন। আবুল হায়াত থেকে রোজি সিদ্দিকী আরো অনেকেই ছিলো। তবে আরশ খান ও সুনেরাহ বেশ ভালো অভিনয় করছেন। 


সিরিজের মূল বিষয় হলো, অভিজাত ও উচ্চ বংশের নিয়মের অন্তরালে ঘুমিয়ে থাকা কিছু স্বপ্ন আলোর মুখ দেখতে চায়। পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার কাছে অনেক ইচ্ছা ও স্বপ্ন জীবন যুদ্ধের ময়দানে আসার আগেই হেরে যায়। নিজের ইচ্ছা বলে কিছুই নেই। চাপা কষ্ট আর হতাশা অন্তরে আগাছার মত ছড়িয়ে পরে। মেধা ও ক্রিয়েটিভিটি বলে একটা ব্যাপার আছে সেটার আত্মহত্যা মস্তিষ্কে ঘটে যায়। আত্মা তার সুখের তৃষ্ণা মেটাতে পারে না।।।


পাঁচ পর্বের এই ফ্যমিলি ড্রামা সিরিজ চর্কিতে রিলিজ পেয়েছে। আমার কাছে সিরিজের লোকেশন গুলো অসম্ভব রকমের ভালো লেগেছে, বিশেষ করে জমিদার বাড়ী গুলো। সিনেমার লোকেশন ছিলো মনিকগঞ্জ সম্ভবত। আমাদের ঢাকার নবাবগঞ্জে ও এরকম জমিদার বাড়ী আছে। সিরিজে একটা গান ছিলো সেটাও বেশ উপভোগ্য। গানের মধ্যে সুনেরাহ ও আরশ খান দুইজনের এক্সপ্রেশন বেস্ট ছিলো।।


ফায়াজ অনেক বছর লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসে। রহমান পরিবারের নাতি। আভিজাত্য ও বংশ মর্যাদা নিয়ে তার দাদা, বাবা ও ফুফুরা চলাফেরা করেন। ফায়াজ কেনো যেনো একটু ভিন্ন। স্রোতের বিপরীতে ভেলা ভাসিয়ে চলেন। সে তার দাদা ও বাপ চাচাদের মত না, তাই তো তার অনেক দুশ্চিন্তা, অন্তরে চাপা কষ্ট। ফুফাতো বোন মুনিয়া তার ভাই ফায়াজকে অনেক সাপোর্ট দেয়। কাজিন ভাই বোনের সম্পর্ক খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ছোটবেলার প্রেমিকা চুমকি তো তার আরও কাছের। এটাই তো সমস্যা হলো।।


ফায়াজের পরিবার চায় ফায়াজ বিদেশে চলে যাক কিন্তু ফায়াজ চায় নিজ পরিবারের সাথে থাকতে এবং এলাকায় একটা স্যালুন খুলতে কারণ তার হেয়ার স্পেশালিস্ট এর অভিজ্ঞতা আছে। সমস্যা হলো তার দাদা ও বাবা এটা চায় না। রহমান পরিবারের ছেলে চুল দাড়ী কাটবে এটা তাদের অসম্মান হবে। এদিকে চুমকির সাথে সম্পর্ক এটা তার পরিবার মেনে নিতে চাইছে না। যদিও জমি বিক্রি নিয়ে একটা ঘটনা ঘটে যায়। সিরিজটি মূলত ড্রামা ও কমেডি ধাঁচের তবে কিছুটা হরর ফ্যাক্ট আছে।।


পুরাতন একটা জায়গা যেটা আগে রহমান পরিবারের ছিলো সেটা চুমকির বাবা কিনে নেয়। সবাই বলে বেড়ায় সেই জমিতে পুরাতন বাড়ীতে নাকি ভূত থাকে। আসলে ভূত থাকে। সেই ভূতের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহেল মন্ডল। গুণী একজন অভিনেতা। সেই ভূতকে শুধু মুনিয়া ও ফায়াজ দেখতে পারে কিন্তু চুমকি দেখতে পারে না। অনেক কাহানি আছে।।


ফায়াজ তার ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য সেই ভূতের সাহায্য নেয়। ভূত তাকে সাহায্য করে সেই সাথে ভূতটি তার অন্তরে জমে থাকা কষ্ট মুনিয়া, ফায়াজের সাথে শেয়ার করে। পুরাতন স্বপ্ন চাপা পরে গিয়েছিলো তাই নতুন স্বপ্ন যাতে চাপা পরে না যায়, এইজন্য ভূতটি ফায়াজকে সাহায্য করে। ভূতের আত্মকথা সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরে, স্বপ্নবাজদের ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। সময় থাকতে সবসময় আপনজনের ইচ্ছা ও স্বপ্নগুলোর মূল্যায়ন করতে হয়।।


একটা কথা মনে রাখা উচিত, মানুষের জন্য নিয়ম, নিয়মের জন্য মানুষ না। তাই নিয়ম হবে নমনীয় ও সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল। মেধা ও ক্রিয়েটিভিটি সময়ের সাথে নিয়মকে পরিবর্তন করতে পারে। সিরিজের শেষে ইমোশনাল রাখা হয়েছে। ভূত রহমান পরিবারকে বিদায় দিয়ে চলে যায়, অদৃশ্য হয়ে যায়। 


ভূত যখন বেঁচে ছিলো তখন রহমান পরিবারের একজন ছিলো। পরিবারের ভিতরে থাকা গোপন রহস্যের পিছনেই রয়েছে এই ভূত। এক সময় মানুষ ছিলো, মনে ইচ্ছা ছিলো, স্বপ্ন ছিলো কিন্তু রহমান পরিবারের কর্তার ছিলো অনেক অহংকার যেই অহংকারের চাপ সেই মানুষটি নিতে পারেনি। তাই সুইসাইড করে ভূত হতে হলো।।


সিরিজের শেষে দেখায় সেই ভূতের সাহায্য নিয়ে ফায়াজ রহমান পরিবারের কর্তার অহংকার ভেঙে দেয় আর নিজের ইচ্ছা প্রতিষ্ঠা করে। শেষের দিকে অশ্রু আর আনন্দ।।


ভালো ভূত বিদায় নিয়ে চলে যায় কিন্তু বহুদিন পর হুট নতুন ভূত আসে। কে এই নতুন ভূত? সিজন টু লাগবে তাইলে.......


০ মন্তব্য · ৪৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!