Movie name : Never Look Away (2018)
Country : Germany
রংতুলির রং সাদা কাগজে আপন মনে ফুটে উঠে এবং অভিনব ছবিতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। মূলত এটি জার্মান ড্রামা সিনেমা যেখানে অবচেতন মনের শৈল্পিক প্রতিবাদ রংতুলির অঙ্কিত চিত্রে ফুটে উঠেছে। সিনেমায় ফুটে উঠেছে হিটলারের সময়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্বলের প্রতি নিষ্ঠুরতা। সিনেমায় আরো প্রাধান্য পেয়েছে নাৎসী সরকারের উগ্র ও অহংকারী আচরণ এবং এক ভুক্তভোগী পরিবারের মানসিক ট্রমা।
সিনেমাটিতে যেমন ইতিহাস ও রাজনীতি দেখানো হয়েছে, ঠিক তেমনি রংতুলির ছবি আঁকা ও বিভিন্ন কারুকাজের মধ্যে গভীর প্রতিবাদের দর্শন ও মনের আত্মকথা ফুটে উঠেছে। অসধারণ জার্মান ড্রামা ও সাইকোলজিক্যাল সিনেমা।
সিনেমায় মূল অন্যতম চরিত্র আর্টিস্ট কার্ল ও নাৎসী ডাক্তার মিঃ কার্ল। মিঃ কার্ল এতটাই নাৎসীবাদী যিনি নিজের মেয়েকে গর্ভপাত করিয়েছেন কিন্তু মেধাবী ডাক্তার নাৎসীবাদী সুস্থ মানুষদের উপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সেটাও প্রাধান্য পেয়েছে। সিনেমার প্রতিটা সিকুয়েন্স বেস্ট।।
আরো গুরুত্বপুর্ন চরিত্র আছে মিস এলি ও মিস এলিজাবেথ।।
হিস্টরিকাল ও ড্রামা জনার এই সিনেমাটি আসলেই অস্কার নমিনেশন পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। তবে অস্কার পাওয়া উচিত ছিলো কারণ এই ছবি আকা ও শিল্পের মাধ্যমেই প্রকৃত ও নীরব সত্য উম্মোচন হয়েছে। মিঃ কার্ট ও তার প্রেমিকা পূর্ব জার্মানী থেকে পশ্চিমে পালিয়ে যায়। নতুন করে শিল্পকর্ম শুরু করে কিন্তু পূর্ব জার্মানীর অনেক ক্ষত স্মৃতি আপন চিত্রকর্মে ফুটে উঠে।।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলারের সময়ে কার্ট তখন ছোট ছেলে। ফুফুর সাথে ঘুরতে বেড়াতে পছন্দ করে। তার ফুফু এলিজাবেথ একটু ভিন্ন মানসিকতার যেমন মুক্ত চিন্তা, মন খুলে হাসাহাসি ও অতি আবেগী টাইপ। হিটলারের সময়ে সাইকো বা আবেগী টাইপ বা পাগল মহিলাদের বন্ধা করে দেওয়া হতো। বেশি সিরিয়াস হলে মেরে ফেলতো। এতো নিষ্ঠুর ছিলো।
এলিজাবেথ তো পুরোপুরি পাগল না,তাহলে কেনো তাকে অন্যান্য পাগলদের সাথে মেরে ফেললো? সেই সময়ে নাৎসী সমর্থনকারী ডাক্তার মিঃ কার্ল এই কাজ বাধ্য হয়ে করেন।
ডক্টর কার্ল হিটলারি মেন্টালিটির মানুষ এমনকি হিটলারের পতনের পরেও হিটলারি মন মানসিকতা থেকে বের হতে পারে নি। সময় ছাড় দেয় কিন্তু ছেড়ে দেয় না। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে হয়।।
মিঃ কার্ট তার ফুফুকে বেশ মিস করেন। মিঃ কার্ট এখন আর্টিস্ট ভালো আর্ট করেন। তার আর্টে সমাজতান্ত্রিক কথা রংতুলিতে ফুটে উঠে। আত্মার স্বাধীনতার কথা বলে। আর্ট কলেজে মিস এলির সাথে পরিচয় ও প্রেম আর প্রেম থেকে প্রেগনেন্ট। এদিকে মিঃ কার্ট নতুন নতুন কন্সেপ্ট নিয়ে দর্শন ভিত্তিক ছবি আঁকতে শুরু করেন।।
মিস এলির বাবা হলেন সেই বিখ্যাত ডাক্তার মিঃ কার্ল। মিঃ কার্ট তো জানে না তার ফুফুর মৃত্যুর জন্য তার বাবা মানে মিঃ কার্ট দায়ী। কার্ট না জানলেও তার শিল্প বা তার আর্ট হয়ত সেটা জানে। নিজের যে অদ্ভুত শিল্প ফুটিয়ে তুলেন সেটা তার কল্পনা ও অবচেতন মন থেকে আসে। সাইকোলজিক্যাল ও মনস্তাত্ত্বিক সুপ্ত ক্ষমতা।।
অবচেতন মনকে সরাসরি অনুভব করা যায় না। মিঃ কার্ট অনুভব করতে পারেনি কিন্তু তার জাদুর হাতের শিল্প পেরেছে। এটাই হলো সিনেমা মূল বিষয়। মিঃ কার্ট ছোটবেলার সেই কথা মনে রেখেছে। অন্তর্দৃষ্টি ফেরানো যাবে না। তার ফুফুর শেষ কথা ছিলো।।
মনের আচরণ ও শিল্পকর্ম সব দিক থেকেই সিনেমাটিকে সাইকোলজিক্যাল ড্রামাও বলা যেতে পারে। দর্শনও এক ধরনের অস্ত্র। আপনি হয়তো যেটা জানেন না সেটা আপনার অবচেতন মন হয়তো আইডিয়া করতে পারে হয়তবা জানতেও পারে। আপনার কোন এক আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।।
সিনেমা অসাধারণ তবে আমার কাছে প্রতিটা আকা ছবি গুলো ভালো লেগেছে। সিনেমার শেষে দেখায় মিঃ কার্ট অনেক বড় সম্মানিত চিত্র শিল্পী হয়ে উঠেন।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!