Movie name : Who Am I (2014)
Country : Germany
ইন্টারনেট সিস্টেম ও হ্যাকিং নিয়ে দুর্দান্ত জার্মান ক্রাইম থ্রিলার সিনেমা উপভোগ করলাম। জার্মানীতে ভালোই থ্রিলার সিনেমা নির্মাণ করা হয়। ইন্টারনেট সিস্টেম হ্যাকিং ও মাইন্ড হ্যাকিং কন্সেপ্ট সিনেমাটিকে উপভোগ করার মত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। কয়েকটি দুর্দান্ত হ্যাকার গ্রুপের মধ্যে হ্যাকিং প্রতিযোগিতা,দ্বন্দ বিরোধ এবং কিছু সাইবার অপরাধ প্রবণতা এই জার্মান সিনেমায় থ্রিলিং এর মাধ্যমে প্রেজেন্ট করা হয়েছে।।
হ্যাকিং ও ম্যাজিক দুটোর কন্সেপ্ট অনেকটা সেইম, সেটা হলো পাবলিককে ধোঁকা দেওয়া। হ্যাকিং এক ধরনের ম্যাজিক। তাই ম্যাজিকের খেলা চলছে।বড় বড় সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইট হ্যাক করা অতটা সহজ না। সেগুলো হ্যাক করতে হলে হার্ডওয়ার, সফটওয়ার , ইন্টারনেট সিস্টেম ও হ্যাকিং এ দক্ষ হতে হয়। সব কিছু করে যেতে হবে নিজেকে লুকিয়ে।কৌশলী মুখোশধারী হতে হবে।।
হ্যাকিং আপনি দক্ষ, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী ওয়েবসাইট হ্যাক করতে পারেন কিন্তু যদি আপনাকে মানুষের মাইন্ড হ্যাক করতে বলা হয় তখন আপনি পারবেন? মাইন্ড হ্যাক মানে নিজেকে না চেনা, অন্যেরা আপনাকে চিনবে না, আপনি আসলে কে? আপনি এমনভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করবেন যেনো মানুষ আপনাকে ভাববে তাদের নিজেদের মত করে, কিন্তু আপনি সেটা না। মুখের মধ্যে অদৃশ্য মুখোশ থাকবে। হ্যাক যারা করে তারা দৃশ্যমান মুখোশ পরে কিন্তু যারা মানুষের চিন্তাচেতনা ও আইডিয়াকে হ্যাক করে ধারণা বদলে দেয় তারা অদৃশ্য মুখোশ পরে।।
সিনেমার অন্যতম চরিত্র বেঞ্জামিন এবং একজন বড় হ্যাকার। তাকে কেন্দ্র করেই সিনেমার মূল ঘটনা গুলো ঘটতে থাকে। সাইবার পুলিশের কাছে ধরা খায় আর হাকিং এর সমস্ত ঘটনা বলতে থাকে। পুলিশের কাছে সব কিছু বলে দেওয়া ছিলো বেঞ্জামিনের একধরনের আত্ম কৌশল। এতদিন ঘরে বসে হ্যাকিং করেছে আর এখন জেলখানায় বসে পুলিশদের মাইন্ড কন্ট্রোল ও হ্যাক করেছে মানে যা বলবে তাই বিশ্বাস করতে বাধ্য।।
সিনেমার টার্নিং পয়েন্টে ও টুইস্ট এই জেলখানার ভিতরেই সৃষ্টি হয়। অনেক সময় দুর্বলতা কৌশলের হাতিয়ার হয়ে উঠে। দুই হাত দিয়ে হ্যাক করলেও জেলের ভিতরে জবানবন্দি দেওয়ার সময় দুই চোখ মাইন্ড গেমস খেলেছে। বেঞ্জামিনের লক্ষ্য নিজেকে লুকানো, অজানা গল্প তৈরি করা আর নিজেকে রহস্যের লেভেলে নিয়ে যাওয়া মানে বস হয়ে যাওয়া।।
Clay group : বেঞ্জামিন পরিচালনা করে। তার সাথে তিন আছে পল, স্টিফেন, ম্যাক্স। যদিও পুলিশের ধারণা বেঞ্জামিন একাই সব করে বাকি তিনজন ছিলো তার মনের কল্পনা থেকে সৃষ্ট বা তার চিন্তার অংশ। শেষে টুইস্ট আছে। বেঞ্জামনের ট্রমা আছে। নিজের অন্তরটা একা কিন্তু কল্পনায় ও বাস্তবে হিরো হতে চায়।।
MRX বেশ অহংকারী এক ছেলে। কেউ তাকে চিনে না জানে না কিন্তু তার হ্যাকিং বেশ ভয়ংকর।
FR13NDS রাশিয়ান হ্যাকার। বড় ধরনের ক্রাইমে জড়িত। Clay গ্রুপের সাথে ঝামেলা হয়।
Clay group এর বেঞ্জামিন চেহারা ধরে ফেলে MRX। বেঞ্জামিনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় কিন্তু খুব কৌশলে নিজেকে ছড়িয়ে নেয়। শেষে একজনকে ধরা খাইয়েও দেয়। দেখার মতন সিনেমা।
বেঞ্জামিন তার মাইন্ড হ্যাক দিয়ে নিজেকে জয় করেছে।নিজেকে প্রশ্ন করেছে সে আসলে কে?? মনে রাখা উচিত দুর্বলতাকে অনেক সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। চোখের এক্সপ্রেশন হলো শক্তিশালী বাস্তব নেটওয়ার্ক যেটা চোখ টু চোখ কথা বলে। হ্যাকিং ধোঁকা দেয় সাময়িক ভাবে কিন্তু মন ধোঁকা দেয় অসীম সময়ের জন্য।।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!