Movie name : Toni Erdmann (2016)
Country: Germany
কর্পোরেট কালচার নিয়ে বাবা ও মেয়ের মধ্যে মান অভিমান ও ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। কর্পোরেট কালচার আমাদের বড় ক্যারিয়ার এনে দিলেও আমাদের মন ও দেহ থেকে আবেগ অনুভূতিগুলো বের হয়ে যায়। দিন শেষে আমরা হয়ে যায় মানুষরূপী রোবট। দিন রাত কর্পোরেট কাজ আর মোবাইলে কলের উপরে কলে কথা বলতে বলতে আমরা মন খুলে হাসতে ভুলে যাই, সম্পর্কের মিষ্টি আবেগ অনুভতি থেকে হারিয়ে যাই। কি লাভ যদি আমার মধ্যে অনুভূতিই না থাকে।।
মিস ইনেস একজন কর্পোরেট জব হোল্ডার। টপ লেভেল চাকুরী করেন। দিন রাত শুধুই ফোন কল , মিটিং আর কাজের কন্ট্রাক্ট। বাইরের আবেগময় জগতে তার মন নেই। অন্যদিকে তার বাবা বেশ উদার মনের হাসিখুশি মানুষ, মনবিক মনের অধিকারী। তিনি অবসর প্রাপ্ত মিউজিক টিচার। মেয়ের অতিরিক্ত কর্পোরেট আচরণ তার ভালো লাগে না, সে চায় তার মেয়ে আবেগ অনুভূতি গুলো একটু বুঝতে চেষ্টা করুক।।
মিস ইনেসের বাবা মিঃ উইনফার্ড সিনেমার মূল চরিত্র। এটা মূলত ফ্যমিলি ড্রামা সিনেমা যেখানে পারিবারিক বন্ধন গুরুত্ব পেয়েছে। সিনেমাটি একটু দীর্ঘ সময়ের মানে দুই ঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের। যেহেতু ড্রামা তাই একটু বোরিং লাগতে পারে।ফ্যমিলি ড্রামা যেহেতু তাই একটু কেটে কেটে দেখা যেতে পারে। সিনেমার প্রেজেন্টেশন ভালো ছিলো। কর্পোরেট দুনিয়া আর বাস্তবের মিল অমিল দেখানো হয়েছে। তবে নিজের অস্তিত্ব, আবেগ, আনন্দ আর কষ্ট এগুলো ছিলো মূল বিষয়।।
মিঃ উইনফার্ড একটু পাগলাটে বয়স হয়েছে তো কিন্তু উল্টা পাল্টা কথার মধ্যে অনেক বাস্তব কোথাও তুলে ধরে। মিঃ উইনফার্ড প্ল্যান করে মেয়ের অফিসে যায়। বিভিন্ন মিটিং এ ঢুকে যায়। সেখানে নিজেকে পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দেয়। অফিসের বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে। মেয়েও নীরবে তার বাবার কর্মকান্ড দেখতে থাকে। এক সময় মেয়ে বুঝতে পারে তার বাবাই ঠিক। একটা হার্ড কর্পোরেট রুলস শুধুই অফিসে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, সেটা ব্যক্তির স্বাধীন জীবনে না আসুক।।
সিনেমায় বাবা ও মেয়ের মধ্যে মান অভিমান দেখায় ঠিক তেমনি আনন্দ আছে। সিনেমার শেষে দেখা যায় মেয়ের জন্মদিনে তার বাবা উপহার নিয়ে আসে। তার বাবা বড় একট কস্টিউম পরে আসে। মেয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে। সিনেমায় বিশেষ দৃশ্য ছিলো নগ্ন পার্টি। নো ড্রেস কোড। সবাই নগ্ন পার্টিতে আসে। সিনেমায় এটাই বুঝালো এই কর্পোরেট ড্রেস ছেড়ে নিজেকে দেখো, নিজেকে বুঝো, তুমি কর্পোরেট চাকুরীজীবী কিন্তু তোমার শরীর ও মন কর্পোরেট কখনোই না।।
আমরা তো আর নগ্ন হতে পারব না কারণ আমাদের কালচার ভিন্ন। তাই মাঝে মাঝে কর্পোরেট ড্রেস ছেড়ে সাদামাটা ড্রেস পরে রাস্তায় বের হওয়া উচিত। প্রাকৃতিকে একটু সময় দেওয়া উচিত। নিজেকে একটু বুঝা উচিত, নিজের আবেগগুলো পরীক্ষা করা উচিত।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!