প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকঅল কুইট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (২০২২)

সিনেম্যাটিক

অল কুইট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট (২০২২)

অল কুইট অন দ্যা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট  (২০২২)

Movie Name : All Quiet On The Western Front (2022), Country: Germany 

অস্কার জয়ী আরেকটি অসাধারণ জার্মান হিস্টরিকাল সিনেমা দেখে নিলাম। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ সিনেমার মূল কনসেপ্ট যেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে প্রায় কোটির উপরে মানুষ নিহিত হয়েছিলো। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ এই চার বছর বিশ্ব দিয়েছে শুধু রক্ত আর লাশ, ক্ষুধা আর আর্থিক মন্দা। যুদ্ধ শুধুই ধ্বংস ছাড়া কিছুই দেয় না।।

বিজ্ঞাপন


সিনেমা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই যুদ্ধই দেখানো হয়েছে। সিনেমার এক একটা দৃশ্য বেশ ইমোশনাল ও মর্মান্তিক। জার্মানরা যুদ্ধ করছে ফ্রান্সের সেনা বাহিনীর সাথে। উঠতি বয়সী যুবকদের মগজ ধোলাই বা অতি উৎসাহমূলক বা ইমোশনাল কথা বলে তাদেরকে আর্মি ক্যাম্পে পাঠানো হয়। তারা যতটা আনন্দ নিয়ে আর্মি ক্যাম্পে যায় তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় ভয়াবহ যুদ্ধের ময়দানে। এখানে আসা সহজ কিন্তু বেঁচে ফেরা কঠিন।


মিঃ পল উঠতি যুবকদের মধ্যে একজন। তিনি সিনেমার মূল চরিত্র। তার আবেগ ও যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ইমোশনাল দৃশ্যের কথা বলি, নিজের হাতে এক নিরস্ত্র ফরাসি সেনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর তার আফসোস হয় হচ্ছিলো " এ কি করলাম"। সেই আহত সেনাকে পানি খাওয়ালেও মারা যায়। আসলে যার অন্তরে মহব্বত ও মানবতা আছে সেই মানবতা বিশ্ব যুদ্ধের মত পরিস্থিতিতেও ফুটে উঠবেই।।


পুরো যুদ্ধের ময়দান যেনো একটা নরকপুরী। চারিদিক কাঁচা বারুদের গন্ধ। কতক্ষন পর পর এক অপরের কামানের গোলা নিক্ষেপ চলছে। মাটি ফেটে গর্ত হয়ে যাচ্ছে। কারো কারো হাত পা উড়ে যাচ্ছে, কারো কারো আত্মা গরম গরম বার্বিকিউ শরীর থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। রক্তের আড়ালে পানি ঢাকা পড়েছে। শত্রুর সাথে লড়াই করা যতটা কঠিন তার চেয়ে বেশি কঠিন ক্ষুধার সাথে লড়াই করা।


সিনেমাটি ২০২৩ সালে চারটি ক্যাটাগরিতে অস্কার পুরস্কার লাভ করে যায় মধ্যে "বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ" ক্যাটাগরি তো আছেই। সিনেমার সাইউন্ড সিস্টেম, গ্রাফিক্স সিস্টেম যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে তবে লোকেশন বিশেষ করে রাস্তা আর দুই পাশে গাছ দেখে ভালোই লাগছিলো। সব কিছু মিলিয়ে ডিরেকশন বা প্রেজেন্টেশন বেস্ট।। 08/10


সিনেমাটি উপন্যাস থেকে নির্মিত। উপন্যাসিক এরিক মারিয়া এর রচিত ১৯২৯ সালের বিশ্বখ্যাত জার্মান উপন্যাস Im Westen nichts Neues (All Quiet OnThe Western Front) থেকে সিনেমাটি নির্মিত। সিনেমার ও একেই নাম।।


সিনেমায় দেখা যায়, যুদ্ধ করতে করতে জার্মান সেনারা ফ্রান্সের কিছু এলাকায় চলে যায়। একটা ঘরে খাবার দেখে সবাই খুশি হয় আর গোগ্রাসে গিলতে থাকে। কামানের গোলা কতক্ষণ পর পর ছুটে আসছে। নন স্টপ গুলি চলছে। মিঃ পল গুলি করছে তো করছেই আর ময়লা পানি খাচ্ছে। যুদ্ধের তীব্রতা এতটাই যে তৃষ্ণার জন্য পানি যে পরিষ্কার নাকি নোংরা সেটা দেখার সময় নেই। ঘুম নেই, ক্ষুধার খাবার নেই। যুদ্ধের বিরতিতে প্রিয়জনের আবেগময় চিঠি হয়তো সকল ক্লান্তির অবসান ঘটায়। 


প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সংঘাতময় রাজনীতি প্রাধান্য পেয়েছে। জার্মান সরকার ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা কিন্তু ভালো ভালো খাবার খাচ্ছে। সিনেমায় সবচেয়ে মজার দৃশ্য হচ্ছে রাজ হাশের দৃশ্য। দুজন সেনা একটা বাসায় গিয়ে হাশ চুরি করে সেই সাথে দৌড়ানি খায়। পরে কয়েকজন সেই হাস সুপের মত রান্না করে মজা করে খায়। যুদ্ধের ময়দানে যা খাবে তাই মজা লাগবে। তাদের খাওয়া দেখে আমার মনে হয়েছিলো, যদি আমার হাস থাকত তাহলে দিয়ে আসতাম, কিন্তু এটা তো সিনেমা।।


সরকার ও সেনা প্রধানদের নিষ্ঠুরতা প্রাধান্য পেয়েছে। যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করার সময় হয়েছে অথবা যুদ্ধের বিরতি দরকার কিন্তু তারা চাইছেন যুদ্ধ হোক। এদিকে লাখ সেনা মৃত। তরুণদের যুদ্ধে নিয়ে শুধুই লাশ পেলো আর কিছু পেলো না। তরুণদের হয়তো নতুন স্বপ্ন ছিল, ইচ্ছা ছিলো, সেই শুনগুলো বন্দুকের নল দিয়ে বের হতে বাধ্য হলো।


বিশ্ব যুদ্ধ করে দেশ ও জনগণের কি লাভ হলো?? লাশ ও জীবন নিয়ে যুদ্ধবাজেরা রাজনীতি করতেই থাকে।যুদ্ধ করবে আর অর্থিক মন্দা হলে জনগণ ট্যাক্স দিবে আবার জীবনও দিবে। নতুন নতুন তাজা প্রাণ ঝরে যাবে আবার নতুন নতুন প্রাণ ক্যাম্পে আসবে। এটাই যুদ্ধের নিয়ম।


হয়ত সেই সেনারা মুখ ফুটে বলতে চাইতো যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। বলতে পারে নাই।।


০ মন্তব্য · ৩৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!