Movie name : Goodbye Lenin! (2003)
Country : Germany
পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানীর রাজনীতি, বার্লিন ওয়ালের পতন এবং মায়ের প্রতি ছেলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। একটা সময় দুই জার্মানীর মাঝখানে ছিলো বিশাল দেয়াল। দেয়ালের এপারে পূর্ব আর ওপারে পশ্চিম। দুই দেশের রাজনৈতিক কালচার ছিলো ভিন্ন কিন্তু জনগণের মন ছিলো এক ও অভিন্ন। মনের মধ্যে বাধা ছিলো না। সেটা ছিল শুধুই রাজনৈতিক দেয়াল।
বার্লিন ওয়ালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এর বিষয়গুলো ফ্যামিলি ড্রামা ও কমেডির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। গভীর আবেগ আছে। মায়ের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে সাজানো মিথ্যার উপস্থাপন দৃশ্য সমূহ যে কাউকে হাসাবে আবার ভাবাবে। মায়ের জীবনের জন্য মিঃ আলেক্স নৈতিক দ্বন্দ্বে আটকে গিয়েছিলেন। তাই মায়ের কল্যাণে মিথ্যা অভিনয় করতে দ্বিধাবোধ করেনি।
বিশাল দেয়াল দিয়ে দুইটা দেশ বিভক্ত। দুই পারের মানুষদের নিজস্ব আবেগ ও স্মৃতি আছে। মিসেস ক্যারোস্টিয়ান কার্নার পূর্ব জার্মানীর মাটির গন্ধ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্মরণ করে গিয়েছিলেন। সিনেমার লোকেশন, সাউন্ড সিস্টেম ও সেট ডিজাইনিং বেশ ভালো ছিলো।।
পূর্ব জার্মানী মূলত রাশিয়া পন্থী আবার পশ্চিম জার্মানী ছিলো আমেরিকা পন্থী। মিঃ আলেক্সের মা মিসেস ক্যারোস্টিয়ান কার্নার মূলত পূর্ব জার্মানী বাসিন্দা। তার স্বামী মানে মিঃ আলেক্সের বাবা পশ্চিম জার্মানী চলে যায় পরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর ফিরতে পারেনি। বিষয়টা গুপ্ত ছিলো।
মিসেস ক্যারোস্টিয়ান কার্নার একজন স্বাধীন চেতা মানুষ। পূর্ব জার্মানী মূল ধরার কালাচারে বিশ্বাসী। পশ্চিম জার্মানীর কোন খাবার বা কোন ব্র্যান্ড তার পছন্দ না কারণ সেখানে আমেরিকার আধিপত্য অনেক বেশি।।
মিসেস ক্যারোস্টিয়ান হুট করেই স্ট্রোক করে কোমায় চলে যান। আট মাস কমায় থাকেন। কোমায় থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে বার্লিন ওয়াল ভেঙে যায়। দুই জার্মানী এক হয়ে যায়। জীবন যাত্রা মান থেকে শুরু করে খাবার, ড্রিঙ্কস ও ড্রেস সব কিছুই পরিবর্তন আসে। হুট করে মহিলার জ্ঞান ফিরে। সবাই খুশি কিন্তু ডাক্তার বলেছে মেন্টালি আঘাত বা অতিরিক্ত ইমোশন হওয়া যাবে না।।
মিঃ আলেক্স তো বিপদে পরে গেলো। পূর্ব আর পশ্চিম এক হয়ে গিয়েছে, বার্লিন ওয়াল ভেঙে গিয়েছে এটা তো মাকে বলা যাবে না। উপায়?? স্লো ড্রামা যাদের পছন্দ তাদের জন্য এই সিনেমা যদিও সিনেমাটি পারিবারিক।।
শুরু হলো সিনেমার মজার কাহিনী। এদিকে বাজারে পণ্যের মোড়ক ও কাচের জারে পরিবর্তন এসেছে। মায়ের জন্য তো এগুলো নেওয়া যাবে না। তাই বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে এবং পাশপাশি পুরাতন মোড়ক আর পুরাতন কাচের জার সংগ্রহ করে। সেগুলো পরিষ্কার করে নতুন মোড়কের খাবার পুরাতন মোড়কের ভিতর রাখা হয়। মায়ের কথা ভেবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। এই মিথ্যা ছিলো বেশ আনন্দের, বেশ মজার। আবার পুরাতন ক্যাসেট সংগ্রহ করে সেটা টিভিতে চালিয়ে দেয়। আবার নিজের ফেক নিউজ বানায়। ঘরের ভিতরে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় যেনো মনে হয় পূর্ব জার্মানী এখনও আছে।।
নোংরা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মানুষের আবেগগুলো নষ্ট করে দেয়। মা ও সন্তানের ভালোবাসার কাছে বার্লিন রাজনীতির আবেগ হেরে গেলো। দুই জার্মানী এক হলো কিন্তু পূর্ব জার্মানিতে বেড়ে উঠা মিসেস ক্যারোস্টিয়ান কার্নার পারবেন কি পুরনো মধুর স্মৃতি ভুলে যেতে? মৃত্যুর আগেও হয়ত মনে রেখেছেন। কিছু কিছু সাজানো মিথ্যা অনেক সময় জীবনে বেঁচে থাকা ও হাসির জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠে।।
সিনেমার শেষে দেখা যায় মিঃ আলেক্সে তার বাবার কথা মায়ের কাছে থেকে জনাতে পারে যেটা তাদের মা গোপন রেখেছিলো। মা যেমন সন্তানদের ভালোর জন্য তাদের বাবার ব্যাপারটা গোপন রেখেছিলো ঠিক তেমনি মিঃ আলেক্স মায়ের ভালোর জন্য বার্লিন ওয়ালের ব্যাপারটা গোপন রেখেছিলো। দুটো মিথ্যা আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে কাটাকাটি হয়ে সত্য উম্মোচন হয়।।
মিসেস ক্যারোস্টিয়ান মারা যান কিন্তু জীবিত হয়ে আছে পূর্ব জার্মানীর অনেক ভালোবাসার স্মৃতি।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!