প্রথম পাতাসিনেম্যাটিকদ্যা হোয়াইট রিবন (২০০৯)

সিনেম্যাটিক

দ্যা হোয়াইট রিবন (২০০৯)

দ্যা হোয়াইট রিবন  (২০০৯)

Movie name : The White Ribbon (2009)

Country: Germany 

বিজ্ঞাপন

গভীর দর্শন ভিত্তিক ড্রামা সিনেমা যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে উগ্র মস্তিষ্কের আধিপত্য ও কোমল মস্তিষ্কের উপর চাপা কষ্ট চাপা চাপি করে চাপিয়ে দেওয়া। বেড়েছে সামাজিক অবক্ষয়। ছোট ছোট শিশু আসলে কি প্রত্যাশা করে? বেশি কড়া শাসন শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নামক নির্যাতন আসলেই কি তার প্রাপ্য অধিকার নাকি আদর ভালবাসা মুখ ফুটে হাসি এগুলো দরকার আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আগে জার্মানীর একটি গ্রামের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। 


শিশুদের নেতিবাচক মানসিক অবস্থা বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এটা শিশুতোষ কোন সিনেমা নয়, এটা মূলত জার্মানীর সেই গ্রামের কিছু মানুষদের নেতিবাচক চারিত্রিক দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো প্রাধান্য পেয়েছে। ভয়ভীতি, অহংকার ও একচেটিয়া কর্তিত্বগুলো মানুষের মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের উপর খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে।।


একজনের শৈশব যতটা কঠোর হবে প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পর তখন হিংস্র ও কঠোর মানুষে পরিণত হবে। জন্মান্ধ কেউ হিংস্র বা উগ্র হয় না।


 আজকে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ যে আচরণ আমাদের সাথে করবে এটা তার শৈশবের আয়নার প্রতিফলন। শৈশবে যত কঠোর আচরণ পাবে বড় হয়ে সে নিজেও অন্যের সাথে কঠোর আচরণ করবে। এছাড়া শৈশবের হিংস্রতা, মানসিক কষ্ট ও শাসন ছোট ছোট বাচ্চাদের মধ্যে চাপা অপরাধ প্রবণতা তৈরি করে।। 


গ্রামের অন্যতম ফ্যামিলি হলো যাজক ফ্যামিলি। তারা যাজক পরিবার তাই ধর্মীয় নিয়ম মেনে সন্তাদের চলতে হয় আর ভুল করলেই হাতে সাদা ফিতা বেঁধে দেওয়া হয় যেই ফিতা পবিত্রতা ও পরাধীনতার প্রতীক। মুক্ত মনের চর্চা হয় না। সন্তানদের উপর মিলিটারী শাসন বলতে গেলে প্রয়োগ করে থাকেন। এই ফ্যমিলি প্রধান সমাজে নৈতিক দায়িত্বে রয়েছেন কিন্তু নৈতিকতার পিছনে শুধুই অন্ধকার।।


ব্যারন ফ্যামিলি হলো জমিদার পরিবার। তাদের ভালোই আধিপত্য আছে। একটু ভাবে নিয়ে চলেন আর নিজেদের উচ্চ জাত ভাবেন।। 


ডাক্তার পরিবারের অবস্থা আরো ভালো না। মানসিক অবস্থা এতই খারাপ যে পাগল ডাক্তার নিজের মেয়েকে হেনস্থা করে। সন্তানদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।।


গ্রামের সহজ সরল ও চালক মানুষগুলো সব জেনেও নীরবতাকে বেছে নেয়।।


কৃষক পরিবার অনেকটা অসহায়। একজন কৃষকের স্ত্রী মারা যায়। ব্যারনের কারখানায় কাজ করতো। কৃষকের সন্তানদের মনে প্রতিহিংসা বিশেষ করে ব্যারনদের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা কাজ করে।।


সিনেমার লোকেশন ছিলো জার্মানীর একটি সবুজে ঘেরা গ্রাম। গল্প ও ডিরেকশন ভালো ছিলো। সাদা কালো ফ্রেমে নির্মিত কারণ জীবনটাই তো সাদা কালো।


গ্রামের মানুষদের জীবন ও সংস্কৃতি দেখানো হয়েছে। প্রতিটা পরিবারে নির্দিষ্ট আবেগহীন সিস্টেম প্রচলিত আছে। কেউ মন খুলে হাসতে পারে না কিন্তু মন খুলে কষ্ট ও অভিমানগুলো মস্তিষ্কে জমা রাখতে পারে।।


গ্রামে হুট করেই কেনো যেনো অদ্ভুত চিন্তাধারা পরিবর্তন হলো। একের পর এক দুর্ঘটনা বা ক্রাইম হচ্ছে। ডাক্তার ঘোড়া থেকে পড়ে আহত হয়। একটা বাচ্চাকে মারধর করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে নির্যাতন করা হয় যদিও এই বাচ্চার জন্ম নিয়ে গ্রামের মধ্যে কত কুট কথা প্রচলিত আছে। একজনের খামারে আগুন লেগে সব পুড়ে যায়। এই সব ঘটনার পিছনে কে সেটা পুলিশ তদন্ত করছে কিন্তু কেউ ধরা পড়ছে না।।


কিছু কিছু মানুষ উগ্র ও মন্দ হওয়ার পিছনে গ্রামের কিছু পরিবারের অতিরঞ্জিত সিস্টেম যথেষ্ট। নতুন শিশু কিশোর আগামী দিনের ভবিষ্যত তাই তাদের প্রতি আচরণের ধরন বলে দিবে তারা ভবিষ্যতে কি হবে। হিটলারের হবে নাকি নেলসন ম্যান্ডেলা হবে। ?


ঐ অপরাধগুলোর কোন কুল কিনারাই হয় না। কে বা করা অপরাধ করেছে ডিরেক্টর সেটা ক্লিয়ার করেন নি মানে অভিযুক্ত ধরা পরেনি। যেখানে প্রতিনিয়ত বিশেষ করে শিশু কিশোরদের অন্তরে রক্তক্ষরণ হয় সেখানে এই সমস্ত অপরাধ খুবই সামান্য।।


এদিকে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হয়েছে। জার্মানী রাশিয়া আক্রমণ করেছে কিন্তু গ্রামের শিশু কিশোর অনেক আগেই অন্তর থেকে তাদের পরিবার ও সমাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে এবং করে যাবে।।


০ মন্তব্য · ৪১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!